Home প্রচ্ছদ
Category:

প্রচ্ছদ

ঢাকা: শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রণিল বিক্রমাসিংহে। ইউএনপি দলের নেতা রণিল বিক্রমাসিংহে আজ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় শপথ নেন। এ খবর দিয়েছে ডেইলি মিরর।

এতে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন তিনি। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন রণিল। গত সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে পদত্যাগ করলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অনিবার্য হয়ে যায়। তবে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করেন প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া। জানা গেছে, শপথ গ্রহণের পর কলোম্বোর একটি মন্দির পরিদর্শন করবেন রণিল বিক্রমাসিংহে। এরপর তিনি  দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ইসরাইলি সেনাদের গুলি নিহত হয়েছেন কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার নারী সাংবাদিক শিরীন আবু আকলেহ। বুধবার ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সংবাদ সংগ্রহ করার সময় তাকে মাথায় গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি। এসময় সেখানে ইসরাইলি বাহিনী অভিযান চালাচ্ছিল, সেটি কাভার করতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন শিরীন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে এই গুলির ঘটনা ঘটে। তবে কোন পরিস্থিতিতে তাকে গুলি করা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে ধারণা করা হচ্ছে শিরীনের মাথায় গুলি লেগেছিল। আল-জাজিরা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত শুধু তারা জানে যে, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। শিরীন আবু আকলেহ জেনিন শহরে ইসরাইলি অভিযানের খবর সংগ্রহ করছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে শিরীনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনার পর তার সঙ্গে কাজ করা অন্য সাংবাদিকরাও আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। নিহত শিরীনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সহকর্মী ইব্রাহীম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন

তিনি জানান, ২০০০ সাল থেকে তারা একসঙ্গে কাজ করে আসছেন। শিরীন একজন সম্মানিত সাংবাদিক ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় প্রেস ভেস্ট পরা ছিলেন শিরীন। তারসঙ্গে থাকা আরেক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আলি সামুদি নামের ওই সাংবাদিক জেরুজালেমভিত্তিক গণমাধ্যম কুদসে কাজ করেন। এর আগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের উপরে ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফিলিস্তিনিরা হামলা চালালে তারা পাল্টা হামলা করতে বাধ্য হয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত চালু করা হয়েছে। তবে রামাল্লায় আল-জাজিরার ব্যুরো চিফ ওয়ালিদ আল-ওমারি জানান, ফিলিস্তিনি পক্ষ থেকে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। ইসরাইল যে সম্ভাবনার কথা বলছে সেটিকে উড়িয়ে দেন তিনি।
আল-জাজিরার সাংবাদিক নিহতের খবরে শোক ও ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেক ফিলিস্তিনি। বৃটেনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি দূত হুসাম জমলট বলেন, ইসরাইলি দখলদার বাহিনী আমাদের প্রিয় সাংবাদিক শিরীন আবু আকলেহকে হত্যা করেছে। শিরীন ছিলেন সবথেকে আলোচিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক এবং কাছের বন্ধু। তিনি পরিচিতদের মধ্যে সাহসী ও দয়ালু হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

মঙ্গলবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সামনে রেখে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

এনআইডি পাওয়া জন্য মানুষের উৎসাহ আছে,  কিন্তু ভোটের মাঠে কেন মানুষ যায় না— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আমাদের দায়িত্ব ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। আমাদের কর্মীরা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে মাঠে যাবে। আপনি যেই প্রশ্নটা করেছেন, সেই প্রশ্নের কোনো মন্তব্যই আমি করব না।

ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে যে আলোচনা হচ্ছে সেটি নিয়ে কী করবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সেটি নিয়ে পত্রিকায় আসছে এবং আমাদের বক্তব্যগুলো আপনাদেরকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব আমাদের। হয়তো আপনারা বলতে পারেন যে, প্রধানমন্ত্রী একটি বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জন থেকে বক্তব্য আসতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নাকি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেছেন বিষয়টি এখনও স্পষ্ট না। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলা, বিএনপির প্রধান বলা, জাসদের আবদুর রব বলা এগুলো ভিন্ন জিনিস।

সিইসি বলেন, সব থেকে বড় কথা যেটি স্পষ্ট করে বলতে চাচ্ছি, অনেকে ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন, সদিচ্ছা ব্যক্ত করতে পারেন আর ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আমরা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। ইতোমধ্যে আমরা নিজেরা অনেকগুলো সভা করেছি, আগামীতে আরও সভা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে আমাদের। ভোট স্বাধীনভাবে আমরা পরিচালনা করব যতদূর সম্ভব। এটা আমাদের এখতিয়ারভূক্ত, ভোটের পদ্ধতিও আমাদের এখতিয়ারভূক্ত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত আমাদের ওপরই থাকবে। মতামত আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। আপনিও মতামত দিতে পারেন, রাস্তায় কেউ মতামত দিতে পারেন, রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিতে পারবেন। আল্টিমেটলি আমরা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব ভোট কোন পদ্ধতি ও কেমন হবে। সেটি আমাদের বিষয়। এই বিষয়ে আমরা স্বাধীন।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সব আসনে ইভিএমে ভোট করার মত এখন আমাদের সামর্থ্য নেই। ৩০০ আসনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা এখনও নেইনি। ভোট ব্যালটে হবে না ইভিএমে, কতটি আসনে ইভিএমে হবে এই বিষয়ে কমিশন এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের শুদ্ধ ও সিদ্ধভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, শুদ্ধ ও সঠিক ভোটার তালিকা ছাড়া প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যুগান্তর

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: মানব জমিন:: শ্রীলঙ্কায় সামরিক বাহিনী ও পুলিশের হাতে জরুরি ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে। এই ক্ষমতার ফলে তারা যেকোনো লোককে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারবে। সোমবার সহিংসতায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ২০০ লোক আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। সহিংসতার কারণে প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তার পদত্যাগেও সহিংসতা বন্ধ হয়নি। ক্ষুব্ধ জনতা তারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হেনস্থার শিকারও হয়েছেন। বিক্ষোভকারীর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসের পদত্যাগ দাবি করছে।

ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন রাজাপাকসে!
শ্রীলঙ্কার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপাকসে প্রাণ বাঁচাতে ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোররাতে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে তার বাসভবন থেকে সরিয়ে নেয় সেনাবাহিনী। তবে বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোতে নতুন করে সহিংসতা না হলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রাজাপাকসার বাসভবনে হামলা
মঙ্গলবার সকালে রাজপাকসের সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। তারা কলম্বোর টেম্পল ট্রিজ নামের বাসভবনের মূল দোতলা ভবনে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিল। রাজাপাকসে ও তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য রাজপাকসের বাসভবনে পৌঁছে সপরিবার তাকে উদ্ধার করে। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভোরেই সপরিবার রাজাপাকসেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে খোলসা করেননি তিনি। যদিও সূত্রের খবর, ত্রিঙ্কোমালিতে নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন রাজাপাকসে।

এর আগে জনতা হাম্বানতোতায় রাজাপাকসাদের পৈত্রিক বাসভবনটি জ্বালিয়ে দেয়।

ঠিকমতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হলে এই ঘটনা ঘটত না : অর্জুন রানাতুঙ্গা
শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার অর্জুন রানাতুঙ্গে বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন মানুষ। কিন্তু তাদের ওপর যেভাবে আক্রমণ করা হলো তা অপ্রত্যাশিত। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। বিভোক্ষকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেনি। যদি ঠিক মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হতো, তা হলে এই ঘটনা ঘটত না।

থমথমে কলম্বো
সোমবারে ঘটনার পর থেকেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানী কলম্বোতে। ওই দিন কারফিউ উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছিল হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। দোকান, বাড়ি, সরকারি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। হামলা চালানো হয় সরকারপক্ষের এমপি এবং নেতাদের বাড়িতে।

এদিকে বিক্ষোভকারী এবং শ্রীলঙ্কার ধর্মীয় নেতারা রাজাপাকসের পরিবারের সমর্থকদের বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য উস্কানি দেয়ার জন্য দোষারোপ করেন। তারা বলেন, ওই হামলার জন্যই প্রতিশোধমূলক হামলার জন্ম নিয়েছে।

বাড়িতে আগুন এবং গুলি
সোমবার দিনভর বিক্ষোভের পর রাত গভীর হতে থাকলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সরকার সমর্থক এবং সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করেন।

শ্রীলঙ্কার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কলম্বোর উপকণ্ঠে একজন সরকার দলীয় এমপি অমরাকীর্তি আথুকোরালার গাড়িতে হামলা চালালে তিনি দুজনকে গুলি করেন। এতে একজন মারা যান।

এরপর সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই সংসদ সদস্য।

রাত বাড়ার সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজাপাকসের বাড়িতে, বিভিন্ন মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মন্ত্রী সানাৎ নিশান্তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যে হাম্বানটোটায় রাজাপাকসের পরিবারের নিজস্ব একটি বাড়ি যা একটি বিতর্কিত জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছিল, সেটিও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বাড়িগুলো ঘিরে আগুনের লেলিহান শিখা ঘিরে মানুষজন উল্লাস করছে।

প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের চারপাশের এলাকাতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিবিসির আনবারাসন এথিরাজন জানাচ্ছেন, কলম্বোজুড়ে উত্তেজনা চলছে। দেশটির বিমানবন্দরে যাওয়া এবং আসার সড়কগুলোতে লাঠি এবং রড নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে ওই রাস্তাগুলোতে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যেমন উপস্থিতি দেখা যায়, এখন তা দেখা যাচ্ছে না।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট পাড় করছে শ্রীলঙ্কা। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষুব্ধ। সরকার জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য কোভিডকে দায়ী করেছে সরকার, মহামারিতে দেশটির পর্যটন বাণিজ্য যা শ্রীলঙ্কার অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক আয়ের উৎস, তা প্রায় ধসিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করেন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাই এর অন্যতম কারণ।

সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি, আনন্দবাজার পত্রিকা

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: চলমান আন্দোলনের মধ্যে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে। অল্পক্ষণ আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ খবর দিয়েছে দেশটির অনলাইন ডেইলি মিরর। এমন এক সময়ে তিনি পদত্যাগ করলেন যখন দেশে সরকারবিরোধীদের আন্দোলনকে দমন করতে জারি আছে কারফিউ। তা অমান্য করে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ জনতা। রাজধানী কলম্বো ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে সরকারপন্থি সমর্থকরা। এর আগে শুক্রবার চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে নিজের ভাই ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসেকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দেন প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে। জবাবে মাহিন্দ রাজাপাকসে এসএলপিপি এমপিদের কয়েকজনকে জানান, তিনি আজ সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিদেশি ঋণনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলায় শ্রীলঙ্কা এখন সরকারিভাবে দেউলিয়া। বিদেশিদের কাছে দেশটির আছে ৫১০০ কোটি ডলারের ঋণ। এই ঋণ শোধ দেয়ার সামর্থ নেই তাদের।

ফলে সরকারিভাবে বিদেশি দাতাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে দেউলিয়াত্বের কথা। আর্থিক সঙ্কট অক্টোপাসের মতো চারদিক থেকে আঁকড়ে ধরেছে দেশটিকে। চারদিকে শুধু নেই আর নেই। যাওবা নিত্যপণ্য পাওয়া যায়, তার দাম আকাশচুম্বী। সরকার অত্যাবশ্যক পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হাত দিয়েছে বৈদেশিক রিজার্ভে। তাও প্রায় শেষের পথে।
এ অবস্থায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সাধারণ মানুষের। তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে যোগ দিয়েছেন সরকার দলীয় কিছু সদস্য, কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটাররা, চিকিৎসকরা আর মন্ত্রীসভা থেকে একযোগে পদত্যাগ করেন ২৪ জন। জোর করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন গোটাবাইয়া ও মাহিন্দ রাজাপাকসে ভ্রাতৃদ্বয়। কিন্তু মানুষের পেটে খাবার না থাকলে, অসুখে চিকিৎসা না পেলে যা হয়, তাই হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে কারফিউয়ের মধ্যেও রাস্তায় নেমে পড়েছেন। তার ওপর চালানো হয়েছে হামলা। এ সময়েই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী।

ঢাকা: সরকারবিরোধী ধর্মঘটে কার্যত অচল শ্রীলঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে আবারও জরুরি অবস্থা জারি করেছেন লঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিলেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের চলা ধর্মঘটের কারণে দোকানপাট, গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে গেছে। জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া জরুরি আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শুক্রবার (৬ মে) রাজধানী কলম্বো ছাড়াও অন্যান্য শহরে ধর্মঘটে নামে হাজার হাজার মানুষ। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে গোটাবায়া সরকারকে দায়ী করে অবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও করতে গেলে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটে অসংখ্য স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। গণপরিবহণ বন্ধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হচ্ছে জরুরি অবস্থা।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে কাটাতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে। আমদানিকৃত খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের ঘাটতিতে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেমে থেমে সরকারবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যবহার করার মতো মাত্র ৫ কোটি মার্কিন ডলার রিজার্ভ আছে শ্রীলঙ্কার। এতেও পদত্যাগ করছেন না প্রেসিডেন্ট।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: রুশ সেনারা ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রাজধানী কিয়েভের নিকটবর্তী শহরগুলো দখলের সময় তারা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে। এছাড়া রুশ সেনাদের নানা অত্যাচারের শিকার হয়েছে সাধারণ ইউক্রেনীয়রা। এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।

কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলন করে রিপোর্টটি প্রকাশ করেন অ্যামনেস্টির সিনিয়র ক্রাইসিস এডভাইজার ডনাটেলা রোভেরা। সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, আমরা যেসব প্রমাণ পেয়েছি তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রুশ সেনারা যেই গ্রাম বা শহরই দখল করেছে, একই প্যাটার্নে নির্যাতন চলেছে। আমরা যেসব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছি তা দিয়ে পরবর্তিতে অভিযুক্তদের শাস্তির মুখোমুখি করা যাবে। আজ সম্ভব না হলেও, ভবিষ্যতে কোনো একদিন অবশ্যই হবে।

যদিও রাশিয়া প্রথম থেকেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি তারা শুধু সামরিক স্থাপনা টার্গেট করেই হামলা চালাচ্ছে

এ জাতীয় অভিযোগকে পশ্চিমাদের প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধের অংশ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। তবে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ বলছে, রুশ সেনারা প্রায় ৯ হাজার যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

অ্যামনেস্টির রিপোর্টে বলা হয়েছে, রুশ সেনারা বুচা শহরে অনেক মানুষকে বে-আইনিভাবে হত্যা করেছে। এসব ঘটনা ঘটেছে মূলত ইয়াবলুনস্কা এবং ভদোপ্রোভিন্দা নামের দুটি রাস্তার কাছে। এরকম মোট ২২টি কেস নিয়ে কাজ করছে মানবাধিকার সংস্থাটি। আকাশ থেকে চালানো রুশ হামলায় ৪০ বেসামরিক নিহতের অভিযোগও তদন্ত করছে তারা। এর আগে বুচা হত্যা নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের কাছে প্রশ্ন তুলেছিল রয়টার্স। তখন পেসকভ জানিয়েছিলেন, বুচার কাহিনী পুরোটাই সাজানো এবং মিথ্যা।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ঈদের আগের দিন তেলেসমাতি দেখায় সয়াবিন। হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় বাজার থেকে। কারা এই কাণ্ডে জড়িত আর তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে এ নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা। এরই মধ্যে গতকাল দিনের শেষ দিকে এসে বড় খবর দিলো বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর মিল মালিকদের ওই সংগঠন জানায়, বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা করা হয়েছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম হবে ৯৮৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৮০ টাকা, যা এতদিন ১৪০ টাকা ছিল। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পরিশোধিত পাম সুপার তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১৭২ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৩০ টাকা।
এর আগেও কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ মূল্যের কারণে অনেকে সয়াবিন তেলের ব্যবহারও কমিয়ে দেন। খুবই অল্প পরিমাণ সয়াবিন তেল কেনার ছবিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে

গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৭ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৪৩ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে মিল মালিকরা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গেলেও সরকার সায় দেয়নি। মার্চের মাঝামাঝিতে তেলের আমদানি, পরিশোধন ও বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের পর লিটারে ৭ টাকা করে দাম কমানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে এপ্রিল ও মে মাসে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিতে থাকেন মিল মালিকরা। ডিলার ও পাইকারি বিক্রেতারাও তেলের মজুত শুরু করেন। এসব ঘটনা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়ে।
ঈদের আগে তেলেসমাতি
ঈদের আগের দিন বাজারে ভোজ্য তেল কিনতে গিয়েছিলেন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান। বাজারে গিয়ে দেখেন কোনো দোকানেই তেল নেই। শুধু একটি দোকানে একটি মাত্র কোম্পানির তেল পান। কিন্তু দাম চাওয়া হয় ২২০ টাকা লিটার। এত দাম কেন- জিজ্ঞেস করলে দোকানদার জানান ‘এমনিতেই তেল নেই, এই দামে নিলে নেন না নিলে চলে যান।’ পরে বাধ্য হয়ে ২২০ টাকায় এক লিটার তেল কিনেন তিনি। ঈদের বিভিন্ন রান্না-বান্নায় তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল আবার বাজারে আসেন তেল কিনতে। কিন্তু কয়েকটি দোকান ঘুরেও তেল পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি দোকানে এক লিটারের বোতল পান। কিন্তু দাম নেয়া হচ্ছে ২২০ টাকা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামেই এক লিটার তেল কিনেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জানান, শুধু বসুন্ধরা ও তীর কোম্পানির অল্প কিছু তেল দুই একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় সবাই এক লিটার করে কিনছেন। ঈদের আগেও এই পরিস্থিতি ছিল। ভেবেছিলাম ঈদের পর কমবে। কিন্তু এখনো দেখছি বাজারে তেল নেই।
শুধু মিরপুর নয়, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশেই তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেয়া হয়। ঈদের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীদের এই কারসাজি শুরু হয়। তবে ঈদের পরেও থেমে নেই তারা। এখনো সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন অসাধুরা। অথচ রমজান মাসে তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। তবে এ দামে মিল মালিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করা হয়েছে। বেশির ভাগ কোম্পানিগুলো কোনো তেলই সরবরাহ করেনি। এই সুযোগে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলে তেলের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।
সরজমিন রাজধানীর কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে অনেক ক্রেতারাই ভিড় করছেন তেলের জন্য। কৌশলে প্রথমে দোকানদার তেল নেই বললেও পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করেন কয় লিটার লাগবে? অল্প কিছু তেল আছে, দাম পড়বে ২২০ টাকা লিটার। যারা এই দামে নিতে রাজি হচ্ছেন তাদেরকেই শুধু দোকানে লুকিয়ে রাখা তেল বের করে বিক্রি করছেন।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। কিছু দোকানে আগের কিছু তেল রয়েছে। তবে বোতলের গায়ে দেয়া মূল্য ঘষে তুলে ফেলে দাম নেয়া হচ্ছে ২২০ টাকা লিটার। রাজধানীর ইব্রাহিমপুর বাজারের তেল বিক্রেতারা জানান, রোজার শুরু থেকেই চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না তারা। পাঁচ লিটার তেলের বোতল পাওয়া যায় না। এক ও দুই লিটার অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগেই তেল শেষ হয়ে গেছে। কোনো কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। অর্ডার করলে ডিলাররা দেয় না। আগের কিছু ছিল সেগুলোই বিক্রি করছি। তবে দাম বেশি কেন জিজ্ঞেস করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি কেউ।
তবে এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, সরকারের নির্ধারিত দামেই আমরা চাহিদা অনুযায়ী মিল থেকে ভোজ্য তেল সরবরাহ করছি। কোনো সংকট নেই। বিশ্ব বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। তাই আমাদের এখানেও বাড়বে এমন ভাবনায় ডিলার ও খুচরা দোকানিরা তেল বিক্রি না করে মজুত করছেন। পরে বেশি দামে বিক্রি করবেন এই আশায় আছেন তারা। এজন্যই তারা তেলের সরবরাহের সংকট আছে বলে অজুহাত দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক থাকলে তেলের এ সংকট দেখা দিতো না। প্রতিটি মার্কেটে ডিস্ট্রিবিউটর দিয়ে রেখেছে, তারা কি চাহিদা অনুযায়ী তেল পেয়েছে? তাহলে কীভাবে তারা দাবি করছে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক আছে? মিলগুলো অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেরা ভালো থাকতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, তেলের মূল সমস্যা হলো, সরকার রমজান মাসে ১৬০ টাকা লিটার দাম বেঁধে দিয়েছিল। এ দামে মিল মালিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা আরও বেশি দামে তেল বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার রোজায় তা করতে দেয়নি। তাই তারা সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করেছে। এখন বিভিন্ন পক্ষের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। সরকার যদি ওই সময় তেলের দাম বাড়িয়ে দিতো তাহলে দাম বেশি হলেও এই সংকট তৈরি হতো না।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশির ভাগ ভোজ্য তেল বাল্ক আকারে বিক্রি হয়। কিন্তু অধিকাংশ মিল বাল্কে তেল বিক্রি করেনি। ঢাকায় বাল্কে তেল বিক্রি করেছে তিনটি মিল। এর মধ্যে সিটি, মেঘনা, টি কে গ্রুপ আর চট্টগ্রামে সাপ্লাই দিয়েছে এস আলম আর সিটি গ্রুপ। অন্য যেসব ভোজ্য তেলের প্রতিষ্ঠান আছে যেমন, রূপচাঁদা ও বসুন্ধরাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, তারা তেল সরবরাহ করেনি। আর যারা দিয়েছে তারা সর্বনিম্ন সরবরাহ করেছে। এ কারণে বাজারে তেলের সংকট হয়েছে। মিলেও তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, মিলগু?লো সরবরাহ ঠিক রাখলেও ডিলার, পাইকার ও খুচরা দোকা?নিরা চাহিদা অনুযায়ী তেল বিক্রি করছেন না। তারা মজুত করে বাজা?রে সংকট সৃষ্টি করছেন। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকাঃ সাবেক অর্থমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সংগ্রামী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর নেই। শুক্রবার (২৯ এপ্রিল ২০২২) দিবাগত রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে বৃহত্তর সিলেটের এই কীর্তিমান পুরুষের জীবনবসান ঘটে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, লেখক এবং ভাষাসৈনিক। ছিলেন রবীন্দ্র গবেষক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম জানাজা সকাল ১১টায় গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ প্লাজায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দ্বিতীয় জানাজার কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হবে। এরপর দাফনের জন্য মরদেহ নেওয়া হবে জন্মস্থান সিলেটে।
বর্ণাঢ্য জীবন
আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৩৪ সালের ২৫শে জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সিলেট জেলা মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ও সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরীর ১৪ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান মুহিত

স্ত্রী সৈয়দা সাবিয়া মুহিত একজন ডিজাইনার। তিন সন্তানের মধ্যে কন্যা সামিনা মুহিত ব্যাংকার ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ। বড় ছেলে সাহেদ মুহিত বাস্তুকলাবিদ এবং ছোট ছেলে সামির মুহিত শিক্ষক।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া আবদুল মুহিত বরাবরই একজন মেধাবী মানুষ ছিলেন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। পরের বছর একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে অংশ নেন ভাষা আন্দোলনে। ছাত্রজীবনে সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

১৯৫৬ সালে আবদুল মুহিত যোগ দেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি)। সিএসপিতে যোগ দিয়ে তিনি ওয়াশিংটন দূতাবাসে পাকিস্তানের কূটনীতিকের দায়িত্ব নেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের জুনে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করেন। ওই সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।সিএসপি হওয়ার পর মুহিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, কেন্দ্রীয় পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে তিনি পরিকল্পনাসচিব হন। এর আগে পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশনের উপসচিব থাকাকালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্যের ওপর ১৯৬৬ সালে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন তিনি। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে এটিই ছিল এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় তিনি পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ সালে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সদস্য হলে সেপ্টেম্বরে মুহিত হন বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের পক্ষে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা গ্রুপের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক।

১৯৭৭-৮১ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ছিলেন তিনি এবং ১৯৮১ সালে স্বেচ্ছায় সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন। ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে তাঁকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী করার প্রস্তাব দিলে তিনি শর্ত সাপেক্ষে রাজি হন। শর্তটি ছিল নির্দলীয় সরকার গঠন করে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
এরশাদ কথা না রাখলে দুই বছরের মাথায় মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মুহিত। এরপর তিনি বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সরকার তাঁকে ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করে। স্বাধীনতাযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তা দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয়ে মুহিত বই লিখেছেন ৪০টি।
অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত এ পর্যন্ত ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যার ১০টি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় একটি হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে হু হু করে পানি ঢুকছে। উপজেলা প্রশাসন বলছেন অধিকাংশ ধানই ইতোমধ্যে কৃষকরা তুলে ফেলতে পেরেছেন।

জেলার নদ নদী ও অন্য হাওরের পানি বৃদ্ধির মধ্যেই বাঁধটি ভেঙ্গে গেলো অথচ এ বাঁধটি এবার বোরো মৌসুমে সংস্কার করা হয়েছিলো। বাংলাদেশে বোরো মৌসুম শুরু হয় বাংলা কার্তিক ও ইংরেজি অক্টোবর নভেম্বর মাসে।

শাল্লার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তালেব বলছেন উপজেলার বাহারা ইউনিয়নে বাঁধের যে অংশ নিয়ে তারা চিন্তিত ছিলেন সেখানে না ভেঙ্গে একটি ভালো অংশে ভেঙ্গে গেছে।

“গতকাল তিন ঘণ্টা ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাত হয়েছে। সে সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে। লোকজন ছিলো না, ফলে কেন ভালো জায়গাটায় ভেঙ্গে গেলো বুঝতে পারছি না,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন বাঁধ ভাঙ্গলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই কারণ এ হাওর এলাকায় থাকা জমির ৯৫ ভাগ ধান ইতোমধ্যেই কৃষকরা তুলে ফেলেছেন।

জানা গেছে এ হাওর এলাকায় মোট ৪ হাজার ৬৩৭ একর জমিতে ধান ছিলো যার মধ্যে ৪ হাজার ৪০৫ একর জমির ধান তুলে ফেলেছে কৃষকরা।

আর কী পরিমাণ পানির নিচে আছে সেটি জানতে এখন জেলা কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি অফিসের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম।

তবে এই হাওরের বাঁধ ভাঙ্গলেও জেলার অন্য কোন হাওর এলাকার জমির ক্ষতির কোন আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

“আমরা বিকেল নাগাদ বুঝতে পারবো কতটা ধান এখনো পানির নীচে আছে। আর এ পানির ঢল নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি হয়ে কিশোরগঞ্জের দিকে চলে যাবে। এখানকার আর কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না,” বলছিলেন তিনি।

ফসল কাটার বার্তা ছিলো আগেই

মূলত ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার কারণে চলতি মাসের শুরুতেই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিলো যে পানির ঢল বাংলাদেশের হাওর এলাকায় আসতে শুরু করবে।

এই বার্তা পেয়ে কৃষকদের সব পাকা ফসল দ্রুত তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ এবং একই সাথে আগের দফার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো সংস্কারের কাজ শুরু করেছিলো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন যে দেশে ৯৫টি হাওর আছে এবং এর মধ্যে ৪৩টি হাওরের বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

এর আগে মার্চ মাসেই সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বেশ কিছু হাওর এলাকা তলিয়ে গিয়েছিলো বন্যার পানিতে।

হাওর এলাকার একটি অংশ।

ওই ঢলে প্রায় ৪হাজার ৩শ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। দেশে হাওর এলাকার প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার একর জমিতে এবার ধানের চাষ হয়েছে।

তবে নতুন করে পূর্বাভাস পেয়ে কিছু এলাকায় মানুষজন নিজ উদ্যোগে বাঁধ ঠিক করার চেষ্টা করছে এমন খবরও এসেছে গণমাধ্যমে।

এর মধ্যে বেশ কিছু বাঁধের পানির অবস্থান বিপজ্জনক অবস্থায় ছিলো এবং কোথায় কোথায় অল্প অল্প করে পানি ভেতরে প্রবেশ করছিলো।

এর মধ্যেই অনেক জায়গায় বাঁধ সংস্কারের কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তবে শাল্লায় যেখানে বাঁধ ভেঙ্গেছে সেখানে বাঁধ ভাঙ্গতে পারে এমন ধারণাই কারও ছিলো না। বিবিসি বাংলা

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail