Home জাতীয়
Category:

জাতীয়

ঢাকা: আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

মঙ্গলবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সামনে রেখে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

এনআইডি পাওয়া জন্য মানুষের উৎসাহ আছে,  কিন্তু ভোটের মাঠে কেন মানুষ যায় না— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আমাদের দায়িত্ব ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। আমাদের কর্মীরা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে মাঠে যাবে। আপনি যেই প্রশ্নটা করেছেন, সেই প্রশ্নের কোনো মন্তব্যই আমি করব না।

ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে যে আলোচনা হচ্ছে সেটি নিয়ে কী করবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সেটি নিয়ে পত্রিকায় আসছে এবং আমাদের বক্তব্যগুলো আপনাদেরকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব আমাদের। হয়তো আপনারা বলতে পারেন যে, প্রধানমন্ত্রী একটি বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জন থেকে বক্তব্য আসতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নাকি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেছেন বিষয়টি এখনও স্পষ্ট না। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলা, বিএনপির প্রধান বলা, জাসদের আবদুর রব বলা এগুলো ভিন্ন জিনিস।

সিইসি বলেন, সব থেকে বড় কথা যেটি স্পষ্ট করে বলতে চাচ্ছি, অনেকে ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন, সদিচ্ছা ব্যক্ত করতে পারেন আর ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আমরা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। ইতোমধ্যে আমরা নিজেরা অনেকগুলো সভা করেছি, আগামীতে আরও সভা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে আমাদের। ভোট স্বাধীনভাবে আমরা পরিচালনা করব যতদূর সম্ভব। এটা আমাদের এখতিয়ারভূক্ত, ভোটের পদ্ধতিও আমাদের এখতিয়ারভূক্ত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত আমাদের ওপরই থাকবে। মতামত আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। আপনিও মতামত দিতে পারেন, রাস্তায় কেউ মতামত দিতে পারেন, রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিতে পারবেন। আল্টিমেটলি আমরা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব ভোট কোন পদ্ধতি ও কেমন হবে। সেটি আমাদের বিষয়। এই বিষয়ে আমরা স্বাধীন।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সব আসনে ইভিএমে ভোট করার মত এখন আমাদের সামর্থ্য নেই। ৩০০ আসনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা এখনও নেইনি। ভোট ব্যালটে হবে না ইভিএমে, কতটি আসনে ইভিএমে হবে এই বিষয়ে কমিশন এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের শুদ্ধ ও সিদ্ধভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, শুদ্ধ ও সঠিক ভোটার তালিকা ছাড়া প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যুগান্তর

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকাঃ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ চায় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হোক। বিএনপির জন্ম পেছনের দরজা দিয়ে, তারপরও আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।

রোববার দুপুরে রাজধানীতে সিরডাপ মিলনায়তনে মা দিবস উপলক্ষে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আয়োজিত ‘গরবিনী মা’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় আওয়ামী লীগের গতকালের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবেই দলের সম্মেলন হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন উপকমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এবং তিনি বলেছেন, আমরা বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের জন্য বিএনপির দাবির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকারের কোনো সম্ভাবনা নেই। পৃথিবীর গণতান্ত্রিক দেশ ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ কন্টিনেন্টাল ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকান, সবখানে নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করে।

তাছাড়া, নির্বাচন কখনো সরকারের অধীনে হয় না, নির্বাচন কমিশনের অধীনে হয় এবং নির্বাচনকালে সরকারের সবার চাকরি নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যাস্ত হয়। সুতরাং বিএনপিকে আসলে নির্বাচন ভীতি পেয়ে বসেছে। এই ভীতির ফলে তারা যে কেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করলো না, সেটিই অনেকের প্রশ্ন। এসময় রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-আরএসএফের প্রতিবেদনে মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানের নিচে দেখানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, এটি একটি বিদ্বেষমূলক প্রতিবেদন। আফগানিস্তানে যেখানে টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনের কারণে নারী সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়, যেখানে সাংবাদিকরা কোনভাবেই কাজ করতে পারে না, সেই আফগানিস্তানের নিচে বাংলাদেশের অবস্থান দেওয়ার মাধ্যমে আরএসএফ নিজেরাই প্রমাণ করেছে যে, তারা বিদ্বেষপ্রসূত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক রেলপথের ঘটনায় ‘রেলমন্ত্রী কথিত আত্মীয়দের চেনেন না’ এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, আমি মনে করি না যে মন্ত্রী মিথ্যা বলেছেন

আমার স্ত্রীর আত্মীয় সবাইকে আমি চিনি না, আমরা কেউই সব আত্মীয়কে চিনি না। পাশাপাশি আমি এটাও মনে করি যে, মন্ত্রী মহোদয়ের স্ত্রীর নির্দেশে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন নয়। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আশীষ কুমার চক্রবর্তীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত দশজন মায়ের সন্তানেরা বক্তব্য রাখেন।

 

গরবিনী মা হিসেবে নাদেরা বেগম, সাজেদা খাতুন, তাসকিনা ফারুক, জ্যোৎস্না রানী ধর, লুৎফা বেগম, আখতারা খানম, ঝর্ণা ঘোষ, সুরাইয়া চৌধুরী, শারমিন আকতার ও প্রতিমা রানী দাশের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়েদের প্রতি এবং বাবাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একজন মা যেভাবে সন্তানকে মানুষ করার জন্য যে কষ্ট করে, সেটা অন্য কেউ করে না। মায়ের ভালোবাসার সাথে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। একটি আলোকিত জাতি গঠন করতে আলোকিত মা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের সরকার মা-বাবার ভরণপোষণের জন্য বিশেষ আইন করেছে। মা-বাবার ভরণপোষণ যদি না করা হয়, তাহলে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন করা হয়েছে। সে আইনের সুযোগ নিয়ে মামলাও করেছে অনেকে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই এটি হয়েছে। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ঈদের আগের দিন তেলেসমাতি দেখায় সয়াবিন। হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় বাজার থেকে। কারা এই কাণ্ডে জড়িত আর তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে এ নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা। এরই মধ্যে গতকাল দিনের শেষ দিকে এসে বড় খবর দিলো বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর মিল মালিকদের ওই সংগঠন জানায়, বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা করা হয়েছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম হবে ৯৮৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৮০ টাকা, যা এতদিন ১৪০ টাকা ছিল। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পরিশোধিত পাম সুপার তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১৭২ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৩০ টাকা।
এর আগেও কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ মূল্যের কারণে অনেকে সয়াবিন তেলের ব্যবহারও কমিয়ে দেন। খুবই অল্প পরিমাণ সয়াবিন তেল কেনার ছবিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে

গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৭ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৪৩ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে মিল মালিকরা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গেলেও সরকার সায় দেয়নি। মার্চের মাঝামাঝিতে তেলের আমদানি, পরিশোধন ও বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের পর লিটারে ৭ টাকা করে দাম কমানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে এপ্রিল ও মে মাসে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিতে থাকেন মিল মালিকরা। ডিলার ও পাইকারি বিক্রেতারাও তেলের মজুত শুরু করেন। এসব ঘটনা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়ে।
ঈদের আগে তেলেসমাতি
ঈদের আগের দিন বাজারে ভোজ্য তেল কিনতে গিয়েছিলেন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান। বাজারে গিয়ে দেখেন কোনো দোকানেই তেল নেই। শুধু একটি দোকানে একটি মাত্র কোম্পানির তেল পান। কিন্তু দাম চাওয়া হয় ২২০ টাকা লিটার। এত দাম কেন- জিজ্ঞেস করলে দোকানদার জানান ‘এমনিতেই তেল নেই, এই দামে নিলে নেন না নিলে চলে যান।’ পরে বাধ্য হয়ে ২২০ টাকায় এক লিটার তেল কিনেন তিনি। ঈদের বিভিন্ন রান্না-বান্নায় তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল আবার বাজারে আসেন তেল কিনতে। কিন্তু কয়েকটি দোকান ঘুরেও তেল পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি দোকানে এক লিটারের বোতল পান। কিন্তু দাম নেয়া হচ্ছে ২২০ টাকা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামেই এক লিটার তেল কিনেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জানান, শুধু বসুন্ধরা ও তীর কোম্পানির অল্প কিছু তেল দুই একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় সবাই এক লিটার করে কিনছেন। ঈদের আগেও এই পরিস্থিতি ছিল। ভেবেছিলাম ঈদের পর কমবে। কিন্তু এখনো দেখছি বাজারে তেল নেই।
শুধু মিরপুর নয়, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশেই তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেয়া হয়। ঈদের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীদের এই কারসাজি শুরু হয়। তবে ঈদের পরেও থেমে নেই তারা। এখনো সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন অসাধুরা। অথচ রমজান মাসে তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। তবে এ দামে মিল মালিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করা হয়েছে। বেশির ভাগ কোম্পানিগুলো কোনো তেলই সরবরাহ করেনি। এই সুযোগে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলে তেলের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।
সরজমিন রাজধানীর কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে অনেক ক্রেতারাই ভিড় করছেন তেলের জন্য। কৌশলে প্রথমে দোকানদার তেল নেই বললেও পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করেন কয় লিটার লাগবে? অল্প কিছু তেল আছে, দাম পড়বে ২২০ টাকা লিটার। যারা এই দামে নিতে রাজি হচ্ছেন তাদেরকেই শুধু দোকানে লুকিয়ে রাখা তেল বের করে বিক্রি করছেন।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। কিছু দোকানে আগের কিছু তেল রয়েছে। তবে বোতলের গায়ে দেয়া মূল্য ঘষে তুলে ফেলে দাম নেয়া হচ্ছে ২২০ টাকা লিটার। রাজধানীর ইব্রাহিমপুর বাজারের তেল বিক্রেতারা জানান, রোজার শুরু থেকেই চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না তারা। পাঁচ লিটার তেলের বোতল পাওয়া যায় না। এক ও দুই লিটার অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগেই তেল শেষ হয়ে গেছে। কোনো কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। অর্ডার করলে ডিলাররা দেয় না। আগের কিছু ছিল সেগুলোই বিক্রি করছি। তবে দাম বেশি কেন জিজ্ঞেস করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি কেউ।
তবে এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, সরকারের নির্ধারিত দামেই আমরা চাহিদা অনুযায়ী মিল থেকে ভোজ্য তেল সরবরাহ করছি। কোনো সংকট নেই। বিশ্ব বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। তাই আমাদের এখানেও বাড়বে এমন ভাবনায় ডিলার ও খুচরা দোকানিরা তেল বিক্রি না করে মজুত করছেন। পরে বেশি দামে বিক্রি করবেন এই আশায় আছেন তারা। এজন্যই তারা তেলের সরবরাহের সংকট আছে বলে অজুহাত দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক থাকলে তেলের এ সংকট দেখা দিতো না। প্রতিটি মার্কেটে ডিস্ট্রিবিউটর দিয়ে রেখেছে, তারা কি চাহিদা অনুযায়ী তেল পেয়েছে? তাহলে কীভাবে তারা দাবি করছে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক আছে? মিলগুলো অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেরা ভালো থাকতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, তেলের মূল সমস্যা হলো, সরকার রমজান মাসে ১৬০ টাকা লিটার দাম বেঁধে দিয়েছিল। এ দামে মিল মালিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা আরও বেশি দামে তেল বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার রোজায় তা করতে দেয়নি। তাই তারা সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করেছে। এখন বিভিন্ন পক্ষের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। সরকার যদি ওই সময় তেলের দাম বাড়িয়ে দিতো তাহলে দাম বেশি হলেও এই সংকট তৈরি হতো না।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশির ভাগ ভোজ্য তেল বাল্ক আকারে বিক্রি হয়। কিন্তু অধিকাংশ মিল বাল্কে তেল বিক্রি করেনি। ঢাকায় বাল্কে তেল বিক্রি করেছে তিনটি মিল। এর মধ্যে সিটি, মেঘনা, টি কে গ্রুপ আর চট্টগ্রামে সাপ্লাই দিয়েছে এস আলম আর সিটি গ্রুপ। অন্য যেসব ভোজ্য তেলের প্রতিষ্ঠান আছে যেমন, রূপচাঁদা ও বসুন্ধরাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, তারা তেল সরবরাহ করেনি। আর যারা দিয়েছে তারা সর্বনিম্ন সরবরাহ করেছে। এ কারণে বাজারে তেলের সংকট হয়েছে। মিলেও তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, মিলগু?লো সরবরাহ ঠিক রাখলেও ডিলার, পাইকার ও খুচরা দোকা?নিরা চাহিদা অনুযায়ী তেল বিক্রি করছেন না। তারা মজুত করে বাজা?রে সংকট সৃষ্টি করছেন। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কোনাপাড়া এলাকার একটি বাসায় ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ মা-বাবার পর শিশুকন্যা ফাতেমা আক্তারও (২) মারা গেছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

এ নিয়ে পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হলো।

বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. আইয়ুব হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়া এলাকা থেকে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়ে দগ্ধ মা-বাবার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ফাতেমা আজ সকাল ৭টার দিকে মারা যায়। তার শরীর ৩৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

গতকাল নিহত শিশুর মা ও বাবা দুই ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যান। এ নিয়ে তিনজনই মারা গেল।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোঃ বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। নয়া দিগন্ত

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

সিলেট ও ময়মনসিংহ ছাড়া ঢাকাসহ যেসব এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও আকাশ মেঘলা হলে ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও হতে পারে। তবে এতে কমবে না ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি। বরং আগামী কয়েকদিন এই আবহাওয়াই বিরাজ করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহী ও ঈশ্বরদিতে; ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এছাড়া ঢাকায় ৩৬, ময়মনসিংহ ৩৪, চট্টগ্রামে ৩৩ দশমিক ৭, সিলেটে ৩৩ দশমিক ৫, রংপুরে ৩৪ দশমিক ৮, খুলনায় ৩৯ দশমিক ৩ এবং বরিশালে ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

তাপপ্রবাহের বিষয়ে বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, যশোর এবং চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, দিনাজপুর ও রাঙামাটি অঞ্চলসহ ঢাকা বিভাগ এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুএক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। ফলে আগামী দুই থেকে তিনদিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান কভিড-১৯ মহামারী থেকে পুনরুদ্ধার ও পূনর্গঠন উদ্যোগ ‘বিল্ড ব্যাক বেটারের’ জন্য একটি উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় অববাহিকাভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা করার জন্য আমাদের অবশ্যই ভালো অনুশীলন, জ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বিত শক্তির বিনিময় ঘটাতে হবে এবং আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় অববাহিকাভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহসহ আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

জাপানের কুমামোটো শহরে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য পানি-সর্বোত্তম ব্যবহার এবং পরবর্তী প্রজন্ম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী পানি সম্মেলনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বারোপ করেন।

পানিকে জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন এবং শান্তির সংস্কৃতির প্রচারের জন্য এটি মৌলিক।’ চলমান কভিড-১৯ মহামারি থেকে ‘ভালোভাবে পুনরুদ্ধারের’ জন্য আমাদের সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসডিজিতে পানি সম্পর্কিত বিষয়সহ পানির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো পূরণ করার জন্য তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঋণী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যুবকদের অবশ্যই ক্ষমতায়িত করতে হবে যাতে তারা দক্ষ ও টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক পানি ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিতে পারে।’

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি পানি সংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘ উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য ছিলেন। তখন ‘কল টু অ্যাকসন’ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
আগামী বছরে ওয়াটার অ্যাকসন দশকের মধ্য-মেয়াদি পর্যালোচনা আমাদের অ্যাকসন এজেন্ডা বাস্তবায়নে একটি প্লাটফরম প্রদান করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘কুমামোটো ঘোষণা সেই প্রক্রিয়ায় একটি কার্যকর অবদান রাখবে।’

এই লক্ষ্যে বাংলাদেশে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, তার সরকার পানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমগ্র সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। দেশের ৮৫ শতাংশর বেশি মানুষের নিরাপদ পানীয় জল এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে।

সূত্র : বাসস

 

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কালবৈশাখী ঝড়ে ২১ জন যাত্রীসহ একটি স্পিডবোট ডুবে গেছে। এরমধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

বুধবার (২০ এপ্রিল) সকালে ৮টার দিকে কুমিরার গুপ্তছড়া ও মাইটভাঙা ঘাটের মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গুপ্তছড়া ঘাটের ইজারাদার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি স্পিডবোট ডুবে যায়। বোটে ২০ জন যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, একজন ছিল মৃত। এছাড়া আরও এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

মানচিত্র থেকে হারাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

ঢাকা: কুড়িগ্রামে কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। এ সময় ছয়টি বাড়ি ভেঙেছে। হুমকিতে রয়েছে আরো ৭০-৮০টি বাড়ি। অসময়ে তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার ৩টি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে আগ্রাসী তিস্তা নদী। প্রায় ৪০ কিলোমিটারব্যাপী এই নদীটির ভাঙন কবলিত বাম তীরে মাত্র ৫ কিলোমিটার জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাকি ৩৫ কিলোমিটার উন্মুক্ত নদীর অনেক জায়গায় চলছে এখন ভাঙন। গত তিন দিনে বৃষ্টির ফলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিঘার পর বিঘা বোরো ধান, ফলদ ও কাঠের গাছসহ ভেঙে যাচ্ছে বিল্ডিং বাড়ি। এখন হুমকিতে রয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার।

গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার ভয়াবহ আগ্রাসনে রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা, মন্দির, ডাংরারহাট, রামহরি, পাড়ামৌলা ও গাবুর হালান গ্রামের একাংশ নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আরো গ্রামের পর গ্রাম। বসতভিটা ও জমি হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে বুক ফাঁটা কান্নায় ভারি হয়ে আসছে এখানকার আকাশ-বাতাস। নদী ভাঙনের হুমকিতে থাকা মানুষ এখন জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘরিয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াসাম মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত শরাফত মাস্টারের ছেলে মোস্তাক আহমেদ (৫৬) হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘গতবার নদী বাড়িভিটা সউগ (সব) খায়া (খেয়ে) গেইল (ফেলছে)। হালের গরু বিক্রি করি নতুন বাড়ি করনু (করছি)। এবারো ভাঙবের নাগছে (লাগছে)। কামলা দিয়া খাং। এই বাড়ী গেইলে (গেলে) করিম কি। মোর পকেটোত বিষ খাওয়ার মত টেকা নাই।’

ঘরিয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াসাম এলাকার সাবেক মেম্বার শহিদুল ইসলাম জানান, বর্ষা আসার আগেই হঠাৎ করে ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, গাছপালাসহ আধাপাকা বোরো ধান ক্ষেত। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৮টি মসজিদ ও একটি মাদরাসাসহ শত শত বিঘা আবাদী জমি।

তিনি বলেন, বর্তমানে এই ইউনিয়নে গতিয়াসাম, রামহরি, কালিরহাট ও মেদনীপুর গ্রামে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। তারা বলছে, এই মুহূর্তে তাদের কাছে কোনো বাজেট নেই।

রাজারহাট উপজেলার ঘরিয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল কুদ্দুছ প্রামাণিক জানান, আমার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড চরম হুমকিতে রয়েছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গিয়েছি। তাদের কোনো বাজেট নেই বলে তারা জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ আমাদের ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোকে বাঁচান। না হলে আমরা বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হঠাৎ বৃষ্টির ফলে তিস্তায় অরক্ষিত এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। সমীক্ষা প্রকল্প অনুমোদন করা হলেও এখনো প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সূত্র : ইউএনবি

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল রোববার থেকে ১৪৪৩ হিজরি সনের রমজান মাস শুরু হবে। শনিবার রাতে তারাবিহ’র নামাজ আদায় ও শেষ রাতে সেহেরি খেয়ে রোববার প্রথম দিনের রোজা পালন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। ওদিকে শনিবার থেকেই মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমজান শুরু হয়েছে। গত বছর করোনার কারণে দেশের মসজিদগুলোতে সর্বোচ্চ ২০ জন তারাবিহ’র নামাজে অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে এবার আর কোনো ধরণের বিধি নিষেধ নেই।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে দিনের প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। প্রথমে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। এরপর জাতির সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে।
পরে দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এদিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে সই করেন প্রেসিডেন্ট। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরাও স্মৃতিসৌধে ছিলেন।
ভোরে বীর শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাধারণ মানুষের জন্য স্মৃতিসৌধ খুলে দেয়া হয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল- দীর্ঘ ৯ মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে দামাল বাঙালি এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতার যুদ্ধ। এর আগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মূলত স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সর্বকালের সেরা এই ভাষণ এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail