Home অর্থনীতি
Category:

অর্থনীতি

ঢাকা: ঈদের আগের দিন তেলেসমাতি দেখায় সয়াবিন। হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় বাজার থেকে। কারা এই কাণ্ডে জড়িত আর তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে এ নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা। এরই মধ্যে গতকাল দিনের শেষ দিকে এসে বড় খবর দিলো বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর মিল মালিকদের ওই সংগঠন জানায়, বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা করা হয়েছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম হবে ৯৮৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৮০ টাকা, যা এতদিন ১৪০ টাকা ছিল। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পরিশোধিত পাম সুপার তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১৭২ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৩০ টাকা।
এর আগেও কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ মূল্যের কারণে অনেকে সয়াবিন তেলের ব্যবহারও কমিয়ে দেন। খুবই অল্প পরিমাণ সয়াবিন তেল কেনার ছবিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে

গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৭ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৪৩ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে মিল মালিকরা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গেলেও সরকার সায় দেয়নি। মার্চের মাঝামাঝিতে তেলের আমদানি, পরিশোধন ও বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের পর লিটারে ৭ টাকা করে দাম কমানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে এপ্রিল ও মে মাসে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিতে থাকেন মিল মালিকরা। ডিলার ও পাইকারি বিক্রেতারাও তেলের মজুত শুরু করেন। এসব ঘটনা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়ে।
ঈদের আগে তেলেসমাতি
ঈদের আগের দিন বাজারে ভোজ্য তেল কিনতে গিয়েছিলেন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান। বাজারে গিয়ে দেখেন কোনো দোকানেই তেল নেই। শুধু একটি দোকানে একটি মাত্র কোম্পানির তেল পান। কিন্তু দাম চাওয়া হয় ২২০ টাকা লিটার। এত দাম কেন- জিজ্ঞেস করলে দোকানদার জানান ‘এমনিতেই তেল নেই, এই দামে নিলে নেন না নিলে চলে যান।’ পরে বাধ্য হয়ে ২২০ টাকায় এক লিটার তেল কিনেন তিনি। ঈদের বিভিন্ন রান্না-বান্নায় তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল আবার বাজারে আসেন তেল কিনতে। কিন্তু কয়েকটি দোকান ঘুরেও তেল পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি দোকানে এক লিটারের বোতল পান। কিন্তু দাম নেয়া হচ্ছে ২২০ টাকা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামেই এক লিটার তেল কিনেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জানান, শুধু বসুন্ধরা ও তীর কোম্পানির অল্প কিছু তেল দুই একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় সবাই এক লিটার করে কিনছেন। ঈদের আগেও এই পরিস্থিতি ছিল। ভেবেছিলাম ঈদের পর কমবে। কিন্তু এখনো দেখছি বাজারে তেল নেই।
শুধু মিরপুর নয়, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশেই তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেয়া হয়। ঈদের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীদের এই কারসাজি শুরু হয়। তবে ঈদের পরেও থেমে নেই তারা। এখনো সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন অসাধুরা। অথচ রমজান মাসে তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। তবে এ দামে মিল মালিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করা হয়েছে। বেশির ভাগ কোম্পানিগুলো কোনো তেলই সরবরাহ করেনি। এই সুযোগে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলে তেলের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।
সরজমিন রাজধানীর কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে অনেক ক্রেতারাই ভিড় করছেন তেলের জন্য। কৌশলে প্রথমে দোকানদার তেল নেই বললেও পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করেন কয় লিটার লাগবে? অল্প কিছু তেল আছে, দাম পড়বে ২২০ টাকা লিটার। যারা এই দামে নিতে রাজি হচ্ছেন তাদেরকেই শুধু দোকানে লুকিয়ে রাখা তেল বের করে বিক্রি করছেন।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। কিছু দোকানে আগের কিছু তেল রয়েছে। তবে বোতলের গায়ে দেয়া মূল্য ঘষে তুলে ফেলে দাম নেয়া হচ্ছে ২২০ টাকা লিটার। রাজধানীর ইব্রাহিমপুর বাজারের তেল বিক্রেতারা জানান, রোজার শুরু থেকেই চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না তারা। পাঁচ লিটার তেলের বোতল পাওয়া যায় না। এক ও দুই লিটার অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগেই তেল শেষ হয়ে গেছে। কোনো কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। অর্ডার করলে ডিলাররা দেয় না। আগের কিছু ছিল সেগুলোই বিক্রি করছি। তবে দাম বেশি কেন জিজ্ঞেস করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি কেউ।
তবে এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, সরকারের নির্ধারিত দামেই আমরা চাহিদা অনুযায়ী মিল থেকে ভোজ্য তেল সরবরাহ করছি। কোনো সংকট নেই। বিশ্ব বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। তাই আমাদের এখানেও বাড়বে এমন ভাবনায় ডিলার ও খুচরা দোকানিরা তেল বিক্রি না করে মজুত করছেন। পরে বেশি দামে বিক্রি করবেন এই আশায় আছেন তারা। এজন্যই তারা তেলের সরবরাহের সংকট আছে বলে অজুহাত দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক থাকলে তেলের এ সংকট দেখা দিতো না। প্রতিটি মার্কেটে ডিস্ট্রিবিউটর দিয়ে রেখেছে, তারা কি চাহিদা অনুযায়ী তেল পেয়েছে? তাহলে কীভাবে তারা দাবি করছে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক আছে? মিলগুলো অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেরা ভালো থাকতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, তেলের মূল সমস্যা হলো, সরকার রমজান মাসে ১৬০ টাকা লিটার দাম বেঁধে দিয়েছিল। এ দামে মিল মালিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা আরও বেশি দামে তেল বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার রোজায় তা করতে দেয়নি। তাই তারা সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করেছে। এখন বিভিন্ন পক্ষের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। সরকার যদি ওই সময় তেলের দাম বাড়িয়ে দিতো তাহলে দাম বেশি হলেও এই সংকট তৈরি হতো না।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশির ভাগ ভোজ্য তেল বাল্ক আকারে বিক্রি হয়। কিন্তু অধিকাংশ মিল বাল্কে তেল বিক্রি করেনি। ঢাকায় বাল্কে তেল বিক্রি করেছে তিনটি মিল। এর মধ্যে সিটি, মেঘনা, টি কে গ্রুপ আর চট্টগ্রামে সাপ্লাই দিয়েছে এস আলম আর সিটি গ্রুপ। অন্য যেসব ভোজ্য তেলের প্রতিষ্ঠান আছে যেমন, রূপচাঁদা ও বসুন্ধরাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, তারা তেল সরবরাহ করেনি। আর যারা দিয়েছে তারা সর্বনিম্ন সরবরাহ করেছে। এ কারণে বাজারে তেলের সংকট হয়েছে। মিলেও তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, মিলগু?লো সরবরাহ ঠিক রাখলেও ডিলার, পাইকার ও খুচরা দোকা?নিরা চাহিদা অনুযায়ী তেল বিক্রি করছেন না। তারা মজুত করে বাজা?রে সংকট সৃষ্টি করছেন। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একটি হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে হু হু করে পানি ঢুকছে। উপজেলা প্রশাসন বলছেন অধিকাংশ ধানই ইতোমধ্যে কৃষকরা তুলে ফেলতে পেরেছেন।

জেলার নদ নদী ও অন্য হাওরের পানি বৃদ্ধির মধ্যেই বাঁধটি ভেঙ্গে গেলো অথচ এ বাঁধটি এবার বোরো মৌসুমে সংস্কার করা হয়েছিলো। বাংলাদেশে বোরো মৌসুম শুরু হয় বাংলা কার্তিক ও ইংরেজি অক্টোবর নভেম্বর মাসে।

শাল্লার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তালেব বলছেন উপজেলার বাহারা ইউনিয়নে বাঁধের যে অংশ নিয়ে তারা চিন্তিত ছিলেন সেখানে না ভেঙ্গে একটি ভালো অংশে ভেঙ্গে গেছে।

“গতকাল তিন ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাত হয়েছে। সে সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে। লোকজন ছিলো না, ফলে কেন ভালো জায়গাটায় ভেঙ্গে গেলো বুঝতে পারছি না,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন বাঁধ ভাঙ্গলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই কারণ এ হাওর এলাকায় থাকা জমির ৯৫ ভাগ ধান ইতোমধ্যেই কৃষকরা তুলে ফেলেছেন।

জানা গেছে এ হাওর এলাকায় মোট ৪ হাজার ৬৩৭ একর জমিতে ধান ছিলো যার মধ্যে ৪ হাজার ৪০৫ একর জমির ধান তুলে ফেলেছে কৃষকরা।

আর কী পরিমাণ পানির নিচে আছে সেটি জানতে এখন জেলা কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি অফিসের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম।

তবে এই হাওরের বাঁধ ভাঙ্গলেও জেলার অন্য কোন হাওর এলাকার জমির ক্ষতির কোন আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

“আমরা বিকেল নাগাদ বুঝতে পারবো কতটা ধান এখনো পানির নীচে আছে। আর এ পানির ঢল নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি হয়ে কিশোরগঞ্জের দিকে চলে যাবে। এখানকার আর কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না,” বলছিলেন তিনি।

ফসল কাটার বার্তা ছিলো আগেই

মূলত ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার কারণে চলতি মাসের শুরুতেই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিলো যে পানির ঢল বাংলাদেশের হাওর এলাকায় আসতে শুরু করবে।

এই বার্তা পেয়ে কৃষকদের সব পাকা ফসল দ্রুত তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ এবং একই সাথে আগের দফার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন যে দেশে ৯৫টি হাওর আছে এবং এর মধ্যে ৪৩টি হাওরের বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

এর আগে মার্চ মাসেই সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বেশ কিছু হাওর এলাকা তলিয়ে গিয়েছিলো বন্যার পানিতে।

হাওর এলাকার একটি অংশ।

ওই ঢলে প্রায় ৪হাজার ৩শ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। দেশে হাওর এলাকার প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার একর জমিতে এবার ধানের চাষ হয়েছে।

তবে নতুন করে পূর্বাভাস পেয়ে কিছু এলাকায় মানুষজন নিজ উদ্যোগে বাঁধ ঠিক করার চেষ্টা করছে এমন খবরও এসেছে গণমাধ্যমে।

এর মধ্যে বেশ কিছু বাঁধের পানির অবস্থান বিপজ্জনক অবস্থায় ছিলো এবং কোথায় কোথায় অল্প অল্প করে পানি ভেতরে প্রবেশ করছিলো।

এর মধ্যেই অনেক জায়গায় বাঁধ সংস্কারের কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে শাল্লায় যেখানে বাঁধ ভেঙ্গেছে সেখানে বাঁধ ভাঙ্গতে পারে এমন ধারণাই কারও ছিলো না। বিবিসি বাংলা

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকাঃ খাদ্য, তেল ও বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকটের প্রতিবাদে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের বাসভবনের ব্যাপক বিক্ষোভের পর কারফিউ জারি করেছে দেশটির পুলিশ।

বিক্ষোভকালে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে।

প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এ ঘটনাকে ‘চরমপন্থীদের কাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

শ্রীলঙ্কায় এখন বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকট চলছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে।

দিনে তের ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ না থাকা, তেল, খাদ্য পণ্য ও ঔষধ সংকটের কারণে দেশটিতে জন অসন্তোষ চরমে উঠেছে।

তবে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনের প্রতিবাদ কর্মসূচিটি শুরুতে শান্তিপূর্ণই ছিল বলে বিক্ষোভকারীরা বলেছেন।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জল কামান নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিচার্জ শুরু করলে সেটি সহিংসতায় রূপ নেয়।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে।

শুক্রবার সকালেও পুলিশ ৪৫ জনকে আটক করেছে।

এ বিক্ষোভকে একটি বড় ধরনের সরকার বিরোধী মনোভাবে বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও ২০১৯ সালে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মিস্টার রাজাপাকসে। তিনি তখন স্থিতিশীলতা ও দৃঢ়ভাবে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে সমালোচকরা এ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন।

কারণ প্রেসিডেন্টের ভাই ও ভাতিজারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আছেন। এটিকেই দেশটির বর্তমান অবস্থার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বলছেন অনেকে।

এখন খবর বেরিয়েছে যে দেশজুড়ে মানুষ বিদ্যুৎ না পেলেও প্রেসিডেন্ট আর তার মন্ত্রীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও সম্পদশালী, যা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সরকার অবশ্য বলছে যে করোনা মহামারির কারণে পর্যটন খাত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া ২০১৯ সালে চার্চগুলোতে সিরিজ হামলার ঘটনাও পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংকটের শুরু অনেক আগে থেকেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জায়াদেবা উয়ানগোদা বিবিসিকে বলেছেন যে কয়েক দশক ধরেই ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং কেউ এর দায় নেয়নি।

“তবে অবশ্যই বর্তমান সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অদক্ষতাই এর জন্য সরাসরি দায়ী,” বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ভিএ ভিজেওয়ার্দানা বলেছেন, ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর শ্রীলংকা কিছু মৌলিক ভুল করেছে।

“২০০০ সালে জিডিপির ৩৩ শতাংশ আসতো রপ্তানি থেকে। যেটা এখন বার শতাংশে নেমে এসেছে,” বলছিলেন তিনি।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কান রুপির অবনমন না করাতেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে যায়।

প্রচুর খাদ্যসামগ্রী আমদানি করতে হয় শ্রীলঙ্কাকে।
শ্রীলঙ্কাকে প্রচুর খাদ্যসামগ্রী আমদানি করতে হয়।

২০১৯ সালের শেষের দিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলারের মতো থাকলেও এখন তা দুই বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য আছে মাত্র তিনশ মিলিয়ন ডলার।

এমনকি আমদানিনির্ভর দেশটির জন্য এখন বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীল প্রবাহও নেই।

শ্রীলঙ্কার হাতে এখন আর তেলের মতো জরুরি দরকারি পণ্য কেনার মতো পর্যাপ্ত ডলার নেই।

এর ফলে আরো বেশি সময় ধরেই সেখানকার মানুষজনকে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। সামনের দিনগুলোতে এটি ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।

ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।

তেলের পাম্পগুলোতে লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। এমনকি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানের সামনেও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন।

গত সপ্তাহে এসব লাইনে দাঁড়িয়ে পাঁচ জন বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পাশাপাশি সারাদেশ থেকেই খাদ্য ও ঔষধ সংকটের খবর আসছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

নিউজপ্রিন্ট সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য আইল্যান্ড’ ও তার সহ–প্রতিষ্ঠান সিংহলিজ পত্রিকা ‘দিবায়িনা’ ছাপানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপালি নিউজপেপার লিমিটেড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা দুঃখের সঙ্গে আমাদের পাঠকদের জানাচ্ছি যে নিউজপ্রিন্ট সংকটের কারণে পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত দ্য আইল্যান্ডের ছাপা সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি।’

১৯৮১ সালের অক্টোবর থেকে ‘দ্য আইল্যান্ড’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে আসছে। এখন থেকে পত্রিকাটি ই-পেপার হিসেবে প্রকাশিত হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পর্যটন খাত ও প্রবাসী আয় ধাক্কা খাওয়ায় দেশটির ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এই মাসের শুরুর দিকে সরকার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি বিনিময়ের ক্ষেত্রে ভাসমান মুদ্রানীতি গ্রহণ করলে নিউজপ্রিন্ট আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়।
বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সংকটে শ্রীলঙ্কা মারাত্মক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি–সংকটে পড়েছে। আকস্মিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। জ্বালানি–সংকটের কারণে হাজারো মানুষ ফিলিং স্টেশনের সামনে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

মুদ্রা বিনিময় সংকটের কারণে আমদানি বিধিনিষেধ থাকায় সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা। পাশাপাশি ভারতেরও সহযোগিতা চেয়েছে দেশটি। প্রথম আলো

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ভোজ্যতেলের উৎপাদন, আমদানি ও ভোক্তা পর্যায়ে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ১০ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্তটি দিয়েছেন জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

টিপু মুনশি বলেন, সরকার ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখবে। এ জন্য সরকার কঠোর হবে। ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাধা ভাঙতে ডিও (অনানুষ্ঠানিকপত্র) ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে। সেটি হলে মালিকেরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ নিতে বাধ্য হবেন এবং পরে সরবরাহ করতেও বাধ্য হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

১৫ মার্চ মঙ্গলবার দেশে ভোক্তা অধিকার দিবস ২০২২ পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোজ্যতেল, চিনি ও ছোলার ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে অর্থমন্ত্রী যে ঘোষণা দেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কারণ, ছোলা আমদানিতে কোনো শুল্ককর আগে থেকেই ছিল না। আর চিনির ওপর নতুন করে কোনো ছাড় দেয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে।

অর্থমন্ত্রী সেদিন জানান, সয়াবিনের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ভোক্তাপর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, শুধু উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট তুলে নিলে তাদের ব্যয় আরো বাড়বে। কারণ, আমদানি পর্যায়ে যে ভ্যাট রয়েছে, সেটা দিতে হবে। পরে উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে রেয়াত নেয়ার সুযোগ থাকবে না।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: রাশিয়া বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো যদি রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে তারা ইউরোপে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভক সোমবার বলেছেন, এ ধরণের সিদ্ধান্ত সারা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। তখন তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা করার কারণে শাস্তি দেয়ার জন্য রাশিয়ান তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ধরনের পরিকল্পনা সোমবার প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস।

ইউরোপের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ গ্যাস আর ৩০ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে আসে। এই সরবরাহ বন্ধ হলে খুব সহজ কোন বিকল্পও নেই।

মি. নোভক বলেছেন, পাল্টা জবাব দেয়ার অধিকার রাশিয়ার আছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সামরিক হামলার ফলে সাত বছরেরও বেশি সময় পরে প্রথমবারের মতো তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ওদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে ট্রেড কমে গেছে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ। ইউক্রেন ইস্যুতে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় কয়েকদিন ধরে শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন শান্তিচুক্তি ভঙ্গ করে ইউক্রেনের রাশিয়াপন্থি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দোনেৎস্ক এবং লুহানস্কে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন।

এর ফলে তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল ৯৮ ডলার পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। সেই তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম এখন ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর ফলে তেলের সবরাহ বিঘ্নিত হবে, এই আশঙ্কায় সবাই ঝুঁকছেন তেলের দিকে। ফলে মূল্য স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে।

বিবিসির এশিয়া বিজনেস বিষয়ক প্রতিনিধি মারিকো ওই বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হয়ে গেছেন। কোন সম্পদ নিরাপদ তা বিবেচনা করছেন তারা। সেই অনুযায়ী কেনাবেচা চলছে। এক বছরের মধ্যে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। মার্কিন ডলার এবং জাপানি ইয়েনও শক্তিশালী হচ্ছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ফলে এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে তিন গুণ বেশি দামে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই গ্যাস আমদানিতে ব্যয় হবে এক হাজার সাত কোটি টাকা।

জানা গেছে, গেল জুন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলারের কাছাকাছি। এখন তাতে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ৩০ মার্কিন ডলার। এলএনজি আমদানির প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আজ রোববার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য কাতার গ্যাস ও ওমান ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের (ওকিউটি) সাথে দু’টি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কেনা হচ্ছে। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার লক্ষ্যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) প্রস্তুত করে আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং নেয়া হয় এবং সে এমএসপিএটি চূড়ান্তও করা হয়েছে। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পেট্রোবাংলা এমএসপিএ অনুস্বাক্ষরকারী ১৬টি প্রতিষ্ঠানের সাথে চূড়ান্ত করা এমএসপিএ স্বাক্ষর করা হয়।
সূত্র জানায়, দেশের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে স্পট মার্কেট থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২ কার্গো এলএনজি সংগ্রহের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নীতিগত অনুমোদন দেন।

সূত্র মতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্পট মার্কেট থেকে কমপক্ষে ১ (এক) কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা প্রয়োজন। চলতি মাসের ১৩ তারিখে আরপিজিসিএল থেকে এমএসপিএ স্বাক্ষরকারী ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০২২ সালের জন্য স্পট ভিত্তিতে ১ (এক) কার্গো এলএনজি সরবরাহের দরপ্রস্তাব আহ্বান করে ই-মেইল পাঠানো হয়। দরপত্র পাঠানোর শেষ সময় ছিল ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি।

সূত্র জানায়, এ সময়ের মধ্যে কম দরপ্রস্তাব দাখিলকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। কমিটি প্রাপ্ত দরপত্রগুলো কারিগরি ও আর্থিকভাবে মূল্যায়ন করে। এর পর সেই সুপারিশসংবলিত একটি প্রতিবেদন প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির (পিপিসি) কাছে দাখিল করে। ওই প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় তিন কোম্পানির মধ্যে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ২৯.৭৭০০ ডলার উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে। অন্য দু’টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিঙ্গাপুরের ভাইটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড ৩৪.৯৯২১ ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের এওটি ট্রেডিং এজি নন-রেসপন্সিভ হয়।

এ অবস্থায় প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির ২৪ জানুয়ারি তারিখের সভায় দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের প্রস্তাবিত একক দর (২৯.৭৭০০ ডলার/ এমএমবিটিইউ) গ্রহণ এবং ব্যয়িতব্য টাকায় ক্রয় প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানোর সুপারিশ করেছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, এই এলএনজি ক্রয়ে কোভিড-১৯-এর জন্য সরাসরি অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দরপ্রস্তাব গ্রহণ না করে এলএনজি স্পট পারচেজ (এলএসপি) সফটওয়্যারের মাধ্যমে দরপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে। ২০২২ সালে স্পট মার্কেট থেকে কার্গো গ্রহণের জন্য এর আগে এই সফটওয়্যারের প্রথম দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হয়। সেই প্রাপ্ত দরপ্রস্তাবগুলো কারিগরি ও আর্থিকভাবে নন-রেসপন্সিভ হওয়ায় ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য অনুমোদিত ১ (এক) কার্গো এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে স্পট মার্কেট থেকে কার্গো গ্রহণের জন্য ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ২১টি দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হয়। তার মধ্যে ১৬ কার্গো এলএনজি সংগ্রহের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেয়া হয়েছে। নয়া দিগন্ত

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

২০২১ সালে টি-টোয়েন্টিতে ২৯টি ম্যাচের ২৬ ইনিংসে ব্যাটিং করে ৭৩.৬৬ গড়ে এক সেঞ্চুরি ও ১২ হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন ১ হাজার ৩২৬ রান। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ছিলেন ধারাবাহিকতার মূর্ত প্রতীক। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে রিজওয়ানের ৫৫ বলে ৭৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলার পথে বিশ্বকাপে ভারতকে প্রথমবার হারিয়েছিল পাকিস্তান।

বিশ্বকাপে শুধু ব্যাট হাতে আলো ছড়াননি, অদম্য মানসিকতার পরিচয়ও দিয়েছিলেন রিজওয়ান। সেমিফাইনালের আগে বুকে ব্যথা নিয়ে ছিলেন হাসপাতালে ভর্তি। সেই অবস্থায় তিনি ডাক্তারকে জানিয়েছিলেন, ‘আমি সেমিফাইনাল খেলতে চাই।’ শেষ পর্যন্ত খেলেছেনও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে। দল জিততে না পারলেও রিজওয়ান করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি।

গত বছর রিজওয়ানের শুরুটাও ছিল দুর্দান্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে বছরের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। পরের ম্যাচে করেছিলেন ৫১। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছিলেন। বছরজুড়েই টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বোলারদের ঘাম ছুটিয়েছেন রিজওয়ান। এক পঞ্জিকাবর্ষে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান, হাফ সেঞ্চুরি, সবচেয়ে বেশি বল খেলা, বাউন্ডারি—সবকিছুতেই ছিলেন এক নম্বরে। দারুণ সব কীর্তি গড়ার পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়ে সেসবের স্বীকৃতি পেলেন রিজওয়ান।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail