Home অর্থনীতি
Category:

অর্থনীতি

ঢাকা: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাংলাদেশ যেভাবে ঋণ চেয়েছিল সেভাবেই পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বলেছেন, আমরা যেভাবে ঋণ চেয়েছিলাম ঠিক সেভাবেই পেতে যাচ্ছি। আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই ঋণের বিষয়ে সব প্রক্রিয়া শেষ হবে।

আজ বুধবার আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।  অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার চেয়েছি সেটা মোট ৭ কিস্তিতে পাওয়া যাবে।

সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ও বাজেট সহায়তার জন্য দেড় বিলিয়ন করে ৩ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে। বাকি দেড় বিলিয়ন চাওয়া হয়েছে আইএমএফের নতুন উদ্যোগ, সহনশীলতা ও টেকসই সহায়তা তহবিল (ট্রাস্ট) থেকে।

এই ঋণের জন্য আইএমএফ বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। আইএমএফ যেসব সংস্কার কার্যক্রমকে প্রাধান্য দেওয়ার সুপারিশ করেছে সেগুলো হলো, করপোরেট সুশাসন আরও বলিষ্ঠ করা, বর্তমান অবকাঠামোর ওপর তদারকি আরও কঠোর করা ও এর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, ঋণদাতাদের অধিকার প্রয়োগের জন্য আরও বলিষ্ঠ সহযোগিতা ও ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের জন্য প্রণোদনা নিশ্চিতের জন্য আইনি ব্যবস্থার যথোপযুক্ত সংস্কার।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক অনেক টানা-হেঁচড়ার পর শেষ পর্যন্ত ৪৪০০ কোটি ডলারে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি টুইটার কিনে নিলেন।

মালিকানা পাওয়ার পর মি মাস্ক টুইট করেন “দি বার্ড ইজ ফ্রি (পাখি এখন মুক্ত)।” টুইটারের প্রতীক একটি পাখি।

কোম্পানির মালিকানা হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি টুইটারের ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধান নির্বাহী পরাগ আগরওয়াল এবং ঊর্ধ্বতন বেশ কজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

ইলন মাস্ক নিজেই এখন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পদটি নেবেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে।

মার্কিন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, টুইটারের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নেড সেগাল এবং আইন ও নীতি বিষয়ক প্রধান বিজয়া গাডডেও বিদায় নিয়েছেন।

রয়টর্স বার্তা সংস্থা খবর দিয়েছে, মি. আগরওয়াল এবং আরও দুজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিরাপত্তা রক্ষী দিয়ে সানফ্রানসিসকোতে টুইটারের সদর দপ্তরের অফিস ভবনের বাইরে বের করে দেয়া হয়।

ওদিকে, নভেম্বর মাস থেকে যিনি টুইটারের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন, সেই ব্রেট টেইলর তার লিংকডইন প্রোফাইল আপডেটে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি আর টুইটারের ঐ পদে নেই।

টুইটার কেনার আগে মাসের পর মাস ধরে আইনি টানা-হেঁচড়া চলেছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, ইলন মাস্ক অত্যন্ত প্রভাবশালী এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মকে কিভাবে চালাবেন।

মি. মাস্ক, যিনি “শতভাগ বাক স্বাধীনতার” সমর্থক বলে নিজেকে তুলে ধরেন, টুইটারের ব্যবস্থাপনা এবং মডারেশন বা মিতাচার নীতির সমালোচক ছিলেন।

ক্রয়ের শর্ত নিয়েও সাবেক মালিক পক্ষের সাথে ইলন মাস্কের অনেক বিরোধ হয়েছে। তার অভিযোগ ছিল টুইটারের ব্যবহারকারীর প্রকৃত সংখ্যা তাকে দেওয়া হয়নি।

তিনি এও বলেছেন অনেক যেসব ব্যবহারকারীকে টুইটার নিষিদ্ধ করেছে তাদেরকে তিনি ফিরিয়ে আনবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাকে ২০২১ সালে জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার পর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তিনিও টুইটারে ফিরে আসতে পারেন। মি. মাস্ক মনে করেন মি. ট্রাম্পকে এভাবে নিষিদ্ধ করা “বোকামি” হয়েছে।

কিছু কিছু মিডিয়া রিপোর্টে বলা হচ্ছে, শুধু সিনিয়র নির্বাহীরাই নয়, টুইটার থেকে প্রচুর কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। এমনও গুজব উঠেছে ৭৫ শতাংশ কর্মীরই চাকরি চলে যেতে পারে।

তবে টুইটার এবং ইলন মাস্কের আরেক কোম্পানি টেসলার একজন বড় মাপের শেয়ারহোল্ডার বিবিসিকে বলেছেন টুইটারে প্রচুর মেধাবী কর্মী রয়েছে যাদেরকে বের করে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার (৪.৫ বিলিয়ন ডলার) ঋণ দেয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দল ঢাকায় এসেছে। বুধবার থেকে আগামী ৯ই নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে তারা। আইএমএফের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রধান রাহুল আনন্দ দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ ঋণ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল আইএমএফের কাছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বার্ষিক সভায় ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার এক ফাঁকে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন দল আইএমএফের সঙ্গে এক দফা আলোচনাও করে।

আইএমএফ ২১শে অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তাদের এবারের ঢাকায় আসা মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার ও নীতি নিয়ে আলোচনা করা। সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কর্মকর্তা পর্যায়ে চুক্তির অগ্রগতির জন্য আলোচনা করা। আলোচনা হবে আইএমএফের বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিলসহায়তা (ইএফএফ) কর্মসূচি এবং নতুন উদ্যোগ, সহনশীলতা ও টেকসই–সহায়তা তহবিল (আরএসটিএফ) কর্মসূচি থেকে এ ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে।

আরএসটিএফ ঋণের অধীনে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোকে অর্থায়ন করা হয়। আইএমএফের কাছে ঋণের জন্য চাওয়া চিঠিতে এই আরএসটিএফের কথাও উল্লেখ করেছিল বাংলাদেশ।

এক দশক আগে আইএমএফের ইসিএফ থেকে ৭ কিস্তিতে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর এবারই সংস্থাটি থেকে ঋণ নেয়ার আলোচনা হবে।

আইএমএফের কাছে পাঠানো চিঠিতে ঋণ পাওয়ার পক্ষে বাংলাদেশ সার্বিক অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের দল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সঙ্গে নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবে। এরপর একে একে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের আরও কিছু দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে দলটি। আগামী ৮ বা ৯ই নভেম্বর দলটির শেষ বৈঠক হবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে।

বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন, রাজস্ব সংগ্রহ কার্যক্রমকে গতিশীল করা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, আয়কর আইন ও শুল্ক আইন প্রণয়ন, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও খেলাপি ঋণ কমানো, ভর্তুকি ও প্রণোদনা কমানো, রিজার্ভ গণনার পদ্ধতি ঠিক করাসহ নানা বিষয় থাকবে আইএমএফের আলোচনার মধ্যে।

জানা গেছে, ৪৫০ কোটি ডলারের মধ্যে লেনদেনের ভারসাম্য বাবদ ১৫০ কোটি ডলার ও বাজেট–সহায়তা বাবদ ১৫০ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে। বাকি ১৫০ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে আইএমএফের আরএসটিএফ থেকে। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: রাশেদুল হাসান: বাংলা ট্রিবিউন:: মেট্রোরেলের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যাত্রীদের কাছ  থেকে পাওয়া ভাড়া দিয়ে মেটানো যাবে না। তাই ভাড়ার বাইরে অন্যান্য খাত থেকে আয়ের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের আওতাভুক্ত জায়গা বাণিজ্যিক স্পেস হিসেবে ভাড়া বা ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

ডিএমটিসিএল-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেলের স্টেশন এলাকায় নির্মিত স্থায়ী ও অস্থায়ী অবকাঠামো, যেমন- রিটেইল শপ, স্টল/ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, মিনি শপ/ফাস্টফুড শপ, কফি শপ, ফুডকোর্ট, মানি এক্সচেঞ্জ , এটিএম বুথ, ভেন্ডিং মেশিন, কিয়স্ক (Kiosk)/, রিলাক্সেশন বুথ, কার বুকিং বুথ ইত্যাদি স্থাপনের জন্য জায়গা ভাড়া দেওয়া হবে।

অন্যান্য খাতের মধ্যে কনফারেন্স/সেমিনার রুম ঘণ্টা/দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া, প্যারাপেট ওয়াল (দৈর্ঘ্য-প্রস্থের ভিত্তিতে ভাড়া/ইজারা প্রদান করা যাবে; পিয়ারসমূহ  গুচ্ছভিত্তিক ভাড়া/ইজারা, ট্রেনের অভ্যন্তরের স্পেস বিজ্ঞাপনের জন্য পৃথকভাবে ভাড়া/ইজারা দেওয়া হবে।

এছাড়া বিজ্ঞাপন, নাটক, সিনেমা, প্রামাণ্যচিত্র ইত্যাদির শুটিং, কার পার্কিং, স্বল্প সময়ের কোনও ক্যাম্পিং বা প্রচারণা, প্রদর্শনীর মতো অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে। এজন্য ডিএমটিসিএল একটি খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করেছে। সেখানে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন শর্ত।

নীতিমালা অনুযায়ী, মেট্রোরেলের জায়গা বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার জন্য একটি  কমিটি থাকবে। এই কমিটি  লে-আউট প্ল্যান অনুসরণে ভাড়া/ইজারার জন্য ক্যাটাগরিভিত্তিক স্থান নির্ধারণ; এলাকার বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বাণিজ্যিক স্পেসের ভিত্তিমূল্য প্রাক্কলন;  ভাড়া/ইজারা দেওয়ার জন্য আহ্বানকৃত দরপত্র/দর/আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই ও নির্বাচনের জন্য সুপারিশ করা; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভাড়া/ইজারা গ্রহীতার ভাড়া/ইজারা নবায়ন ও বাতিলের সুপারিশ করবে।

এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জায়গা ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অবাধ প্রতিযোগিতার নীতি অনুসরণ করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে ভাড়া/ইজারা দিতে হবে। তবে স্বল্পমেয়াদি ভাড়া ইজারার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারবে।

প্রাথমিকভাবে ভাড়া/ইজারার মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হবে। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে শর্ত সাপেক্ষে এক বা একাধিক মেয়াদের জন্য চুক্তি নবায়ন করা যাবে। ভাড়া/ইজারা গ্রহণের দ্বিতীয় বছর থেকে প্রতি বছর ভাড়া/ইজারার মূল্য পূর্ববর্তী বছরের ভাড়া/ইজারা মূল্যের ওপর ন্যূনতম ৫ শতাংশ অথবা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত হারে বৃদ্ধি পাবে। এক বা একাধিক স্টেশনের বাণিজ্যিক স্পেস উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে একক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ভাড়া/ইজারা দেওয়া যাবে।

ইজারা গ্রহীতা নিয়োজিত কর্মচারীদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা উল্লেখসহ পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত, জাতীয় পরিচয়পত্র ভাড়া/ইজারা গ্রহীতাকে সংরক্ষণ করতে হবে। এসব কাগজের একটি কপি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। পুলিশ ভ্যারিফিকেশন সম্পাদন ও সন্তোষজনক প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ পরিচয়পত্র দেবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া/ইজারা মূল্যসহ পুরো টাকা পরিশোধ করে ভাড়া/ইজারা গ্রহীতাকে চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে তার জমা করা আর্নেস্ট মানি/জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। উভয়পক্ষই তিন মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে ভাড়া/ইজারা বাতিল করতে পারবে।

মেট্রো স্টেশন ও স্থাপনাসমূহ কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) এলাকা। তাই কর্তৃপক্ষ এর নিরাপত্তার স্বার্থে কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে কোনও কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনও ভাড়া/ইজারা গ্রহীতার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বা ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার নোটিশে বাতিল করতে পারবে। মেট্রো স্টেশন বা মেট্রোরেল লাইনের সুষ্ঠু অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ৩০  দিনের নোটিশে যেকোনও ভাড়া/ইজারা বাতিল করতে পারবে।

কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক, নিরাপত্তাজনিত কারণে অথবা কোনও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণে অথবা জনস্বার্থে বা জরুরি যেকোনও প্রয়োজনে ভাড়া/ইজারা চুক্তি বাতিল করলে ভাড়া/ইজারা গ্রহীতাকে বাকি সময়ের জন্য আনুপাতিক হারে ভাড়া/ইজারা মূল্য ফেরত দিতে পারবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ইলেকট্রিক্যাল লোড নিরাপদ সীমায় রাখার উদ্দেশ্যে ভাড়া/ইজারা গ্রহীতা ভাড়া/ইজারাস্থলে যেকোনও বৈদ্যুতিক, যোগাযোগ ও কম্পিউটার সরঞ্জাম/যন্ত্রপাতি সংস্থাপনের আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এ কারণে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে বা ডিএমটিসিএল-এর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি হলে বা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কর্তৃপক্ষ ভাড়া/ইজারা গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভাড়া/ইজারা গ্রহীতাকে ভাড়া/ইজারা স্থলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নিজ খরচে সংযোজন করতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, স্টেশনের রিটেইল ফ্লোর/লেভেল অথবা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত অন্য যেকোনও স্পেস/এলাকা ব্যতীত অন্যান্য রিটেইল এরিয়া ভাড়া/ ইজারা গ্রহীতা তৃতীয় কোনও পক্ষকে ভাড়া/সাব-লেট দিতে পারবে না। যে ব্যবসার জন্য ভাড়া/ইজারা দেওয়া হবে সে ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনও ব্যবসার জন্য বা আবাসিক উদ্দেশ্যে বা অন্য কোনও বেআইনি বা অনৈতিক কাজে এই জায়গা ব্যবহার করা যাবে না। রিটেইল স্পেস ভাড়া/ইজারা গ্রহীতা তার ব্যবসা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন বা দোকানের সাইনবোর্ড ছাড়া অন্য কোনও বিজ্ঞাপন বা সাইনবোর্ড ভাড়া/ইজারা স্থানে প্রদর্শন করতে পারবে না।

এছাড়াও জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, পরিবেশ নীতিমালা ও প্রযোজ্য অন্যান্য সরকারি নীতিমালা অনুসরণে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে। বিজ্ঞাপনে অশালীন বা দৃষ্টিকটু, সরকারি নীতির পরিপন্থী বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কিছু প্রদর্শন করা যাবে না। বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ভাষা, ছবি, ডে ইত্যাদির দায়-দায়িত্ব ভাড়া/ ইজারা গ্রহীতার ওপর বর্তাবে।

এ বিষয়ে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএনএন ছিদ্দিক বলেন, ‘ভাড়া থেকে মেট্রোরেলের ৭০ ভাগ ব্যয় মেটানো যাবে। বাকি ৩০ ভাগ ভাড়াবহির্ভূত আয় থেকে মেটাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু বাণিজ্যিক জায়গা সব মেট্রোরেলেই থাকে। স্টেশনের ভেতর ছোট ছোট দুটি রুম আছে। আপনি যখন লিফটে উঠবেন, সমানে একটা বিজ্ঞাপন দিলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে। এরকম বিষয়টা। আমাদের বাণিজ্যিক জায়গায় রান্নাবান্না করা যাবে না। এখন শুধু ক্যারিড ফুড (অন্য জায়গায় রান্না করে আনা খাবার) বিক্রি হবে।’

এমএনএন ছিদ্দিক জানান, খসড়া নীতিমালায় যে শর্তগুলো দেওয়া আছে তার ওপর জনমত নিয়ে তারপরে চূড়ান্ত করা হবে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: চাল, গম, আটা, ময়দা ও তেলসহ ৯টি নিত্যপণ্যের মূল্য এখন থেকে সরকার নির্ধারণ করে দেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আর নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে কোনও পণ্য বিক্রি হলে সংশ্লিষ্টদের আর জরিমানা নয়, এখন থেকে সরাসরি মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সকালে মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এর আগে বাজারে পণ্যের সরবরাহ, মজুত ও আমদানি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি।

সাধারণত এ ধরনের বৈঠকে গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত থাকেন। তবে আজকের এ বৈঠকে কোনও গণমাধ্যমকর্মীকেও ডাকা হয়নি। বৈঠকের পরে এ নিয়ে কোনও ব্রিফিংয়েরও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে পরে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধে ব্রিফিং করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এসময় বাণিজ্য সচিব, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান, ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতিও উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বৈঠকে চাল, গম, আটা, ময়দা, তেল, পরিশোধিত চিনি, ডাল, সিমেন্ট ও রড; এই ৯টি পণ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন থেকে এসব পণ্যের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেবে। মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি দেখভালের জন্য বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজারে পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের বিষয়টি তদারকি করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। বাংলা ট্রিবিউন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন ১৬৭টি চা বাগানের শ্রমিকরা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন শুরু করেন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ১৬৭টি চা বাগানের শ্রমিকরা। অনেক বাগানের শ্রমিকরা চা বাগান ছেড়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এসময় বাগান মালিকদের দুদিনের আলটিমেটাম দেন তারা। আগামী রোববার ও সোমবার সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দুদিনের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির দাবি না মানলে মঙ্গলবার থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাবেন তারা। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন। শনিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা চায়ের পাতা উত্তোলন ও চা ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ না দিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ফ্যাক্টরি এলাকায় তাদের দাবি আদায়ের লক্ষে অবস্থান নেন। দুপুর ১২ টার দিকে বিভিন্ন বাগান থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনায় জড়ো হন। এসময় তারা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করে। সমাবেশে চা শ্রমিকরা জানান, সাপ্তাহিক ছুটি রোববার ও শোক দিবসের ছুটি আগামী ২দিন।

ওই ২দিনের মধ্যে ৩শ টাকা মজুরি দাবি না মানলে মঙ্গলবার থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করবেন তারা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পংকজ পন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা সহ বিভিন্ন ভ্যালি থেকে আসা চা শ্রমিক নেতারা।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, বর্তমান সময়ে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে চা-শ্রমিকরা দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে অতি কষ্টে দিনযাপন করছেন। প্রতিটি পরিবারে খরচ বেড়েছে। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক সময়ে বাগান মালিকদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে। প্রতি বছর মজুরি বাড়ানোর কথা থাকলেও গত ৩ বছর ধরে নানা টালবাহানা করে মজুরি বাড়ানো হচ্ছে না। এতে করে চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

ওদিকে স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, টানা চারদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পরও দাবি আদায় না হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা। সকালে দেউন্ডি, চান্দপুর, চন্ডি ও লস্করপুর চা বাগানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শ্রমিকরা। ন্যায্য মজুরির দাবিতে দেশের সকল চা বাগানে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করছেন চা শ্রমিকরা। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জের ২৪টি চা বাগানে লাগাতার ধর্মঘট পালন করছেন শ্রমিকরা।

হবিগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানে বিক্ষোভ সমাবশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন রায়, দেউন্ডি চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি প্রবীর ব্যুনার্জী, সাধারণ সম্পাদক আপন বাগতি। সকাল থেকে হবিগঞ্জের ২৪টি বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন। পরে মিছিল নিয়ে চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করে।
চা শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে তাদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা। দ্রব্যমুল্য উর্ধ্বগতির কারণে এই টাকায় তাদের চলতে কষ্ট হচ্ছে। তাই তারা ৩০০ টাকা মজুরি দাবি করছেন। তাদের দাবি মানা না হলে তারা কাজে ফিরবেন না। প্রয়োজনে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তিনি। সমাবেশে চা শ্রমিক নেতারা বলেন বর্তমানে দ্রব্যমূল্য, যাতায়াত ভাড়াসহ সবকিছুর মূল্য আকাশচুম্বি। তাই পূর্বের ১শ’ ২ টাকা মজুরিতে আমাদের সংসার সংসার চলে না। তাই মজুরি অন্তত ৩শ’ টাকা করার আগ পর্যন্ত চা বাগানের সকল কাজকর্ম বন্ধ থাকবে।

এদিকে ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে শনিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রামের ২৩টি বাগানের শ্রমিকরা। তাদের দাবি, প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। অথচ বাংলাদেশের চা শ্রমিককরা ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু চুক্তির ১৯ মাস অতিবাহিত হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেনি মালিক পক্ষ। তাই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবি না মানা হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনাক্রমে আন্দোলন আরো কঠোর করা করার হুমকি দেন চা শ্রমিকরা।
রামগড় চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মদন রাজগর বলেন, ‘বাংলাদেশে চা শ্রমিকদের একটা বিশাল অংশ রয়েছে। এ দেশের ভোটার হয়েও তারা অবহেলিত। মৌলিক অধিকারও তাদের ভাগ্যে জুটে না। এছাড়া রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ১২০ টাকা মজুরি পায়। এভাবে আর আমরা চলতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানোর সাধ্য হচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের যেভাবে দাম বেড়েছে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেশ কিছুদিন ধরেই কমছে। সোমবার টাকার মান আরও কিছুটা কমেছে।

এদিন আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর আরও ২৫ পয়সা বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৯৫ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো এই দরে ডলার কিনেছে।

এর আগে রোববার (৭ আগস্ট) ডলারের দর ছিল ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে আরও ২৫ পয়সা দর হারিয়েছে টাকা।

এদিকে খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি ১১৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার দুপুরের দিকে এই উচ্চ দরে লেনদেন হয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই খোলাবাজারে ডলারের দর উঠেছিল ১১২ টাকা।

সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরে কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলার রেকর্ড ১১৫ টাকা ৬০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। তারপরও চাহিদা অনুযায়ী ডলার মিলছে না। দেশে মুদ্রাবাজারের ইতিহাসে এক দিনে ডলারের বিপরীতে টাকার মানের এতটা অবমূল্যায়ন হয়নি। এর আগে ২৭ জুলাই খোলাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১১২ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যাংকগুলোতে এখন আমদানির জন্য ১০০ টাকার নিচে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০৭ থেকে ১০৯ টাকায় ডলার কিনে আমদানি দায় মেটাতে হচ্ছে। রেমিট্যান্সের জন্যও ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা দরে ডলার কিনতে হচ্ছে।

দেশে খোলাবাজারে প্রথমবারের মতো ডলার ১০০ টাকার ঘর পেরিয়ে যায় গত ১৭ মে। এরপর আবার কমে আসে। পরে গত ১৭ জুলাই ফের ১০০ টাকা অতিক্রম করে। গত মাসের শেষ দিক নগদ ডলার ১১২ টাকায় উঠেছিল। যুগান্তর

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখা ‘কঠিন হয়ে পড়েছে’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশীয় পণ্যের দাম যেমন বেড়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি যে সমস্ত পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে, তারও দাম বেড়েছে যাচ্ছে। সব কিছুর দাম এমনভাবে বেড়ে গেছে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালিয়ে রাখা… আমাদের নিজস্ব যতটুকু গ্যাস আছে, তা ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখাটাই একটা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে গেছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। সেই বিষয়টাও আপনাদের আমি জানাতে চাই।

বুধবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’, ‘শেখ জামাল ডরমিটরি’ এবং ‘রোজী জামাল ডরমিটরি’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়ছে। ভোজ্য ও জ্বালানি তেল ছাড়াও বিদ্যুৎ, সার, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। ডিজেলের ওপর আমাদের আমদানি নির্ভরতা রয়েছে। আগামী দিনে ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ভবিষ্যত ফাইন্যান্সিয়াল মেকানিজম কী হবে, এটার উত্তর কেউ দিতে পারছে না।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতি একটা বিশ্ব সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইউরোপের রাশিয়ার ওপর দেওয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার ফলাফলটা এমন দাঁড়িয়েছে, এখন তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে, ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এলএনজির দাম বেড়ে যাচ্ছে।

আমদানি করা গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রাখার জন্য সরকারকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে, সেটা কতক্ষণ দিতে পারবে। কারণ, আমাদের মানুষের খাদ্য দিতে হবে, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, গৃহহীনদের ঘর দিতে হবে… প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।

এ সংকট সামাল দিতে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন একটাই উপায়, ইতোমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি, প্রত্যেক এলাকাভিত্তিক কখন, কোন এলাকায় কত ঘণ্টা লোড শেডিং হবে, এটার একটা রুটিন তৈরি করে সেভাবেই লোড শেডিং। যেন মানুষ সেই সময়টায় প্রস্তুত থাকতে পারে। মানুষের কষ্টটা যেন আমরা লাঘব করতে পারি। সেই বিষয়টাই এখন আমাদের নজরে নিতে হবে। আমি আশা করি দেশবাসী অন্তত এই ব্যাপারে আমাদের সাথে সহযোগিতা করবেন। যুগান্তর

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: গত বছরের তুলনায় এবার কুরবানির পশুর চামড়ার দাম কিছুটা বৃদ্ধি করে মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার।  এ বছর রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৪৭ থেকে ৫২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

আর খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভা শেষে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গত বছর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ১৫ থেকে ১৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

দেশে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ১২ টাকা বেড়েছে। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সিলিন্ডারের এই নতুন দাম নির্ধারণ করে দেয়।

আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নির্ধারিত নতুন দাম কার্যকর হবে। দাম বাড়ানোর ফলে এখন প্রতি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ২৫৪ টাকা। এর আগে তা ছিল ১ হাজার ২৪২ টাকা।

তবে সরকারি পর্যায়ে সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য পরিবর্তন হয়নি, তাই সেটি আগের মতো ৫৯১ টাকাই রয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৫৭ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫৮ টাকা ৪৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে সৌদি আরামকো কম্পানির প্রপেন ও বিউটেনের দামের সাথে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।

গত ১২ এপ্রিল দেশে প্রথম বারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তার পর থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫০ টাকা কমিয়ে এলপিজির দাম ১ হাজার ১৭৮ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসে ৬২ টাকা দাম বাড়ানো হয়। মার্চ মাসে তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এপ্রিল মাসে আরো ৪৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৯ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। মে মাসে তা ১০৪ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা করা হয়। (২ জুন) ১২ কেজির প্রতিটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৩ টাকা কমানো হয়। ফলে প্রতি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ২৪২ টাকা।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail