Home Author
Author

uadmin

ঢাকা: আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

মঙ্গলবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সামনে রেখে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

এনআইডি পাওয়া জন্য মানুষের উৎসাহ আছে,  কিন্তু ভোটের মাঠে কেন মানুষ যায় না— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আমাদের দায়িত্ব ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। আমাদের কর্মীরা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে মাঠে যাবে। আপনি যেই প্রশ্নটা করেছেন, সেই প্রশ্নের কোনো মন্তব্যই আমি করব না।

ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে যে আলোচনা হচ্ছে সেটি নিয়ে কী করবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সেটি নিয়ে পত্রিকায় আসছে এবং আমাদের বক্তব্যগুলো আপনাদেরকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব আমাদের। হয়তো আপনারা বলতে পারেন যে, প্রধানমন্ত্রী একটি বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জন থেকে বক্তব্য আসতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নাকি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেছেন বিষয়টি এখনও স্পষ্ট না। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলা, বিএনপির প্রধান বলা, জাসদের আবদুর রব বলা এগুলো ভিন্ন জিনিস।

সিইসি বলেন, সব থেকে বড় কথা যেটি স্পষ্ট করে বলতে চাচ্ছি, অনেকে ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন, সদিচ্ছা ব্যক্ত করতে পারেন আর ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আমরা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। ইতোমধ্যে আমরা নিজেরা অনেকগুলো সভা করেছি, আগামীতে আরও সভা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে আমাদের। ভোট স্বাধীনভাবে আমরা পরিচালনা করব যতদূর সম্ভব। এটা আমাদের এখতিয়ারভূক্ত, ভোটের পদ্ধতিও আমাদের এখতিয়ারভূক্ত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত আমাদের ওপরই থাকবে। মতামত আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। আপনিও মতামত দিতে পারেন, রাস্তায় কেউ মতামত দিতে পারেন, রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিতে পারবেন। আল্টিমেটলি আমরা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব ভোট কোন পদ্ধতি ও কেমন হবে। সেটি আমাদের বিষয়। এই বিষয়ে আমরা স্বাধীন।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সব আসনে ইভিএমে ভোট করার মত এখন আমাদের সামর্থ্য নেই। ৩০০ আসনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা এখনও নেইনি। ভোট ব্যালটে হবে না ইভিএমে, কতটি আসনে ইভিএমে হবে এই বিষয়ে কমিশন এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের শুদ্ধ ও সিদ্ধভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, শুদ্ধ ও সঠিক ভোটার তালিকা ছাড়া প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যুগান্তর

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: মানব জমিন:: শ্রীলঙ্কায় সামরিক বাহিনী ও পুলিশের হাতে জরুরি ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে। এই ক্ষমতার ফলে তারা যেকোনো লোককে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারবে। সোমবার সহিংসতায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ২০০ লোক আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। সহিংসতার কারণে প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তার পদত্যাগেও সহিংসতা বন্ধ হয়নি। ক্ষুব্ধ জনতা তারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হেনস্থার শিকারও হয়েছেন। বিক্ষোভকারীর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসের পদত্যাগ দাবি করছে।

ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন রাজাপাকসে!
শ্রীলঙ্কার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপাকসে প্রাণ বাঁচাতে ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোররাতে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে তার বাসভবন থেকে সরিয়ে নেয় সেনাবাহিনী। তবে বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোতে নতুন করে সহিংসতা না হলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রাজাপাকসার বাসভবনে হামলা
মঙ্গলবার সকালে রাজপাকসের সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। তারা কলম্বোর টেম্পল ট্রিজ নামের বাসভবনের মূল দোতলা ভবনে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিল। রাজাপাকসে ও তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য রাজপাকসের বাসভবনে পৌঁছে সপরিবার তাকে উদ্ধার করে। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভোরেই সপরিবার রাজাপাকসেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে খোলসা করেননি তিনি। যদিও সূত্রের খবর, ত্রিঙ্কোমালিতে নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন রাজাপাকসে।

এর আগে জনতা হাম্বানতোতায় রাজাপাকসাদের পৈত্রিক বাসভবনটি জ্বালিয়ে দেয়।

ঠিকমতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হলে এই ঘটনা ঘটত না : অর্জুন রানাতুঙ্গা
শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার অর্জুন রানাতুঙ্গে বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন মানুষ। কিন্তু তাদের ওপর যেভাবে আক্রমণ করা হলো তা অপ্রত্যাশিত। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। বিভোক্ষকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেনি। যদি ঠিক মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হতো, তা হলে এই ঘটনা ঘটত না।

থমথমে কলম্বো
সোমবারে ঘটনার পর থেকেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানী কলম্বোতে। ওই দিন কারফিউ উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছিল হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। দোকান, বাড়ি, সরকারি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। হামলা চালানো হয় সরকারপক্ষের এমপি এবং নেতাদের বাড়িতে।

এদিকে বিক্ষোভকারী এবং শ্রীলঙ্কার ধর্মীয় নেতারা রাজাপাকসের পরিবারের সমর্থকদের বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য উস্কানি দেয়ার জন্য দোষারোপ করেন। তারা বলেন, ওই হামলার জন্যই প্রতিশোধমূলক হামলার জন্ম নিয়েছে।

বাড়িতে আগুন এবং গুলি
সোমবার দিনভর বিক্ষোভের পর রাত গভীর হতে থাকলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সরকার সমর্থক এবং সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করেন।

শ্রীলঙ্কার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কলম্বোর উপকণ্ঠে একজন সরকার দলীয় এমপি অমরাকীর্তি আথুকোরালার গাড়িতে হামলা চালালে তিনি দুজনকে গুলি করেন। এতে একজন মারা যান।

এরপর সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই সংসদ সদস্য।

রাত বাড়ার সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজাপাকসের বাড়িতে, বিভিন্ন মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মন্ত্রী সানাৎ নিশান্তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যে হাম্বানটোটায় রাজাপাকসের পরিবারের নিজস্ব একটি বাড়ি যা একটি বিতর্কিত জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছিল, সেটিও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বাড়িগুলো ঘিরে আগুনের লেলিহান শিখা ঘিরে মানুষজন উল্লাস করছে।

প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের চারপাশের এলাকাতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিবিসির আনবারাসন এথিরাজন জানাচ্ছেন, কলম্বোজুড়ে উত্তেজনা চলছে। দেশটির বিমানবন্দরে যাওয়া এবং আসার সড়কগুলোতে লাঠি এবং রড নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে ওই রাস্তাগুলোতে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যেমন উপস্থিতি দেখা যায়, এখন তা দেখা যাচ্ছে না।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট পাড় করছে শ্রীলঙ্কা। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষুব্ধ। সরকার জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য কোভিডকে দায়ী করেছে সরকার, মহামারিতে দেশটির পর্যটন বাণিজ্য যা শ্রীলঙ্কার অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক আয়ের উৎস, তা প্রায় ধসিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করেন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাই এর অন্যতম কারণ।

সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি, আনন্দবাজার পত্রিকা

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: চলমান আন্দোলনের মধ্যে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে। অল্পক্ষণ আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ খবর দিয়েছে দেশটির অনলাইন ডেইলি মিরর। এমন এক সময়ে তিনি পদত্যাগ করলেন যখন দেশে সরকারবিরোধীদের আন্দোলনকে দমন করতে জারি আছে কারফিউ। তা অমান্য করে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ জনতা। রাজধানী কলম্বো ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে সরকারপন্থি সমর্থকরা। এর আগে শুক্রবার চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে নিজের ভাই ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসেকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দেন প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসে। জবাবে মাহিন্দ রাজাপাকসে এসএলপিপি এমপিদের কয়েকজনকে জানান, তিনি আজ সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিদেশি ঋণনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলায় শ্রীলঙ্কা এখন সরকারিভাবে দেউলিয়া। বিদেশিদের কাছে দেশটির আছে ৫১০০ কোটি ডলারের ঋণ। এই ঋণ শোধ দেয়ার সামর্থ নেই তাদের।

ফলে সরকারিভাবে বিদেশি দাতাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে দেউলিয়াত্বের কথা। আর্থিক সঙ্কট অক্টোপাসের মতো চারদিক থেকে আঁকড়ে ধরেছে দেশটিকে। চারদিকে শুধু নেই আর নেই। যাওবা নিত্যপণ্য পাওয়া যায়, তার দাম আকাশচুম্বী। সরকার অত্যাবশ্যক পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হাত দিয়েছে বৈদেশিক রিজার্ভে। তাও প্রায় শেষের পথে।
এ অবস্থায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সাধারণ মানুষের। তারা দীর্ঘ সময় নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে যোগ দিয়েছেন সরকার দলীয় কিছু সদস্য, কিংবদন্তি সাবেক ক্রিকেটাররা, চিকিৎসকরা আর মন্ত্রীসভা থেকে একযোগে পদত্যাগ করেন ২৪ জন। জোর করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন গোটাবাইয়া ও মাহিন্দ রাজাপাকসে ভ্রাতৃদ্বয়। কিন্তু মানুষের পেটে খাবার না থাকলে, অসুখে চিকিৎসা না পেলে যা হয়, তাই হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে কারফিউয়ের মধ্যেও রাস্তায় নেমে পড়েছেন। তার ওপর চালানো হয়েছে হামলা। এ সময়েই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকাঃ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ চায় সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হোক। বিএনপির জন্ম পেছনের দরজা দিয়ে, তারপরও আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।

রোববার দুপুরে রাজধানীতে সিরডাপ মিলনায়তনে মা দিবস উপলক্ষে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আয়োজিত ‘গরবিনী মা’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় আওয়ামী লীগের গতকালের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবেই দলের সম্মেলন হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন উপকমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এবং তিনি বলেছেন, আমরা বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের জন্য বিএনপির দাবির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকারের কোনো সম্ভাবনা নেই। পৃথিবীর গণতান্ত্রিক দেশ ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ কন্টিনেন্টাল ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকান, সবখানে নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করে।

তাছাড়া, নির্বাচন কখনো সরকারের অধীনে হয় না, নির্বাচন কমিশনের অধীনে হয় এবং নির্বাচনকালে সরকারের সবার চাকরি নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যাস্ত হয়। সুতরাং বিএনপিকে আসলে নির্বাচন ভীতি পেয়ে বসেছে। এই ভীতির ফলে তারা যে কেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করলো না, সেটিই অনেকের প্রশ্ন। এসময় রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-আরএসএফের প্রতিবেদনে মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানের নিচে দেখানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, এটি একটি বিদ্বেষমূলক প্রতিবেদন। আফগানিস্তানে যেখানে টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনের কারণে নারী সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়, যেখানে সাংবাদিকরা কোনভাবেই কাজ করতে পারে না, সেই আফগানিস্তানের নিচে বাংলাদেশের অবস্থান দেওয়ার মাধ্যমে আরএসএফ নিজেরাই প্রমাণ করেছে যে, তারা বিদ্বেষপ্রসূত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক রেলপথের ঘটনায় ‘রেলমন্ত্রী কথিত আত্মীয়দের চেনেন না’ এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, আমি মনে করি না যে মন্ত্রী মিথ্যা বলেছেন

আমার স্ত্রীর আত্মীয় সবাইকে আমি চিনি না, আমরা কেউই সব আত্মীয়কে চিনি না। পাশাপাশি আমি এটাও মনে করি যে, মন্ত্রী মহোদয়ের স্ত্রীর নির্দেশে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন নয়। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আশীষ কুমার চক্রবর্তীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত দশজন মায়ের সন্তানেরা বক্তব্য রাখেন।

 

গরবিনী মা হিসেবে নাদেরা বেগম, সাজেদা খাতুন, তাসকিনা ফারুক, জ্যোৎস্না রানী ধর, লুৎফা বেগম, আখতারা খানম, ঝর্ণা ঘোষ, সুরাইয়া চৌধুরী, শারমিন আকতার ও প্রতিমা রানী দাশের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশ্ব মা দিবসে সকল মায়েদের প্রতি এবং বাবাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একজন মা যেভাবে সন্তানকে মানুষ করার জন্য যে কষ্ট করে, সেটা অন্য কেউ করে না। মায়ের ভালোবাসার সাথে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। একটি আলোকিত জাতি গঠন করতে আলোকিত মা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের সরকার মা-বাবার ভরণপোষণের জন্য বিশেষ আইন করেছে। মা-বাবার ভরণপোষণ যদি না করা হয়, তাহলে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন করা হয়েছে। সে আইনের সুযোগ নিয়ে মামলাও করেছে অনেকে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই এটি হয়েছে। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: নিজ বাসায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় পা কেটে গেছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার। রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে। মাশরাফির পায়ে ২৭টি সেলাই পড়েছে।
জানা গেছে, ঘরে থাকা একটি কাঁচের টেবিলে সঙ্গে ধাক্কা লেগে পায়ের পেছনে কেটে যায় মাশরাফির। পরিবারের সদস্যরা দ্রুতই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। তার পারিবারিক সূত্র বলেছে, ‘বাসায় কাঁচের টেবিলে ধাক্কা লেগেছিল। কাঁচ ভেঙে পায়ের পেছনের অংশে গুরুতর জখম হয়েছে। এখন তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পায়ে আঘাত পাওয়ার জায়গায় ২৭টি সেলাই লেগেছে। দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মাশরাফি।’ মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুৎফুর রহমান। ভোট গণনা শেষে গতকাল শুক্রবার, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা  ৬টা ১৫ মিনিটে ক্যানারি ওয়ার্ফের ইস্ট  উইন্টার গার্ডেনে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সাবেক মেয়র বাংলাদেশি লুৎফুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

তার প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজার ৮২৪টি। তিনি ৭ হাজার ৩৯৭ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান লেবার দলের মেয়র জন বিগস পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৮৭ ভোট। লুৎফুর রহমানের বিজয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ বিরাজ করছে। এই বিজয়ে দেশটিতে আরেকটি ইতিহাস রচিত হলো। গত বৃহস্পতিবার (৫মে) সকাল ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০ টায় শেষ হয়। ভোট উৎসব উপলক্ষে টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও ইংলিশদের মধ্যে তুলনামূলক কম উৎসাহ লক্ষ করা গেছে।

দেশটির রাজধানী লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বারা ২০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। তিন লক্ষের উপরে বিভিন্ন জাতি, বর্ণের মানুষের বসবাস এ বারায়। দুই লক্ষ পাঁচ হাজার ভোটারের মধ্যে ৮৬ হাজার ৯ ভোট কাস্ট হয়েছে

কোনো প্রার্থী ৫১ পার্সেন্টের উপরে ভোট না পাওয়ায় ২য় চয়েজে ভোট গণনা করা হয়।  গণনার পর লুৎফুর রহমানকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।  নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বলেন, আমি সবার মেয়র। সকলের জন্য আমি কাজ করতে চাই। কথায় নয়, কাজ দিয়ে আমি আমার বারার মানুষের ঋণ শোধ করতে চাই।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী।

ঢাকা: সরকারবিরোধী ধর্মঘটে কার্যত অচল শ্রীলঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে আবারও জরুরি অবস্থা জারি করেছেন লঙ্কান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে। গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিলেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বলেন, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের চলা ধর্মঘটের কারণে দোকানপাট, গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে গেছে। জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া জরুরি আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শুক্রবার (৬ মে) রাজধানী কলম্বো ছাড়াও অন্যান্য শহরে ধর্মঘটে নামে হাজার হাজার মানুষ। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে গোটাবায়া সরকারকে দায়ী করে অবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী পার্লামেন্ট ভবন ঘেরাও করতে গেলে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটে অসংখ্য স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। গণপরিবহণ বন্ধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হচ্ছে জরুরি অবস্থা।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে কাটাতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে। আমদানিকৃত খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের ঘাটতিতে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেমে থেমে সরকারবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্যবহার করার মতো মাত্র ৫ কোটি মার্কিন ডলার রিজার্ভ আছে শ্রীলঙ্কার। এতেও পদত্যাগ করছেন না প্রেসিডেন্ট।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঘূর্ণিঝড় – প্রতীকী ছবি

ঢাকা: দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় যে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তা ঘূর্ণিঝড় অশনিতে রূপ নেয়ার পর ভারতের উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অধিফতরের আবহাওয়াবিদ মো: তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, এখন পর্যন্ত এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপেই আছে। লঘুচাপটি এখন দক্ষিণ আন্দামান সাগরের আশপাশেই অবস্থান করছে এবং সেখানে অবস্থান করেই আরো ঘণীভূত হচ্ছে। আমরা নিবিড়ভাবে মনিটরিং করছি।তিনি বলেন, আজ শনিবার বিকেলে সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এরপর এটি গভীর নিম্নচাপ হয়ে রোববার বিকেলের দিকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

অশনি’র গতিপথ নিয়ে নেওয়াজ কবির বলেন, এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূল দিয়ে যেতে পারে। বর্তমান হিসেব অনুযায়ী দেশের খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে অশনির প্রভাব পড়বে।

এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপটি দ্রুত নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগোতে পারে। তবে এখনি বলা যাচ্ছে না অশনি শেষ পর্যন্ত কেমন শক্তি নিয়ে কোথায় আঘাত করতে পারে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: রুশ সেনারা ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রাজধানী কিয়েভের নিকটবর্তী শহরগুলো দখলের সময় তারা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে। এছাড়া রুশ সেনাদের নানা অত্যাচারের শিকার হয়েছে সাধারণ ইউক্রেনীয়রা। এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।

কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলন করে রিপোর্টটি প্রকাশ করেন অ্যামনেস্টির সিনিয়র ক্রাইসিস এডভাইজার ডনাটেলা রোভেরা। সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, আমরা যেসব প্রমাণ পেয়েছি তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রুশ সেনারা যেই গ্রাম বা শহরই দখল করেছে, একই প্যাটার্নে নির্যাতন চলেছে। আমরা যেসব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছি তা দিয়ে পরবর্তিতে অভিযুক্তদের শাস্তির মুখোমুখি করা যাবে। আজ সম্ভব না হলেও, ভবিষ্যতে কোনো একদিন অবশ্যই হবে।

যদিও রাশিয়া প্রথম থেকেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি তারা শুধু সামরিক স্থাপনা টার্গেট করেই হামলা চালাচ্ছে

এ জাতীয় অভিযোগকে পশ্চিমাদের প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধের অংশ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো। তবে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ বলছে, রুশ সেনারা প্রায় ৯ হাজার যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

অ্যামনেস্টির রিপোর্টে বলা হয়েছে, রুশ সেনারা বুচা শহরে অনেক মানুষকে বে-আইনিভাবে হত্যা করেছে। এসব ঘটনা ঘটেছে মূলত ইয়াবলুনস্কা এবং ভদোপ্রোভিন্দা নামের দুটি রাস্তার কাছে। এরকম মোট ২২টি কেস নিয়ে কাজ করছে মানবাধিকার সংস্থাটি। আকাশ থেকে চালানো রুশ হামলায় ৪০ বেসামরিক নিহতের অভিযোগও তদন্ত করছে তারা। এর আগে বুচা হত্যা নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের কাছে প্রশ্ন তুলেছিল রয়টার্স। তখন পেসকভ জানিয়েছিলেন, বুচার কাহিনী পুরোটাই সাজানো এবং মিথ্যা।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ঈদের আগের দিন তেলেসমাতি দেখায় সয়াবিন। হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় বাজার থেকে। কারা এই কাণ্ডে জড়িত আর তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে এ নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা। এরই মধ্যে গতকাল দিনের শেষ দিকে এসে বড় খবর দিলো বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর মিল মালিকদের ওই সংগঠন জানায়, বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা করা হয়েছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম হবে ৯৮৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৮০ টাকা, যা এতদিন ১৪০ টাকা ছিল। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পরিশোধিত পাম সুপার তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১৭২ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৩০ টাকা।
এর আগেও কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ মূল্যের কারণে অনেকে সয়াবিন তেলের ব্যবহারও কমিয়ে দেন। খুবই অল্প পরিমাণ সয়াবিন তেল কেনার ছবিও ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে

গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্য তেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৭ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৪৩ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে মিল মালিকরা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গেলেও সরকার সায় দেয়নি। মার্চের মাঝামাঝিতে তেলের আমদানি, পরিশোধন ও বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের পর লিটারে ৭ টাকা করে দাম কমানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে এপ্রিল ও মে মাসে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিতে থাকেন মিল মালিকরা। ডিলার ও পাইকারি বিক্রেতারাও তেলের মজুত শুরু করেন। এসব ঘটনা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়ে।
ঈদের আগে তেলেসমাতি
ঈদের আগের দিন বাজারে ভোজ্য তেল কিনতে গিয়েছিলেন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমান। বাজারে গিয়ে দেখেন কোনো দোকানেই তেল নেই। শুধু একটি দোকানে একটি মাত্র কোম্পানির তেল পান। কিন্তু দাম চাওয়া হয় ২২০ টাকা লিটার। এত দাম কেন- জিজ্ঞেস করলে দোকানদার জানান ‘এমনিতেই তেল নেই, এই দামে নিলে নেন না নিলে চলে যান।’ পরে বাধ্য হয়ে ২২০ টাকায় এক লিটার তেল কিনেন তিনি। ঈদের বিভিন্ন রান্না-বান্নায় তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় গতকাল আবার বাজারে আসেন তেল কিনতে। কিন্তু কয়েকটি দোকান ঘুরেও তেল পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি দোকানে এক লিটারের বোতল পান। কিন্তু দাম নেয়া হচ্ছে ২২০ টাকা। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামেই এক লিটার তেল কিনেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তিনি জানান, শুধু বসুন্ধরা ও তীর কোম্পানির অল্প কিছু তেল দুই একটি দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় সবাই এক লিটার করে কিনছেন। ঈদের আগেও এই পরিস্থিতি ছিল। ভেবেছিলাম ঈদের পর কমবে। কিন্তু এখনো দেখছি বাজারে তেল নেই।
শুধু মিরপুর নয়, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশেই তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেয়া হয়। ঈদের বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীদের এই কারসাজি শুরু হয়। তবে ঈদের পরেও থেমে নেই তারা। এখনো সিন্ডিকেট করে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন অসাধুরা। অথচ রমজান মাসে তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। তবে এ দামে মিল মালিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করা হয়েছে। বেশির ভাগ কোম্পানিগুলো কোনো তেলই সরবরাহ করেনি। এই সুযোগে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলে তেলের অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন।
সরজমিন রাজধানীর কয়েকটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে অনেক ক্রেতারাই ভিড় করছেন তেলের জন্য। কৌশলে প্রথমে দোকানদার তেল নেই বললেও পরবর্তীতে জিজ্ঞেস করেন কয় লিটার লাগবে? অল্প কিছু তেল আছে, দাম পড়বে ২২০ টাকা লিটার। যারা এই দামে নিতে রাজি হচ্ছেন তাদেরকেই শুধু দোকানে লুকিয়ে রাখা তেল বের করে বিক্রি করছেন।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে। কিছু দোকানে আগের কিছু তেল রয়েছে। তবে বোতলের গায়ে দেয়া মূল্য ঘষে তুলে ফেলে দাম নেয়া হচ্ছে ২২০ টাকা লিটার। রাজধানীর ইব্রাহিমপুর বাজারের তেল বিক্রেতারা জানান, রোজার শুরু থেকেই চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না তারা। পাঁচ লিটার তেলের বোতল পাওয়া যায় না। এক ও দুই লিটার অল্প পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগেই তেল শেষ হয়ে গেছে। কোনো কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। অর্ডার করলে ডিলাররা দেয় না। আগের কিছু ছিল সেগুলোই বিক্রি করছি। তবে দাম বেশি কেন জিজ্ঞেস করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি কেউ।
তবে এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, সরকারের নির্ধারিত দামেই আমরা চাহিদা অনুযায়ী মিল থেকে ভোজ্য তেল সরবরাহ করছি। কোনো সংকট নেই। বিশ্ব বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। তাই আমাদের এখানেও বাড়বে এমন ভাবনায় ডিলার ও খুচরা দোকানিরা তেল বিক্রি না করে মজুত করছেন। পরে বেশি দামে বিক্রি করবেন এই আশায় আছেন তারা। এজন্যই তারা তেলের সরবরাহের সংকট আছে বলে অজুহাত দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক থাকলে তেলের এ সংকট দেখা দিতো না। প্রতিটি মার্কেটে ডিস্ট্রিবিউটর দিয়ে রেখেছে, তারা কি চাহিদা অনুযায়ী তেল পেয়েছে? তাহলে কীভাবে তারা দাবি করছে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক আছে? মিলগুলো অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেরা ভালো থাকতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, তেলের মূল সমস্যা হলো, সরকার রমজান মাসে ১৬০ টাকা লিটার দাম বেঁধে দিয়েছিল। এ দামে মিল মালিকরা সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা আরও বেশি দামে তেল বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার রোজায় তা করতে দেয়নি। তাই তারা সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে সংকট তৈরি করেছে। এখন বিভিন্ন পক্ষের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। সরকার যদি ওই সময় তেলের দাম বাড়িয়ে দিতো তাহলে দাম বেশি হলেও এই সংকট তৈরি হতো না।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশির ভাগ ভোজ্য তেল বাল্ক আকারে বিক্রি হয়। কিন্তু অধিকাংশ মিল বাল্কে তেল বিক্রি করেনি। ঢাকায় বাল্কে তেল বিক্রি করেছে তিনটি মিল। এর মধ্যে সিটি, মেঘনা, টি কে গ্রুপ আর চট্টগ্রামে সাপ্লাই দিয়েছে এস আলম আর সিটি গ্রুপ। অন্য যেসব ভোজ্য তেলের প্রতিষ্ঠান আছে যেমন, রূপচাঁদা ও বসুন্ধরাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, তারা তেল সরবরাহ করেনি। আর যারা দিয়েছে তারা সর্বনিম্ন সরবরাহ করেছে। এ কারণে বাজারে তেলের সংকট হয়েছে। মিলেও তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, মিলগু?লো সরবরাহ ঠিক রাখলেও ডিলার, পাইকার ও খুচরা দোকা?নিরা চাহিদা অনুযায়ী তেল বিক্রি করছেন না। তারা মজুত করে বাজা?রে সংকট সৃষ্টি করছেন। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail