বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কৃষকদের প্রতিবাদ: ভারতের রাজধানী দিল্লি কার্যত দুর্গে পরিণত

হাজার হাজার কৃষক ফের একটি মেগা প্রতিবাদের জন্য দিল্লির দিকে মিছিল করছেন। ফসল, পেনশন এবং বীমা সুবিধার জন্য ন্যূনতম সমর্থন মূল্য (MSP) নিশ্চিত করার আইন সহ বেশ কয়েকটি দাবিতে এই কৃষক বিক্ষোভ। ২০২০ সালে কৃষকরা বিতর্কিত কৃষি সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে দিল্লি সীমান্তে ক্যাম্প করেছিল। বছরব্যাপী বিক্ষোভের পর চাপের মুখে পড়ে সরকার আইন বাতিল করতে রাজি  হয়। 

এখন কৃষকরা আবারও  রাজপথে নেমেছেন । কারণ তাদের মূল দাবি এখনও পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ । ২০২০-এর পুনরাবৃত্তি এড়াতে দিল্লিতে পুলিশ শহরের তিন দিকের সীমানা সিল করে দিয়েছে। এর আগে  প্রতিবাদকারী কৃষকরা কয়েক মাস ধরে রাজধানীকে প্রতিবেশী রাজ্যের সাথে সংযুক্ত করে এমন জাতীয় মহাসড়কগুলিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো।

এই আন্দোলনকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষক ইউনিয়ন নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে দুই দফা আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। কৃষকরা  ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP এর দাবিতে অনড় যা তাদের বেশিরভাগ পণ্য সরকার-নিয়ন্ত্রিত পাইকারি বাজার বা মান্ডিতে বিক্রি করার সুযোগ দেয়। তারা সরকারকে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করারও দাবি জানিয়েছে।

এই আন্দোলন  সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সংঘটিত করা হয়েছে  যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হয়ে মোদি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কৃষকরা ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ভোটিং ব্লকগুলির মধ্যে একটি গঠন করে এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার নির্বাচনের আগে তাদের চটাতে চাইবে না। 

সোমবার মন্ত্রীরা কৃষক ইউনিয়ন নেতাদের সাথে ছয় ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক করেন। ২০২০ সালের আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত করা মামলা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি দাবিতে উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে এসেছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু এমএসপি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। ২০২১ সালে কৃষি আইন বাতিল হওয়ার পরে, সরকার বলেছিল যে এটি সমস্ত খামারের পণ্যগুলির জন্য সমর্থন মূল্য নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করার জন্য একটি প্যানেল তৈরি করবে। কিন্তু কমিটি এখনও রিপোর্ট জমা দেয়নি। 

ইতিমধ্যে, কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ করতে বাধা দিতে ব্যারিকেড দিয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং সিমেন্ট ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। পুলিশ দিল্লি এবং প্রতিবেশী উত্তর প্রদেশ এবং হরিয়ানা রাজ্যগুলির মধ্যে সীমান্ত পয়েন্টসহ শহরে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে।

হরিয়ানায়, বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার মঙ্গলবার পর্যন্ত সাতটি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করেছে। মিছিলে দুই শতাধিক কৃষক ইউনিয়ন অংশ নিচ্ছে। পাঞ্জাব কিষাণ মজদুর সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক সর্বান সিং পান্ধের এএনআই নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করব এবং আমাদের উদ্দেশ্য হল সরকার যাতে আমাদের দাবি শোনে।

কৃষক এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলিও ১৬ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ধর্মঘটের ঘোষণা করেছে সেই সময় কোনও কৃষি কার্যক্রম চলবে না।

সূত্র : বিবিসি

আরো পড়ুন ...