Home রাজনীতি
Category:

রাজনীতি

ঢাকা: সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনো সময় আছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন, অন্যথায় পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহান স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে সরকারের কাছে এই বার্তা যাচ্ছে যে, তোমার দিন শেষ, জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা ছাড়ো। অন্যথায় সকল স্বৈরাচারীদের যে পরিণতি হয়েছে তোমারও তাই হবে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিষয়টিও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন। নয় মাস কারাবরণ করেছেন আমাদের নেত্রী। তিনি এর মাধ্যমে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাদের কাছে চিহ্নিত হয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে আজ কথা বলার অধিকার নেই, গণতান্ত্রিক অধিকার নেই, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার নেই, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য লাগামহীন বেড়েছে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য রুখে দাঁড়াতে হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যদি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হয়, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপি’র পক্ষ থেকে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণ ও উত্তর শাখা এর আয়োজন করে।

এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। নয়া পল্টন সড়ক থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। নয়া দিগন্ত

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডের রহস্য শিগগিরই উদ্ঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আজ শনিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত চলছে। যারাই এ ঘটনায় জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এর পেছনে কারা, নাটের গুরু কারা, কারা ঘটনা ঘটিয়েছে, সব কিছুই খোলসা করে আপনাদের জানিয়ে দেব।’

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পলিটিক্যাল কিলিংয়ের বিষয়ে আমরা এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব।’

এ সময় টিপু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের কাউন্সিলে অপর অংশের হামলা করার অভিযোগ উঠেছে। এতে কামাল হোসেনের অংশের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খান এমপিসহ ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এসময় কাউন্সিলের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে একপক্ষকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেয়।

শনিবার গণফোরামের কাউন্সিলকে ঘিরে দলটির বিবাদমান দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এর একটি অংশ জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে কাউন্সিলের আয়োজন করে, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অপর অংশ প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে ড. কামাল হোসেনের অংশের গণফোরাম কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার সময়ে অপর অংশের নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের ভিতরে ঢুকে কাউন্সিলে হামলা করে। তারা চেয়ার টেবিল ভাঙচুরের পাশাপাশি কাউন্সিলে আগত নেতাকর্মীদের উপরও হামলা করেন। এ সময় হামলাকারীরা বলেন, মোকাব্বির খানসহ এই অংশের নেতাকর্মীরা সরকারের দালাল। তারা সরকারের কাছ থেকে টাকা খেয়ে গণফোরমকে বিভক্ত করেছে। এসময় তারা মোকাব্বির খানকে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। তাকে রক্ষার জন্য যারা এগিয়ে আসেন তাদেরও পেটানো হয়।

তবে ঘটনার সময় উভয় অংশের সিনিয়র নেতা ড. কামাল হোসেন কিংবা মোস্তফা মোহসীন মন্টু, সুব্রত চোধুরী কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

হামলার বিষয়ে মোকাব্বির খান সাংবাদিকদের জানান, তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিলের আয়োজন করেছেন। এটা পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি। কিন্তু কিছু দুস্কৃতকারী কাউন্সিলে হামলা করে আমাকেসহ আরো অনেককে আহত করেছে। এটা গণতন্ত্রের উপর হামলা। গণফোরাম থেকে বহিস্কৃতরা এই হামলা চালিয়েছে। নয়া দিগন্ত

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা এবং বোর্ড পরীক্ষায় ইসলাম বিষয় বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।
মুহাম্মদ মনির হোসাইন
৬ মার্চ রবিবার, ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা সংকচনের ষড়যন্ত্র এবং বোর্ড পরিক্ষায় ইসলাম বিষয় বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি ইসমাঈল খন্দকারের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আহসান আহমাদ খানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ মনির হোসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের নৈতিকতা শিক্ষা দেয়, ভালো মন্দের পার্থক্য করার শিক্ষা দেয়, আজ যদি এ ধর্মীয় শিক্ষাটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে এদেশের ছাত্র সমাজ নৈতিকতা থেকে অনেক দূরে সরে যাবে। কাজেই কোনভাবেই ধর্মীয় শিক্ষা বিষয় পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া উচিত হবে না।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট শায়খুল ইসলাম, সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল বিলাল আহমদ চৌধুরী, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল ও প্রচার সম্পাদক কে এম ইমরান হোসাইন, খেলাফত মজলিস ময়মনসিংহ মহানগরী সভাপতি এডভোকেট মাও:রফিকুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন, শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক খালেদ সানোয়ার,মহানগরী উত্তরের সাবেক সভাপতি মাওলানা আজিজ উল্লাহ আহমদী
উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি নূর মোহাম্মদ,উত্তরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবু সালেহ,বায়তুলমাল ও প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল,দক্ষিণের বায়তুলমাল সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল মতিন,উত্তরের অফিস প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ত্বহা,আম্মার আল ফারাহ,মুশফিকুস সালেহীন,আবরার মাযহারী প্রমুখ।
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির প্রতিবাদে ঢাকায় খেলাফত মজলিসের মানববন্ধন
যুবসমাজকে ধ্বংসের নীলনক্সার অংশ হিসেবে মদের লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে
ঢাকা, ০১ মার্চ ২০২২: খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে। একদিকে সরকার বারবার জ্বালানী তেল, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের প্রশ্রয়ে পুঁজিপতি শ্রেণি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল বাড়িয়ে চলছে। চাল. ডাল. তেলসহ সবখিচুর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। তিনি এ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২২ এর নামে নির্বিঘেœ মদপানের বৈধতা দেযা হচ্ছে। যুবসমাজ ও তরুন প্রজন্মকে ধ্বংসের নীলনক্সার অংশ হিসেবে মদের লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অবিলম্বে এ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২২ বাতিল করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আজ ১ মার্চ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগরী দক্ষেণের  সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মোঃ আবদুল জলিল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহসভাপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, এডভোকেট রফিকুল ইসলাম, কাজী আরিফুর রহমান, মাওলানা ফরিদ আহমদ হেলালী, ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আহসান আহমদ খান প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আজ মানুষ নিরবে কাঁদছে। চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। কালকে যে তেলের দাম ছিলো সাড়ে সাতশত টাকা আজকে সে তেলের দাম আট শত টাকা। এভাবে সব কিছুর দামই বাড়ছে। দ্রব্যমুল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি দেখে মনে হচ্ছে- দেশে কোন সরকার আছে বলে মনে হয় না।্ তিনি আসন্ন মাহে রমজানের পূর্বে সকল প্রকার নিত্যপয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর জোর দাবী জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হক বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। অবিলম্বে সকল প্রকার দ্রব্যের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

সিইসি বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আমরা সহায়তা করব। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সহায়তা না করে, পলিটিক্যাল লিডারশিপে যদি ন্যূনতম সমঝোতা না থাকে, আমি তো তাদের মুরব্বি হতে পারব না। তাঁরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী, অনেক বেশি অভিজ্ঞ।’

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা অনুনয়-বিনয় করব, আপনারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করেন। একটা চুক্তিবদ্ধ হন যে আপনারা নির্বাচনটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করবেন, ওখানে সহিংসতা করবেন না। কেউ কাউকে বাধা দেবেন না।’

সিইসি আরও বলেন, তাঁরা আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে চেষ্টা করবেন। সাংবিধানিক শপথে থেকে সততা-নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনায় তাঁরা সচেষ্ট থাকবেন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ভ্লাদিমির মেদিনস্কি আরও বলেন, ‘আমরা সারা রাত জেগে তাদের অপেক্ষায় ছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত রাতভর তারা একাধিকবার তাদের আসার সময় পরিবর্তন করেছে।’

এদিকে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলটিও আলোচনা করতে ইউক্রেন-বেলারুশ সীমান্তে পৌঁছেছে।

কিয়েভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অলেক্সি রেজনিকভ, প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াকসহ অনেকেই রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হবে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার সেনা প্রত্যাহার।

গত সপ্তাহে ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর পর এটি দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম আলোচনা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর ফোনালাপের পর এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।

ইউক্রেন সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউক্রেনের একটি প্রতিনিধিদল প্রিপিয়াত নদীর কাছে ইউক্রেনীয়-বেলারুশিয়ান সীমান্তে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শর্তহীন বৈঠকে বসবে বলে আমরা একমত হয়েছি।’

তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বেলারুশে আলোচনায় বসতে রাজি হননি। তাঁর ভাষ্যমতে, রাশিয়া যদি বেলারুশ ভূখণ্ড থেকে ইউক্রেনে হামলা না চালাত, তাহলে দেশটিতে আলোচনা নিয়ে আপত্তি করতেন না।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২: খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক উলামা বিষয়ক সম্পাদক ও নোয়াখালী জেলার সাবেক সভাপতি নোয়াখালীর প্রসিদ্ধ আলেম মাওলানা হারুনূর রশীদ আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টায় নোয়াখালীস্থ নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। কয়েক বছর পূর্বে স্ট্রোক করার পর থেকে তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ শয্যাশায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ে রেখে যান। তিনি চৌমুহনী মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম ও প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন ছিলেন। আজ রাত সাড়ে ১০ টায় চৌমুহনী লক্ষ্মীনারায়ণপুর হাই স্কুল মাঠে জানাজা তার দাফন অনুষ্ঠিত হবে।
শোক: খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক উলামা বিষয়ক সম্পাদক ও নোয়াখালী জেলার সাবেক সভাপতি নোয়াখালীর প্রসিদ্ধ আলেম মাওলানা হারুনূর রশীদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। প্রদত্ত এক যৌথ শোক বাণীতে নেতৃদ্বয় বলেন, মরহুম মাওলানা হারুনূর রশীদের ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। একজন প্রথিতযশা আলেম হিসেবে দ্বীনের প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি আমৃত্য আল্লাহর জমিনে খেলাফত প্রতিষ্ঠার কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। নেতৃদ্বয় মরহুম মাওলানা হারুনূর রশীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর জান্নাতুল ফেরদাউস নসিবের জন্য দোয়া করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এ ছাড়া খেলাফত মজলিস নোয়াখালী জেলা সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শামসুদ্দিন মরহুম মাওলানা হারুনূর রশীদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ১০ জনের নামের তালিকা প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের কাছে জমা দিয়েছে সার্চ কমিটি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমিটির সদস্যরা বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নামের তালিকা জমা দেন। অসুস্থতার কারণে সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বঙ্গভবনে যেতে পারেননি। সাক্ষাতের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম রাত আটটার দিকে বঙ্গভবনের বাইরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।  সেখানে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কমিশনের জন্য ৫ জনকে মনোনয়ন দেবেন এবং গেজেট প্রকাশ করা হবে। প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেয়া ১০ জনের নাম প্রকাশ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাম প্রকাশ করা হবে না। পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য ১০ জনের নামের তালিকা প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের কাছে জমা দিয়েছে সার্চ কমিটি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কমিটির সদস্যরা বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নামের তালিকা জমা দেন। অসুস্থতার কারণে সার্চ কমিটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বঙ্গভবনে যেতে পারেননি। সাক্ষাতের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম রাত আটটার দিকে বঙ্গভবনের বাইরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।  সেখানে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কমিশনের জন্য ৫ জনকে মনোনয়ন দেবেন এবং গেজেট প্রকাশ করা হবে। প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেয়া ১০ জনের নাম প্রকাশ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাম প্রকাশ করা হবে না।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শেখ গোলাম আসগর (রহ.)- এর ওফাতের দুই বছর।
মোঃ আবদুল জলিল: ঢাকার রাজ পথে আন্দোলন সংগ্রামের, উচ্চকিত শ্লোগাণের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ছিলেন জনপ্রিয় সংগঠক রাজপথের লড়াকু সৈনিক আলহাজ¦ শেখ গোলাম আসগর (রহ.)। তিনি ছিলেন খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগরী সভাপতি। ২০২০ খ্রীস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারী হঠাৎ করেই বিদায় নিলেন তিনি। একজন যোগ্য সংগঠক, প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ, সফল ব্যবসায়ী, কর্মপ্রিয় ও আশাবাদী মানুষ ছিলেন শেখ গোলাম আসগর (রহ.)।
শেখ গোলাম আসগর (রহ.) ১৯৬৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার লালবাগে তার জন্ম হলেও বেড়ে উঠেছেন মতিঝিলের আরামবাগে। পিতা শেখ গোলাম মোস্তফা ও মাতা আসমা খাতুনের ৫ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে শেখ গোলাম আসগর ছিলেন ষষ্ঠ। শিক্ষা জীবনে মতিঝিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা শুরু। মতিঝিল মডেল স্কুলে মাধ্যমিক, বিএএফ শাহীন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, জগন্নাথ কলেজে অনার্স ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
শেখ গোলাম আসগর স্কুল জীবন থেকেইে ইসলামী সংগঠনের সাথে সংযুক্ত হোন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে শিশু সংগঠন ‘ফুলকুড়ি’র কাজের মাধ্যমে তার সাংগঠনিক কাযক্রম শুরু। পরবর্তীতে আদর্শবাদী ছাত্র সংগঠনে খুবই সক্রীয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৯৩-৯৪ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের ঢাকা মহানগরী সাধারণ সম্পাদক পরের বছর ঢাকা মহানগরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫-৯৬ সেশনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সেক্রেটারী জেনারেল ও ১৯৯৬-৯৭ সেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবন সমাপ্ত করে তিনি খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। এরপর দীর্ঘ সময় খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। পরে তিনি খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
শেখ গোলাম আসগর একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ঢাকার আরামবাগে গ্রান্ড ট্রেডার্স নামে কাগজসহ প্রিন্টিং সামগ্রীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী ছিলেন। তিনি ঢাকা পেপার এন্ড প্রিন্টিং ইন্ক মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী ছিলেন এবং ২০২০ সালে পর্যন্ত তিনি ঐ ব্যবসায়ি সংগঠনের নির্বাচিত সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রো-একটিভ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারী ছিলেন, প্রো-একটিভ মেডিকেলের উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। ব্যবসায়িক কারণে তিনি যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত সফর করেন। পবিত্র হজ¦ ও উমরার উদ্দেশ্যে একাধিকবার সৌদি আবর সফর করেন। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে আগ্রহী শেখ গোলাম আসগর রহ. সাংষ্কৃতিক সংগঠন দাবানল শিল্পীগোষ্ঠী ও জাতীয় সাংস্কৃতিক ফোরাম- জাসাফ’র উপদেষ্টা ছিলেন। লেখা লেখিতে অত্যন্ত দক্ষ শেখ গোলাম আসগর (রহ.) অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক ইনতিফিাদা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং উইকলি টাইম এন্ড টাইড পত্রিকার সম্পাদক ও অনলাইন পোর্টাল আপডেট২৪ডটনেট’র উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন।
আন্দোলন সংগ্রামের ময়দানে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন মরহুম শেখ গোলাম আসগর (রহ.)। মাদ্রাসায় পড়াশুনা না করলেও দেশের আলেম-উলামাদের সাথে তার অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। ৩ ছেলের জনক শেখ গোলাম আসগরের বড় ছেলের নাম রাখেন শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুর হক (রহ.)। ছোট ছেলে ঢাকার উত্তরায় একটি মাদ্রাসায় হাফেজী পড়ছে। তিনি হযরত হাফিজ্জি হুজুর রহ. নেতৃত্বে গড়ে উঠা আন্দোলন, মুরতাদ সালমান রুশদী বিরোধী আন্দোলন, ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন একজন সক্রীয় কর্মী ছিলেন। মুরতাদ তসলিমা নাসরিন বিরোধী আন্দোলন, বাবরী মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে গড়ে উঠা আন্দোলন ও অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চ, ৪ দলীয় জোট ও ২০ দলীয় জোটের ফ্যাসিবাদী সরকার বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ হেফাজতে ইসলামীর আন্দোলনের একজন সংগঠক ও একই সাথে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ঢাকার রাজপথের বিভিন্ন ইস্যুতে সংঘটিত আান্দোলন সংগ্রাম, মিটিং- মিছিলের সম্মুখ সারির নেতা ও শ্লোগানের বলিষ্ঠ কন্ঠ ছিলেন শেখ গোলাম আসগর রহ.। মতিঝিল, গুলিস্তন, পল্টন, বায়তুল মোকাররম, প্রেসক্লাব এলাকার আকাশ-বাতাস মুখরিত হতো তাঁর দরাজ গলার ‘নারায়ে তাকবির- আল্লাহু আকবর’ শ্লোগানে।
তিনি খেলাফত মজলিসের নেতা হলেও দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক ছিলো অত্যন্ত মধুর। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে তাকে ভালোবাসতেন, শ্রদ্ধা করতেন। আর দলীয় নেতা-কর্মীদের আস্থা, শ্রদ্ধা ও ভরসার অন্যতম কেন্দ্রস্থল ছিলেন শেখ গোলাম আসগর রহ.। কর্মীবান্ধব নেতা বলতে যা বোঝায় শেখ গোলাম আসগর রহ. তাই ছিলেন। সংগঠনের নেতা-কর্মী, বন্ধু-বান্ধবদের বিপদে আপদে তিনি পাশে থাকতেন, সহযোগিতার চেষ্টা করতেন। যে যত বড় সমস্যা নিয়েই তার কাছে আসতেন তিনি তাকে আশ^স্ত করেতন, সমাধানের পথ দেখাতে। তিনি সবাইকে ভালোবাসতেন। সবাইকে স্বপ্ন দেখাতেন সুন্দর ভবিষ্যতের। বাংলার সবুজ জমিনে ইসলামী আদর্শের আলোকে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের ভেলায় ভেসে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি ছিলেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা।
মৃত্যুর আগের দিন রাতেও তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত ছিলেন বিছানায় যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। তার জীবনের সর্বশেষ কাজ ছিলো ঢাকা মহানগীর খেলাফত মজলিসের ২০১৯ সালের কাজের উপর একটি মন্তব্য লেখা যা তিনি মৃত্যুর দিন রাত বারোটার পরে কোন এক সময়ে লিখে রেখে গেছেন পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সকালে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে পেশ করার জন্য। নিজ স্বক্ষরের নিচে ‘১৪/২/২০২০’ লেখা সে মন্তব্য প্রতিবেদন আমাদের হাতে আসলেও তিনি আর তা পেশ করতে পানেনি। আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে হঠাৎ করেই পারি জমালেন অনন্তের পথে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে স্ট্রোক করে অসুস্থ হওয়ার পরে সকালে তাকে রাজধানীর ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হসপিটালে (বারডেম হাসপাতাল) ও পরবর্তীতে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে নেয়া হয়। গ্রীন লাইফ হাসপাতালের আইসিইউতে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন আমাদের সকলের প্রিয় নেতা শেখ গোলাম আসগর রহ. (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মরহুমের লাশ সিদ্ধেশ^রী থেকে আরামবাগ নেয়া হলে আরামবাগ ফকিরাপুল এলাকায় নিস্তব্ধতা নেমে আসে। আরামবাগ ফকিরাপুল এলাকায় ব্যবসায়ীরা এ দিন তাদের মার্কেট বন্ধ রেখে শোক প্রকাশ করেন। আরামবাগ থেকে লাশ নিয়ে আসা হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। বাদ যোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, আলেম-উলামা, মরহুমের বন্ধু-স্বজনসহ হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন আমীরে মজলিস অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক। জানজা শেষে আজিমপুর গোরস্তানে পিতা-মাতার করে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হয় মরহুম শেখ গোলাম আসগরকে (রহ.)।
আলহাজ¦ শেখ গোলাম আসগর রহ. এর আকর্ষিক মৃত্যুর ঘটনায় সংগঠনের দেশ বিদেশের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, বন্ধু-বন্ধব, আত্মীয়-স্বজন সবাই বিমর্ষ ও শোকাবিভূত হয়ে পরেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ইসলামী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। খেলাফত মজলিসের সারা দেশের নেতা-কর্মীদের বুক ফাঁটা কান্না আর অশ্রু বিসর্জন যেন থামতেই চাচ্ছে না । সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে শেখ গোলাম আসগর ভাই এত তাড়াতাড়ি মৃত্যু যবনিকার ওপাড়ে চলে যাবেন তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দুই বছর পর এখনো অনেক নেতা-কর্মী, বন্ধুজন শেখ গোলাম আসগর রহ. এর কথা স্মরণ করে নিরবে নির্ভৃতে অশ্রু বিসর্জন করেন। তাঁর মাগফিরাতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করেন। যারা আসগর ভাইয়ের মাগফিরাতের জন্য অশ্রু বিসর্জন করতেন বিগত দুই বছরে তাদের মধ্যে অনেকেই পারি জমিয়েছেন পরপারে। আমাদের অভিভাবক মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন ভাই, মাওলানা সৈয়দ মজিববর রহমান পেশোয়ারী সাহেব, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আলম, ডাঃ নজরুল ভাই, সর্বশেষ আমাদের আবদুল মালেক ভাই-সহ অনেকেই পারি জমিয়েছেন অনন্তের পথে। আসগর ভাই-সহ সকলের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি।
আমরা সবাই মরহুম শেখ গোলাম আসগর (রহ.) এর জন্য সব সময় দোয়া করবো আল্লাহ যেন তার জীবনের সমস্ত গুনাহখাতা মাফ করে দিয়ে দিয়ে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। তার স্ত্রী, পুত্র পরিজনকে সবরে জামিলের তাওফিক দান করেন। একই সাথে তার আমৃত্যু লালিত স্বপ্ন আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন তথা খেলাফত প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাই সচেষ্ট হবো। এটাই আজকের প্রত্যাশা।।
ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ঈসায়ী
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail