সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

খেলাফত মজলিসের সংবাদ সম্মেলন: ১৪ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ

দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনসহ ৮ দফা দাবিতে আগামী ১৪ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করবে খেলাফত মজলিস। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, বর্তমানে দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিদেশী ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েই চলছে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের দমন-পীড়নে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হচ্ছে। হত্যা-নির্যাতন, জেল-জুলুম, হামলা-মামলার মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রিত বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। বহু আলেমকে গ্রেফতার করে মামলা দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত গণসমাবেশে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে ৮ দফা জাতীয় দাবী পেশ করা হয়। সেই দাবি বাস্তবায়নেই ১৪ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করা হবে বলে জানালেন ড. আহমদ আবদুল।

দলটির ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। নির্বাচনে সবার জন্যে সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখা। গ্রেফতারকৃত আলেমদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করা। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করা। পণ্যমূল্য কমিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব ও দুর্নীতি নির্মূল করা। বেকার সমস্যা সমাধান ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ দান করা। ধর্মীয় শিক্ষা সংকোচন নীতি বন্ধ ও বিতর্কিত পাঠ্যক্রম বাতিল করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু সালেহীন, কেন্দ্রীয় প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু প্রমুখ।

 খেলাফত মজলিসের দাবিগুলো হচ্ছে-
১. দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা: রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে নির্বাচনের তিন মাস আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে এবং নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।

২. নির্বাচনে সবার জন্যে সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: নির্বাচনে সবার জন্যে সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পেশীশক্তি ও অর্থশক্তি মুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

৩. দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আস্থায় না নিয়ে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের একক সিদ্ধান্তে ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

৪. গ্রেপ্তার আলেম ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করা: গ্রেপ্তার আলেম উলামা ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের উপর দায়েরকৃত সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

৫. রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অবাধ সুযোগ নিশ্চিতকরণ: বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সভা-সমাবেশ করার অবাধ সুযোগ দিতে হবে। বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচিতে বাধাদান, হয়রানি, গ্রেপ্তার, মামলা, হামলা বন্ধ করতে হবে।

৬. পণ্যমূল্য কমিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব ও দুর্নীতি নির্মূল করা: জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং খাদ্যদ্রব্য-সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমিয়ে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এনে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে অর্থ পাচার রোধ ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরৎ আনা-সহ সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি নির্মূল করার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. বেকার সমস্যা সমাধান ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দান: দেশের বেকারত্ব দূর করার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক ব্যবস্থা অবলম্বনের পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সব প্রকার বৈষম্য দূর করে সব ধরনের সরকারি চাকরিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. ধর্মীয় শিক্ষা সংকোচন নীতি বন্ধ ও বিতর্কিত পাঠ্যক্রম বাতিল করা: সাধারণ শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা সংকোচন নীতি বন্ধ করতে হবে এবং সব বোর্ড পরীক্ষায় ধর্মীয় বিষয়কে আবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মশিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। বর্তমান শিক্ষানীতির আলোকে প্রণীত স্কুল-মাদরাসার পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামী চিন্তা-বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক যাবতীয় বিষয় বাদ দিতে হবে। সমতা সৃষ্টির নামে সাধারণ পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে মাদরাসায় ইসলামী শিক্ষার মান ও পরিবেশ কোনোক্রমেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া যাবে না।

আরো পড়ুন ...