Home Author
Author

uadmin

ঢাকা: পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান রবিবার তার ‘লংমার্চ’ স্থগিত করেছেন। এক নারী পাকিস্তানি সাংবাদিক সাদাফ নাঈম, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরে তার কন্টেইনারের নীচে পিষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পরে এই সিদ্ধান্ত নেন ইমরান খান।

লংমার্চটি যখন লাহোর জিটি রোড থেকে কামোকে যাচ্ছিলো তখন একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলে কর্মরত সাংবাদিক নাঈম মারা যান। তার সমর্থকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে খান বলেন, মিছিলটি গুজরানওয়ালার কামোকে অভিমুখে যাওয়ার কথা ছিল। তবে, দুঃখজনক ঘটনার কারণে আমরা অবিলম্বে পদযাত্রা বন্ধ করলাম।

খান নিহতের পরিবারের প্রতি তার সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন যে, তিনি নাঈমের বিদেহী আত্মার জন্য প্রার্থনা করবেন। খান টুইট করে লিখেছেন- ‘আমাদের আজকের মার্চে চ্যানেল ৫-এর রিপোর্টার সাদাফ নাঈমের সঙ্গে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে আমার গভীরভাবে শোকাহত। আমার দুঃখ প্রকাশ করার ভাষা নেই। এই দুঃখজনক সময়ে পরিবারের প্রতি আমার প্রার্থনা ও সমবেদনা রইলো। আমরা আজকের জন্য আমাদের মার্চ বাতিল করেছি’। সোমবার চতুর্থ দিনে কমোকে থেকে লংমার্চ শুরু হবে। এর আগে তৃতীয় দিন শেষে গুজরানওয়ালা পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

দুনিয়া টিভি জানিয়েছে , সাদাফ তার টিভি চ্যানেলের জন্য খানের সাক্ষাৎকার নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সাংবাদিকের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, তিনি এই প্রতিবেদকের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘লংমার্চের কন্টেইনার থেকে পড়ে রিপোর্টার সাদাফ নাঈমের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই মর্মান্তিক ঘটনা আমি মেনে নিতে পারছি না। পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা রইলো। সাদাফ নাঈম একজন গতিশীল ও পরিশ্রমী রিপোর্টার ছিলেন।’

তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব সাদাফের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন  যে কীভাবে খানের ব্যবহৃত কনটেইনারবাহী ট্রাকটি প্রতিবেদককে চাপা দিল?  তিনি অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘আমি  নাঈমকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি একজন কঠোর পরিশ্রমী সাংবাদিক ছিলেন। ইমরান খানের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে, আমি  হতবাক।’

পিএমএল-এন সহ-সভাপতি মরিয়ম নওয়াজও ঘটনার নিন্দা করেছেন এবং সাদাফ ও তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা করেছেন। রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভিও মৃত সাংবাদিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস/মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সোল শহরে হ্যালোউইন উৎসব উদযাপনের জন্য সমবেত হওয়া বিপুল জনতার ভিড়ে চাপা পড়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ১৫৩ জন নিহত এবং আরো ১৫০ জন আহত হয়েছে। বিবিসি/ আল-জাজিরা

মৃতদের অধিকাংশের বয়স কুড়ির কোঠায় বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। মৃতদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিকসহ ১৯ জন বিদেশি রয়েছেন।

সোলের পুলিশ বলছে এখনো পর্যন্ত ৩৫৫ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

বেঁচে যাওয়া অনেকেই বলছেন, বেশি মানুষ সরু গলিতে জড়ো হয়েছিলেন, একে অপরের গায়ে লেপ্টে ছিল মানুষজন। তারা একসময় আর নি:শ্বাস নিতে পারছিলেন না।

ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর দেশটিতে এটি ছিল উন্মুক্ত স্থানে প্রথম হ্যালোউইন অনুষ্ঠান।

ভিড়ে চাপা পড়ে আহত একজনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ভিড়ে চাপা পড়ে আহত একজনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শহরের একজন চিকিৎসক, যিনি ঘটনার সময় চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছিলেন তিনি বলছেন, মৃতের সংখ্যা এত দ্রুত বাড়ছিল যে সেখানে চিকিৎসা সহায়তা দিতে আসা কর্মীরা সামাল দিতে পারছিলেন না।

স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি বলেছেন, “প্রথমে আমি রাস্তায় পড়ে থাকা দুইজনকে প্রাথমিক সহায়তা দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেল। ভাষায় বুঝিয়ে বলা খুব কঠিন। এই ঘটনার শিকার এতগুলো মুখ পুরো ফ্যাকাসে, আমি তাদের পালস পাচ্ছিলাম না, তাদের অনেকের নাক রক্তাক্ত ছিল।”

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল দেশটিতে জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেছেন, “আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। এই শোক কাটিয়ে ওঠা কঠিন।”

“মানুষের জীবন ও তার নিরাপত্তার জন্য নিজের দায়” বোধ করছেন বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

এই সরু গলিতে ভিড়ে চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এই সরু গলিতে ভিড়ে চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্ব নেতারা এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।

সোল শহরের একটি জনপ্রিয় নৈশ বিনোদন এলাকা ইতেওন-এ হ্যালোউইন উদযাপনের জন্য প্রায় এক লক্ষ লোক সমবেত হয়েছিল বলে খবরে বলা হয়।

এক খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে একজন দমকল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই এলাকার একটি পাহাড়ের ওপরদিকে থাকা লোকেরা নিচে পড়ে গেলে একটি সরু গলিতে থাকা বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটলো তা তারা এখনো জানার চেষ্টা করছে। ঘটনা তদন্তে কাজ চলছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেছেন, ওই এলাকায় হাজার হাজার লোকের ভিড় জমে গিয়েছিল এবং ভিড়ে চাপা পড়া থেকে বাঁচতে তারা বড় রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিলেন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পেতে হরেক নামের রাজনৈতিক দল আবেদন করেছে। চার মাসের আবেদনের সময়সীমার শেষ দিন রবিবার (২৯ অক্টোবর) পর্যন্ত ৮০টি দল ইসিতে আবেদন জমা দিয়েছে। যাবতীয় তথ‌্য যাচাই-বাছাই করে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নতুন দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, নির্ধারিত সময়ে ৮০টি দলের আবেদন পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিবন্ধন যাচাই-বাছাই কমিটি প্রাথমিকভাবে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করবে। তারপর ইসির বিবেচনার জন্যে তা উপস্থাপন করা হবে।

শর্ত পূরণ করছে কিনা তা পরীক্ষা করতে নিবন্ধনযোগ্য দলগুলোর দলিলাদিও মাঠ পর্যায়ে পাঠানো হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারণে আলোচনায় থাকা গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, এবি পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। তেমনই নাকফুল, মুসকিল, ইত্যাদি রাজনৈতিক দলের নামও রয়েছে নিবন্ধনের জন্য জমা দেওয়া আবেদনের তালিকায়।

ইসিতে যেসব দল আবদেন করেছে সেগুলো হলো— নৈতিক সমাজ, বাংলাদশ মুক্তিযোদ্ধা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল রিপাবলিক পার্টি, মুসকিল লীগ, নতুন বাংলা, বঙ্গবন্ধু দুস্থ ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলন (বিজিএমএ), বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টি (কেএসপি), বাংলাদেশ ইত্যাদি পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট (পিডিএ), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বৈরাবরী পার্টি, বাংলাদেশ বিদেশ প্রত্যাগত প্রবাসী ও ননপ্রবাসী কল্যাণ দল, বাংলাদেশ জনমত পার্টি, বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ আম জনতা পার্টি, বাংলাদেশ ডেমোক্রেসি মুভমেন্ট (বিডিএম), বাংলাদেশ তৃণমূল জনতা পার্টি, এবি পার্টি, সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-(বিএনএম), বাংলাদেশ এলডিপি, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল গ্রিন পার্টি, বাংলাদেশ সর্বজনীন দল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগ, গণ রাজনৈতিক জোট-গর্জো, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস), নতুন ধারা বাংলাদেশ-এনডিবি, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় দল, জাতীয় জনতা পার্টি, কৃষক শ্রমিক পার্টি (কে. এস. পি), বাংলাদেশ তৃণমূল লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বি এল ডিপি), ভাসানী অনুসারী পরিষদ, নাকফুল বাংলাদেশ, মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ তৃণমূল কংগ্রেস, মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিজম ডেমোক্রেটিক পার্টি, রাজনৈতিক আন্দোলন, বাংলাদেশ জনতার অধিকার পার্টি, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি- বিএইচপি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএনজিপি), জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, যুব সেচ্ছাসেবক লীগ, ন্যাপ (ভাসানী), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী ন্যাপ), বাংলাদেশ জাতীয় লীগ (বিজেএল), বাংলাদেশ ইসলামিক গণতান্ত্রিক লীগ, বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় বঙ্গ লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি), বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি), জনতার অধিকার পার্টি (পি আর পি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি),বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা লীগ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জনস্বার্থে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় ইনসাফ পার্টি, সাধারণ জনতা পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি (বি.ইউ.আই.পি), বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট গ্রিন পার্টি, বাংলাদেশ গণ আজাদী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল (বিডিপি), মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড, গণ অধিকার পার্টি (পি আর পি), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বি এম জে পি) ও যুবসমাজ পার্টি।

সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন চালুর পর বর্তমানে ৩৯টি দল নিবন্ধিত রয়েছে। দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কমিশনের তিনটি শর্তের মধ্যে একটি পূরণ হলে একটি দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়। নতুন কোনও দলকে নিবন্ধন পেতে হলে শেষ শর্তটিই পূরণ করতে হয়।

২০০৮ সালে প্রথম নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। নবম সংসদের আগে ১২৬টি দল আবেদন করলেও  শর্ত পূরণ করে ৩৯টি দল নিবন্ধন পায়। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ৪৩টি দল আবেদন করে। আরও তিনটি দল ২০১৩ সালে নিবন্ধন পায়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ৭৬টি দল আবেদন করলেও একটি দলও নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়নি। অবশ্য, আদালতের আদেশে তখন দু’টি দল নিবন্ধন পায়।

সব মিলিয়ে ৪৪টি দল নিবন্ধন পেলেও ফ্রিডম পার্টি, জামায়াতে ইসলাম, জাগপা, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন ও পিডিপির নিবন্ধন বাতিল হয়। এখন ৩৯টি দল নিবন্ধিত রয়েছে।

ইসি আলমগীর যা বলছেন

রবিবার নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অফিসারদের দিয়ে কয়েকটা কমিটি করে দেবো। সেখানে আমাদের সংবিধান ও আরপিও-সহ যে সব বিষয় আছে, তার আলোকে দলগুলো যেসব তথ্য ও ডকুমেন্ট দিয়েছে, তা কমিটি পরীক্ষা করে দেখা হবে। আইনি যেসব শর্ত আছে, সেসব শর্ত পূরণ করলো কিনা, সেগুলো দেখতে হবে।’

তিনি জানান, কোনও শর্ত যদি অপূর্ণ থাকে, তাহলে তাকে নিবন্ধন দেওয়ার সুযোগ নেই। সব শর্তই পূরণ করতে হবে।

ইসি আলমগীর বলেন, ‘হয়তো কালকে কমিশন সচিবালয় ফাইল তুলবে। এরপর তারা যাচাই-বাছাই করে দেখবে। তারপর আমাদের কাছে দেবে। আমরা যদি কাগজপত্র দেখে মনে করি, আরও যাচাই করতে হবে, তাহলে সেটা করা হবে। আর যদি ১০০ ভাগ শর্ত পূরণ হয় নিবন্ধন পাবে। সব দলের জন্য সেই একই শর্ত।’

এই নির্বাচন কমিশনার জানান, যারা নিবন্ধন পাবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে, আর যারা পাবে না তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যে, কোন শর্ত পূরণ না করার জন্য তাদের নিবন্ধন দেওয়া হলো না।

শর্তগুলো হলো— ১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনও জাতীয় নির্বাচনে আগ্রহী দলটির যদি অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন, ২. যেকোনও একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেওয়া আসনগুলোতে মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পান। ৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকে।

একযুগে নিবন্ধন পেলো যারা

বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দলগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, গণতন্ত্রী পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, জাকের পার্টি, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি -বিজেপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় জয় পেলো বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৩ রানে হারিয়েছে টাইগাররা।

বাংলাদেশের দেয়া ১৫১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৪৭ রান জড়ো করতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে। ২০তম ওভারের শেষ বলে জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ছিল ৫ রান। মোসাদ্দেক হোসেনের করা বলে ব্লেসিং মুজারাবানি এগিয়ে এসে খেলতে নিলে স্ট্যাম্পিং করেন নুরুল হাসান সোহান। উল্লাসে ভাসে টাইগার সমর্থকরা। তবে খানিক বাদেই সেটিকে নো বল ঘোষণা করেন থার্ড  আম্পায়ার। স্ট্যাম্পিং করার সময় সোহান স্ট্যাম্পের সামনে হাত নিয়ে এসেছিলেন। পুনরায় ফিল্ডিং করতে নামে বাংলাদেশ। তবে ফ্রি হিট পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। শেষ বলটি ডট দেন মোসাদ্দেক।

তাসকিনের পর মোস্তাফিজের জোড়া উইকেট

দীর্ঘদিনের উইকেটশূন্যতা কাটলো মোস্তাফিজুর রহমানের।

৬ষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসে জিম্বাবুয়ের দুই উইকেট নিলেন কাটার মাস্টার। মোস্তাফিজের শিকার মিল্টন শুম্বা (৮) ও সিকান্দার রাজা (০)। তাসকিন-মোস্তাফিজের তোপে ৩৫ রানে ৪ উইকেট নেই জিম্বাবুয়ের।

তাসকিনের জোড়া আঘাত

প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ওয়েসলে মাধভেরেকে (৪) ফিরিয়ে শুভ সূচনা করেন তাসকিন আহমেদ। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে আউট করলেন টাইগার পেসার। ৭ বলে ২ চারে ৮ রান নিয়ে ফিরলেন আরভিন। দলীয় ১৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারালো জিম্বাবুয়ে।

১৫১ রানের টার্গেট দিলো বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়েকে ১৫১ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫০ সংগ্রহ করেছে টাইগাররা। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান আসে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে। ৫৫ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৭১ রান করেন এই ওপেনার। ১৯ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ রান করেন আফিফ হোসেন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সংগ্রহ ২৩ রান।

জিম্বাবুয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি ২ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রিচার্ড এনগারাভাও।

শান্তর ফিফটিতে একশো পার

বিশ্বকাপ দলে নাজমুল হোসেন শান্তকে রাখায় অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সমালোচকদের সমুচিত জবাব দিয়ে ফিফটি হাঁকালেন টাইগার ওপেনার। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৫ বলে ৫ বাউন্ডারিতে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন শান্ত।

এর আগে দলীয় ৮৬ রানে তৃতীয় উইকেট হিসেবে সাজঘরে ফেরেন সাকিব আল হাসান। ২০ বলে ১ বাউন্ডারিতে ২৩ রান করেন টাইগার অধিনায়ক। ১৪.৪ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০০ রান।

৩২ রানে দুই উইকেট নেই বাংলাদেশের 

সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩২ রানে ২ উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা।

দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শূন্য হাতে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। এরপর লিটন দাস আউট হন ১২ বলে ১৪ রান করে। দু’জনই ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার।

৬ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৩ রান।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

সুপার টুয়েলভে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশ। ব্রিজবেনে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশ একাদশ
নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলী, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে একাদশ
ওয়েসলে মাধভেরে, ক্রেইগ আরভিন (অধিনায়ক), মিল্টন শুম্বা, সিন উইলিয়ামস, সিকান্দার রাজা, রেগিস চাকাভা, রায়ান বার্ল, ব্র্যাড ইভানস, টেন্ডাই চাতারা, রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

 ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বেনজীর আহমদ। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন পনিরুজ্জামান তরুন।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের নাম ঘোষণা করেন। নতুন কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদ আগের কমিটিতেও সভাপতি ছিলেন। তিনি ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য। পনিরুজ্জামান তরুন এর আগে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক অনেক টানা-হেঁচড়ার পর শেষ পর্যন্ত ৪৪০০ কোটি ডলারে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি টুইটার কিনে নিলেন।

মালিকানা পাওয়ার পর মি মাস্ক টুইট করেন “দি বার্ড ইজ ফ্রি (পাখি এখন মুক্ত)।” টুইটারের প্রতীক একটি পাখি।

কোম্পানির মালিকানা হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি টুইটারের ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধান নির্বাহী পরাগ আগরওয়াল এবং ঊর্ধ্বতন বেশ কজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

ইলন মাস্ক নিজেই এখন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পদটি নেবেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে।

মার্কিন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, টুইটারের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নেড সেগাল এবং আইন ও নীতি বিষয়ক প্রধান বিজয়া গাডডেও বিদায় নিয়েছেন।

রয়টর্স বার্তা সংস্থা খবর দিয়েছে, মি. আগরওয়াল এবং আরও দুজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিরাপত্তা রক্ষী দিয়ে সানফ্রানসিসকোতে টুইটারের সদর দপ্তরের অফিস ভবনের বাইরে বের করে দেয়া হয়।

ওদিকে, নভেম্বর মাস থেকে যিনি টুইটারের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন, সেই ব্রেট টেইলর তার লিংকডইন প্রোফাইল আপডেটে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি আর টুইটারের ঐ পদে নেই।

টুইটার কেনার আগে মাসের পর মাস ধরে আইনি টানা-হেঁচড়া চলেছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, ইলন মাস্ক অত্যন্ত প্রভাবশালী এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মকে কিভাবে চালাবেন।

মি. মাস্ক, যিনি “শতভাগ বাক স্বাধীনতার” সমর্থক বলে নিজেকে তুলে ধরেন, টুইটারের ব্যবস্থাপনা এবং মডারেশন বা মিতাচার নীতির সমালোচক ছিলেন।

ক্রয়ের শর্ত নিয়েও সাবেক মালিক পক্ষের সাথে ইলন মাস্কের অনেক বিরোধ হয়েছে। তার অভিযোগ ছিল টুইটারের ব্যবহারকারীর প্রকৃত সংখ্যা তাকে দেওয়া হয়নি।

তিনি এও বলেছেন অনেক যেসব ব্যবহারকারীকে টুইটার নিষিদ্ধ করেছে তাদেরকে তিনি ফিরিয়ে আনবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাকে ২০২১ সালে জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার পর নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তিনিও টুইটারে ফিরে আসতে পারেন। মি. মাস্ক মনে করেন মি. ট্রাম্পকে এভাবে নিষিদ্ধ করা “বোকামি” হয়েছে।

কিছু কিছু মিডিয়া রিপোর্টে বলা হচ্ছে, শুধু সিনিয়র নির্বাহীরাই নয়, টুইটার থেকে প্রচুর কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। এমনও গুজব উঠেছে ৭৫ শতাংশ কর্মীরই চাকরি চলে যেতে পারে।

তবে টুইটার এবং ইলন মাস্কের আরেক কোম্পানি টেসলার একজন বড় মাপের শেয়ারহোল্ডার বিবিসিকে বলেছেন টুইটারে প্রচুর মেধাবী কর্মী রয়েছে যাদেরকে বের করে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: নিজের জমি ও বাড়ি রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে মা ও মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। শনিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ওই নারীর সাথে এক ছেলে ও এক মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিল। শরীরে কেরোসিন ঢালার পর উপস্থিত জনতা তাদের বাধা দেয়। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন।

আত্মহত্যার চেষ্টাকারীরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার বরপা এলাকার শিরিন আক্তার (৩৫), তার মেয়ে শামীমা আক্তার (১৬)। তাদের সাথে ছেলে মো: জহির খানও (১০) ছিল।

এ বিষয়ে শিরিন আক্তার বলেন, ৮ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার বরপা এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেছি এবং সেখানে বসবাস করছি। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান দীর্ঘ দিন ধরে আমাকে বাড়ি ছাড়তে চাপ দিয়ে আসছেন। শুধু তাই নয়, হান্নান আমার নামে মামলাও করেছেন এবং হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। গত ২ মাস ধরে আমাকে বাড়ি যেতে দিচ্ছেন না।

তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। তিনি এসব যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আমাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কোথায় আছেন তা আমি জানি না। আমি স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে ব্যর্থ হয়েছি। পুলিশকে জানালে তারা সহযোগিতা করছে। কিন্তু তাদের সাথে পেরে উঠছে না।

শিরিন আক্তার বলেন, বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো উপায় না পেয়ে এই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছি। আমার আর কোনো উপায় নেই। আমার মেয়েটার ব্রেনে সমস্যা হয়ে গেছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোয়েন বলেন, জমি-জমার জেরে শিরিন নামের এক নারী ও তার মেয়ে এখানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আমরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছি। নয়া দিগন্ত অনলাইন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: বেলা ১২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ। মঞ্চে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন। মূল পর্ব শুরু হবে কিছুক্ষণ পর। এরই মধ্যে রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাঁও মাঠের সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। মাঠে দাঁড়ানোর ঠাঁই নেই। তীব্র রৌদ্রের মধ্যেও কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শুনতে মুখিয়ে আছেন বিভাগের আট জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা। মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে মাঠে জায়গা না পেয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও সড়কের অলিগলিতে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। সমাবেশস্থলের চারদিকে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা কানায় কানায় পূর্ণ। হাঁটা চলার মতোও নেই পরিবেশ।

এদিকে এখনো বিভিন্ন জেলা থেকে খন্ড খন্ড মিছিলে নিয়ে আসছেন নেতাকর্মীরা। তবে মাঠ ও রাস্তাঘাট নেতাকর্মীদের চাপে মিছিলগুলো সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে পারছে না।

এদিকে, রংপুরের সমাবেশের মঞ্চে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য একটি ফাঁকা আসন রাখা হয়েছে। এর আগে, ময়ময়সিংহ ও খুলনা বিএনপির সমাবেশে এমনটি রাখা হয়েছিল। বিএনপি নেতারা বলছেন, অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে সরকার। তিনি মুক্ত থাকলে এখানে উপস্থিত থাকতেন। তাই আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবিতে বিএনপি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপির চতুর্থ গণসমাবেশ চলছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের ২০২২ সালের ‘রুল অব ল ইনডেক্সে’ ১৪০ দেশের মধ্যে ১২৭তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটির এই সূচককে আইনের শাসনের ওপর প্রকৃত তথ্যের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের তালিকায় দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ।

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ওই র‌্যাঙ্কিংটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এ বছর সবার আগে আছে ডেনমার্ক। এরপর নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ইনডেক্সের সবার নিচে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। এছাড়া ভারত রয়েছে ৭৭তম অবস্থানে এবং পাকিস্তান রয়েছে ১২৯তম অবস্থানে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে নেপালের অবস্থান ৬৯তম, শ্রীলঙ্কা ৭৪তম এবং আফগানিস্তান ১৩৮তম।

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা ড. আলেহান্দ্রো পন্স বলেন, ১৪০টি দেশের ১ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ এবং ৩৬০০ বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে এই ইনডেক্স তৈরি করা হয়েছে। যে আট বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এই ইনডেক্স তৈরি করা হয়েছে তা হলো- সরকারি ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, উন্মুক্ত বা স্বচ্ছ সরকার ব্যবস্থা, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ, বিচার ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি বিচার। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত বছর ৬১ শতাংশ দেশেই আইনের শাসন হ্রাস পেয়েছে।

পন্স বলেন, এই আইনের শাসন হ্রাস পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে কিছু দেশে সাম্প্রতিক নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তনের পর উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হয়ত বিশ্বে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু এখনও বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও অনেক কিছু করার আছে। মানব জমিন
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিজার্ভের অর্থ দেশের উন্নয়ন, আমদানি ও জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন পায়রা সমুদ্রবন্দরে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন রিজার্ভের টাকা গেল কোথায়, যারা এই প্রশ্নটা করেন তাদের বলছি রিজার্ভের টাকা গেল পায়রা বন্দরে। রিজার্ভের টাকা গেছে দেশের জনগণের জন্য খাদ্য কেনায়, সার কেনায়। রিজার্ভের টাকা জনগণের কল্যাণে এবং আমদানিতে ব্যয় হয়েছে। কেউ এই অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করেনি।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এ টাকা কেউ চিবিয়ে খায়নি। মানুষের কাজেই লাগছে, কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের আদমানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা কাজে লাগাচ্ছি।’

উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিং, আটটি জাহাজের উদ্বোধন, প্রথম টার্মিনাল এবং ছয় লেনের সংযোগ সড়ক ও একটি সেতু।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকা পটুয়াখালী জেলার পায়রায় যুক্ত হয়ে ভার্চুয়ালি ১১ হাজার ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, পায়রা সমুদ্রবন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ আটটি জাহাজের উদ্বোধন, প্রথম টার্মিনাল ও ছয় লেনের সংযোগ সড়ক এবং একটি সেতু নির্মাণ।

এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্দরটিকে তার পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে সক্ষম হবে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে, যার সুফল জাতি যুগ যুগ ধরে ভোগ করবে।

সরকার প্রধান বলেন, সামান্য সার্ভিস চার্জে এই টাকা আসলে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছে এবং ঘরের টাকা ঘরেই থাকছে, কেবলমাত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর হয়েছে।

নৌ-রুট উন্নয়নের জন্য গৃহীত প্রকল্পগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো প্রাণবন্ত, শক্তিশালী ও উন্নত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পায়রা বন্দর নামটি তারই দেয়া এবং তার সরকার এখানে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছে এবং এই বন্দরে কয়লার জাহাজ আনয়নের মাধ্যমেই বন্দরের জাহাজ চলাচল শুরু হয়।
তার বহুদিনের ইচ্ছা ছিল নিজস্ব অর্থায়নে এটি করবেন কারণ, বিদেশি অর্থে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কারণে বাংলাদেশের রিজার্ভের টাকা দিয়েই তিনি একটি ফান্ড তৈরি করেন। যার নামও তিনি নিজেই রাখেন ‘বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ (বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল) এবং সেই ফান্ডের টাকা দিয়েই বন্দরের ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়। যাতে আমাদের রিজার্ভের টাকা আমাদের অবকঠামো উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা সম্ভব হয়। সেজন্যই এই পদক্ষেপ বলেও তিনি জানান।
প্রত্যেক বন্দরের নাব্যতা রক্ষায় তাঁর সরকার বন্দরগুলোতে নিজস্ব ড্রেজারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছরই মেইনটেইনেন্স ড্রেজিং আমাদের করে যেতে হবে।

তার সরকার এই নদি ডেজিং করে এই নৌ পথটাকে উত্তর বঙ্গ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাশাপাশি আসাম এবং ভুটান পর্যন্তও এই নৌপথ চালু হতে পারবে। সরকার ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম এবং মোংলা বন্দর নেপাল, ভুটান এবং ভারতকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এক পাশে মোহনা এবং এক পাশে চট্টগ্রাম বন্দর থাকায় এই পায়রা বন্দরও এক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মোস্তফা কামাল এবং বন্দর কতৃর্পক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহাইল অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর ওপর অনুষ্ঠানে একটি প্রামণ্যচিত্র প্রদর্শণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে পায়রা বন্দর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই বন্দরটাকেই এক সময় আমাদের গভীর সমুদ্র বন্দরে উন্নীত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। ইতোমধ্যে মাতারবাড়ি ও মহেশখালিতে যে বন্দর আছে সেটাও গভীর সমুদ্রবন্দরেই রূপান্তর হয়েছে। পাশাপাশি পায়রা বন্দরকেও ভবিষ্যতে আমরা সেভাবে উন্নত করতে পারবো। সেই বিশ্বাস আমার আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আজকে সত্যিই খুব আনন্দিত। আমাদের রিজার্ভের টাকা দিয়ে তৈরি করা ফান্ড, সেই ফান্ডের টাকা দিয়েই আমরা এই কাজ আজকে শুরু করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে এই বন্দরে ২৬০টি বৈদেশিক বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন করেছে এবং এর মাধ্যমে দেশের প্রায় ৬১৩ কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আমি মনে করি এটা কিন্তু প্রতি বছরই ড্রেজিং করতে হবে। ইতোমধ্যে রেল যোগাযোগ যাতে হয় সেই সমীক্ষাও চলছে। ভবিষ্যতে আমাদের পরিকল্পনাই আছে যে, একেবারে ঢাকার সাথে পায়রা বন্দর পর্যন্ত আমরা রেল যোগাযোগও চালু করবো।

সরকার প্রধান নৌপথে যাতায়াতকে তার সরকার সবসময় গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে পায়রাবন্দর থেকে সমগ্র বাংলাদেশে নৌপথে যোগাযোগ করা যাবে বলেও অনুষ্ঠানে জানান।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে এখন সড়কপথ, রেলপথ, নৌপথ ও বিমানপথে যোগাযোগ সমন্বিতভাবে হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পায়রা বন্দর এলাকায় নৌবাহিনীর ঘাঁটি তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনীর জন্য সেনা ছাউনি করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সাথে যোগাযোগ শুধু সড়কেই নয়, বরং সব পথেই করা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বন্দরের কানেকটিভিটি সম্প্রসারণের সাথে এটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক করিডোরের সাথে আরো বেশি সংযুক্ত হবে এবং ভারত, ভুটান, নেপালসহ অন্যান্য দেশ এই বন্দর ব্যবহার করে উপকৃত হবে। ফলে এদেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে। শুধু তাই নয় বন্দরকেন্দ্রিক এই অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপিত হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি বলেন, বন্দরের ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং, ৮টি জাহাজের উদ্বোধন, প্রথম টার্মিনাল, ছয় লেনের সংযোগ সড়ক এবং আন্ধারমানিক নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বন্দরের অগ্রযাত্রায় যে মাইলফলক স্থাপিত হলো এবং দেশের বিশেষকরে দক্ষিণ বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যে অধ্যায় সূচিত হলো তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহাল থাক-সেটাই আমি আশা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দরের আটটি জাহাজের মধ্যে সাতটিই বিভিন্ন দেশীয় শিপইয়ার্ডে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব জাহাজের দ্বারা পায়রা বন্দর এককভাবে বিদেশী জাহাজ হ্যান্ডেলিং এবং চ্যানেলের সংরক্ষণ করতে পারছে।

তিনি বলেন, পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালের নির্মাণ কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ৬৫০ মিটার দীর্ঘ এ টার্মিনালটিতে ২০০ মিটারের তিনটি জাহাজ একত্রে ভিড়তে পারবে এবং একই সাথে কন্টেইনারাইজড কার্গো ও বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। টার্মিনালটি থেকে পণ্য সড়ক পথে পরিবহনের জন্য ছয় লেন বিশিষ্ট সংযোগ সড়ক ও আন্ধারমানিক নদীর উপর দিয়ে ব্রিজ তৈরির কাজটিও আজ উদ্বোধন হলো। বন্দরটির সাথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ বাড়াতে আমরা শিগগিরই ঢাকা-কুয়াকাটা সড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করবো।

করোনা মহামারীর রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার ফলে সারাবিশ্বের মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বিশ্ববাসীর কাছে যুদ্ধ বন্ধের আবেদন জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমরা সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটা ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছিলাম, তবে বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতি আপনারা দেখেছেন যে, শুধু বাংলাদেশ নয় সারাবিশ্বের উন্নত দেশগুলো আজকে জ্বালানি সংকটে ভুগছে, বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। আমরাও তার থেকে বাইরে নই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে করোনার প্রভাব এর উপর মরার উপর খরার ঘা হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সেই সাথে নিষেধাজ্ঞা পর নিষেধাজ্ঞা। যার ফলে আজকে সারাবিশ্বের সাধারণ মানুষগুলো ভুক্তভোগী। তারা কষ্টে আছে।

সরকারপ্রধান বলেন, কারা লাভবান হচ্ছে জানি না। হয়তো লাভবান হচ্ছেন যারা অস্ত্র ব্যবসা করেন বা অস্ত্র তৈরি করেন। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষগুলো কিন্তু কষ্ট পাচ্ছেন।

‘কাজেই এখানে আমার আবেদন থাকবে বিশ্ববাসীর কাছে যে, এই যুদ্ধটা বন্ধ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। মানুষকে বাঁচার সুযোগ দিতে হবে, জীবন মান ধরে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি এটা মনে করি যে, আমাদের উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে যারা পথে নেমেছেন তাদের কাছে আমার এই আবেদনটা থাকলো,’ বলেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, আমি এটা চাই মানুষগুলো বাঁচুক, সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ যেন হয়। এই অস্থিরতা বন্ধ হোক। যেন শান্তির সুবাতাস বয়ে যেতে পারে, মানুষের জীবনমান উন্নত হতে পারে, সেটাই আমরা চাই।

সূত্র : বাসস

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail