বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নোভা কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস: পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ইউক্রেন-রাশিয়ার

তলিয়ে গেছে খেরসন

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় নোভা কাখোভকা বাঁধ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই বাঁধ ধসে পড়ায় ভয়াবহ বন্যাপরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ সেখান থেকে পালিয়েছে। 

মঙ্গলবার এই বাঁধধসের ঘটনায় কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে। খবর বিবিসির।

নোভা কাখোভা বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে প্রচুর পরিমাণে পানি প্রবেশ করছে ইউক্রেনের খেরসন রাজ্যে। পানি প্রবেশের গতি এত বেশি যে বাঁধের নিকটবর্তী বহু ঘর স্রোতে ভেসে গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ৮০ শহর ও গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হতে পারে। 

খেরসন অঞ্চলের নিপ্রো নদীতে নোভা কাখোভকা জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত। এই নদী রাশিয়া ও ইউক্রেনীয় বাহিনীকে আলাদা করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কাখোভকা বাঁধটি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে।

বাঁধটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে ইউক্রেন ও দেশটির পশ্চিমা মিত্ররা। এ ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলেও অভিহিত করেছে তারা। তবে রাশিয়া বলছে, পাল্টা হামলার ব্যর্থতা আড়াল করতে ইউক্রেন নাশকতা চালিয়ে বাঁধটি ধ্বংস করেছে। অবশ্য রাশিয়ার নিয়োগ করা কয়েকজন কর্মকর্তা বাঁধটি নিজ থেকে ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার জন্য কে দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি কোনো পক্ষ। জেনেভা কনভেনশনে সুস্পষ্টভাবে যুদ্ধের সময় এ ধরনের বাঁধে হামলা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সকালেই খেরসনের ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত অংশে নিপ্রো নদীর উপশাখার একটি জেটি পানিতে তলিয়ে যায়। ইতোমধ্যে নিপ্রো নদীর উভয় তীর প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওলেকসান্দার সিয়োমিক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পানির স্তর এক মিটার বেড়েছে। এর পর কী ঘটতে যাচ্ছে, আমরা নজর রাখছি। তবে ভালো কিছু যাতে হয়, সে আশা করছি।’

খেরসনে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকজান্দার প্রোকুদিন বলেছেন, বাঁধটি ধ্বংস হওয়ায় ওই অঞ্চলের আটটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানে আরও এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৬ হাজার মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

নোভা কাখোভকা বাঁধ থেকে রাশিয়ার দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপসহ ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তৃত কৃষি এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতল করতেও এ বাঁধের পানি ব্যবহার করা হয়।

ওই অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের বিশাল অংশ নিচু সমতল ভূমিতে হওয়ায় এমনিতে বন্যাপ্রবণ। বাঁধ ধ্বংসের ফলে রাশিয়ার দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় তীরের গ্রামগুলো বিশেষ করে বেশি ভুগবে।

এ ছাড়া বাঁধটি ধ্বংসের ফলে যুদ্ধাঞ্চলের কেন্দ্রে নতুন করে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধের অবস্থানেরও পরিবর্তন ঘটাবে। এমন সময় ঘটনাটি ঘটল, যখন নিজেদের ভূখণ্ড থেকে রুশ বাহিনীকে হটাতে বহুল প্রতীক্ষিত পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।

বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘রুশ সন্ত্রাসীরা! কাখোভকা জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের বাঁধ ধ্বংস পুরো বিশ্বের জন্য শুধু এটাই নিশ্চিত করে যে ইউক্রেনীয় ভূমির প্রতিটি প্রান্ত থেকে তাদের বিতাড়িত করতে হবে।’

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ এ ঘটনাকে ‘জঘন্য কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এটি ইউক্রেনীয় পক্ষের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাশকতার কথাই বলছি।’ পেসকভ বলেন, স্পষ্টতই নাশকতাটি এই বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত যে দুই দিন আগে বড় ধরনের হামলা শুরুর পর এখনো ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। তাদের এ হামলা হোঁচট খেয়েছে। যুগান্তর

আরো পড়ুন ...