Home Author
Author

uadmin

ঢাকা: রাজবাড়ী জেলার কালুখালীতে ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। নয়া দিগন্ত

বুধবার সকাল ৯টার দিকে কালুখালী উপজেলার চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশে রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাংশা হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার মো, জুয়েল রানা।

তিনি জানান, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা রাজবাড়ী অভিমুখী ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। আহতের উদ্ধার কালুখালী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের ১০ জন আইনজীবী।

মঙ্গলবার আইনজীবী আসাদ উদ্দিন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক বরাবরে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় লিগ্যাল নোটিশ দাতারা উচ্চ আদালতে এর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করবেন বলে উল্লেখ করেন।

নোটিশ পাঠানো অন্য আইনজীবীরা হলেন – মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন, মো: জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো: আমির, মো: রেজাউল ইসলাম, কে এম মামুনুর রশিদ, মো: আশরাফুল ইসলাম, শাহীনুর রহমান, মো: রেজাউল করিম ও মো: আলাউদ্দিন।

আইনজীবী মো: আসাদ উদ্দিন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম মৌখিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত হলেও লিখিতভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। বলা হয়ে থাকে, ১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার অ্যালবার্ট হলের একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সর্বভারতীয় বাঙালিদের পক্ষ থেকে কবিকে জাতীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাজী নজরুলকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সেই থেকে মুখে মুখে তিনি জাতীয় কবি হয়ে আছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করে কোনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কোনো মৌখিক বিষয় নয়।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। বসবাসের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ধানমণ্ডিতে তাকে একটি বাড়ি দেয়া হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত হন। এরপর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সরকারি আদেশ জারি করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাকে ‘একুশে পদক’ দেয়া হয়। সবকিছুরই ছবি, তথ্যসহ লিখিত দলিল আছে। কিন্তু, নির্মম সত্য এটিই যে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে সরকারি ঘোষণার কোনো লিখিত দলিল বা প্রমাণ নেই।

বাংলাদেশের দুটি আইনে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি আয়োজনে তাকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে উল্লেখও করা হয়। কিন্তু, সবই পরোক্ষ স্বীকৃতি। এমন স্বীকৃতি কালের বিবর্তনে মুছে যেতে পারে। আগামীর প্রজন্ম একদিন হয়তো নাও জানতে পারে যে, আমাদের জাতীয় কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আমাদের ইতিহাসের অংশ। ইতিহাস ও জাতীয় স্বীকৃতি কখনো অলিখিত থাকতে পারে না। অলিখিত ইতিহাস ও তথ্য সময়ের বিবর্তনে বিলীন হয়ে যায়। এজন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণে রাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়।

এছাড়া নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণার জন্য কবি পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি তোলা হয়েছে। নজরুল গবেষক এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেও অনেকবার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু, অদ্যাবধি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই, দেশের সচেতন নাগরিক এবং উচ্চ আদালতের আইনজীবীরা এ আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নয়া দিগস্ত

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি

ঢাকা: সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে নোয়াখালীর হাতিয়ার দুই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে প্রায় ৪০ জন প্রার্থী আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে বিষের বোতল ও কাফনের কাপড়সহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তার স্বামীর অত্যাচারে তারা ভোটের প্রচার চালাতে পারছেন না বলে তাদের অভিযোগ। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও  কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তারা । তাই সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ দাবি করে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৩১ মে) বেলা ১১টার দিকে ইসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রার্থীদের অভিযোগ- আগামী ১৫ই জুন ভোটের আগে হাতিয়ার নবগঠিত ১নং হরনী ও ২নং চানন্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের উপর হামলা, প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ জনগণ ভোট প্রয়োগের ব্যাপারে প্রাণনাশের মতো ভয়ভীতির হুমকিসহ প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। ইউনিয়ন দুটির পাশে মেঘনা নদী, রামগতি ও সুবর্ণচর উপজেলা সীমানা থাকাই সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে।  ১নং হরনী ইউনিয়ন ও ২নং চানন্দি ইউনিয়ন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা আবশ্যক। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে হাতিয়া উপজেলা বহির্ভূত প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার এবং প্রশাসনিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জনবল নিয়োগ করা আবশ্যক। অন্যথায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে। প্রার্থীরা প্রচারণা কাজ চালাতে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলাও চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান এমপি ও তার স্বামী সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে প্রার্থীদের উপর হামলা ও প্রার্থীদের প্রচারণার কাজ বন্ধ করে দেন।

বর্তমানে প্রার্থীদের সকল কাজ বন্ধ রয়েছে। ইতিপূর্বে হাতিয়া উপজেলার মূল ভূখ-ে সকল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ার কারণে ভোটাররা আতংকিত। তাই প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা প্রয়োজন।

সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ওই এলাকায় ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার্কেল এসি প্রত্যাহার ও প্রচার করার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হাতিয়ার (নোয়াখালি-৬) সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস কে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) এর উপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হলে মানবাধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জবাবদিহিতা এ দুটো কাজ নিশ্চিত করতে হবে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস।

মঙ্গলবার (৩১ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা ব‌লেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূ। তিনি বলেন, এ দুটো বিষয় নিশ্চিত হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা যাবে।

মানবাধিকার এবং মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিষ্কার করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূ। তিনি বলেন, র‍্যাব এবং তার কিছু কর্মকর্তার উপর আমরা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি, এটা তার ফলাফল। র‍্যাব এবং তার কিছু কর্মকর্তার উপর আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটি প্রত্যাহার করার জন্য বাংলাদেশ সরকার দেন-দরবার করছে।

এই নিষেধাজ্ঞার জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে দোষারোপ করে বক্তব্য দিয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, র‍্যাবের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এটা এমন কোন বিষয় নয় যে তালিকা ধরে কাজ করতে হবে। এ দুটি মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

কেন ও কী নিষেধাজ্ঞা:

২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ছয়জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের দিনে মার্কিন অর্থ দফতরের ফরেন অ্যাসেটস কনট্রোল অফিস (ওএফএসি) বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে – যারা মানবাধিকার লংঘন এবং নিপীড়নের সাথে সংশ্লিষ্ট।

ছয় জন র‍্যাব কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ছয় জন কর্মকর্তা হচ্ছেন: চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (র‍্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক), বেনজির আহমেদ (সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক, জানুয়ারি ২০১৫-এপ্রিল ২০২০), খান মোহাম্মদ আজাদ (বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স), তোফায়েল মুস্তাফা সরওয়ার (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, জুন ২০১৯-মার্চ ২০২১), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, সেপ্টেম্বর ২০১৮-জুন২০১৯), এবং মোহাম্মদ আনোয়ার লতিফ খান (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক-অপারেশন্স, এপ্রিল-২০১৬-সেপ্টেম্বর ২০১৮)।

এতে বলা হয়, গুরুতর মানবাধিকার লংঘনে জড়িত থাকার জন্য আজ বেনজির আহমেদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর – যার ফলে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য হবেন।

‘প্রায় ৬০০ বিচারবহির্ভূত হত্যা’
বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে র‍্যাব এবং অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৬০০টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ৬০০-রও বেশি লোকের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, এবং নির্যাতনের জন্য দায়ী।

কিছু রিপোর্টে আভাস পাওয়া যায় যে এসব ঘটনায় বিরোধীদলীয় সদস্য,সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের টার্গেট করা হয়েছে – বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এতে ‘গুরুতর মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার’ অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং এর ৬ জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, “বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপক অভিযোগ – আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, ও বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হেয় করার মাধ্যমে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে।” আমাদের সময় ডটকম।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: অন্তত ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভাইরাস ‘মাঙ্কিপক্স’ নিয়ে উদ্বিগ্ন সারাবিশ্ব। এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি বন্দরে সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত শনিবার (২১ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট, ল্যান্ড পোর্টসহ সমস্ত পোস্টগুলোকে আমরা সতর্ক থাকতে বলেছি। সন্দেহভাজন কেউ এলে যেন তাকে চিহ্নিত করা যায় এবং অতিদ্রুত যেন তাকে সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নাজমুল ইসলাম বলেন, মাঙ্কিপক্স নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা ভাইরাসটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা সারাবিশ্ব থেকেই তথ্য-উপাত্ত নেব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার সেটি আমরা নেব।

জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জনদের কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে অধিদপ্তরের এ পরিচালক জানান, আমরা যখন কোনো নির্দেশনা দিই, তখন সেটি জেলা সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগের সব পর্যায়েই সেটি চলে যায়। সব জেলায় তো ল্যান্ড পোর্ট নেই। যেসব জেলায় আছে সেগুলোতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কারণ, ভাইরাসটি তো মূলত বন্দর দিয়ে আসে, তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান মাঙ্কিপক্স আক্রান্তের ঘটনা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ভাইরাল সংক্রমণজনিত রোগটি পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকায় সাধারণত সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও এবার সেই গণ্ডি পেরিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৮০ জনের মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ১১টি দেশে আরও ৫০ জনের এই ভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।

 মাঙ্কিপক্স নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

মাঙ্কিপক্স একটি বিরল ও স্বল্প পরিচিত রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার উষ্ণ ও আদ্র বনাঞ্চলের বানররা ছিল এ রোগের প্রথম শিকার। তারপর একসময় মানবদেহেও সংক্রমিত হওয়া শুরু করে রোগটি।

মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত অসুখ। স্মলপক্স ভাইরাস শ্রেণির একটি ভাইরাস এ রোগের জন্য দায়ী। ভাইরাসটির দু’টি রূপান্তরিত ধরন রয়েছে— মধ্য আফ্রিকান ও পশ্চিম আফ্রিকান।

রোগটির বিভিন্ন লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ঘেমে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, মাংসপেশির টান ও অবসাদ। প্রথম পর্যায়ে রোগীর জ্বর আসে, পাশাপাশি শরীরে দেখা দেয় ফোস্কা ও অধিকাংশ ঘটনায় শুরুতে মুখে ফুসকুড়ি ওঠে। পরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে; বিশেষ করে হাত ও পায়ের তালুতে।

গত ৭ মে প্রথম একজন ইউরোপীয় নাগরিকের দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়। নাইজেরিয়া থেকে ওই ব্যক্তি ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছিলেন। এরপর থেকে আফ্রিকার বাইরে ১০০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড একাডেমিক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, চলমান প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মাঙ্কিপক্স শনাক্তের ঘটনাগুলো কিছুটা অস্বাভাবিক। যেসব দেশে ভাইরাস নিয়মিত ছড়িয়ে পড়ে না, সেসব দেশে বর্তমানে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। বর্তমানে শনাক্ত হওয়া এই ভাইরাসের উত্স এবং এর রূপ বদল ঘটেছে কিনা তা বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

মাঙ্কিপক্সে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, স্পেন এবং পর্তুগালেই বেশিরভাগ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়াতেও সংক্রমণ ঘটেছে এবং বোস্টনেও মাঙ্কিপক্সে একজনের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে সামনের মাসগুলোতে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। বিবিসি বাংলা

সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে।

তার আশংকা, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে রপ্তানি স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারে।

রাশিয়ার হামলার কারণে ইউক্রেনের বন্দরগুলো দিয়ে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

অথচ এসব বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ সূর্যমুখী তেল, গম ও ভুট্টা রপ্তানি হতো।

ইউক্রেন প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে চার কোটি টন খাদ্যশস্য রপ্তানি করতো।
ইউক্রেন প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে চার কোটি টন খাদ্যশস্য রপ্তানি করতো।

এগুলো বন্ধ হয়ে পড়ায় এখন বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাপক কমেছে এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী এসব পণ্যের দাম ব্যাপক বেড়েছে।

জাতিসংঘের হিসেবে গত বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যপণ্যের দাম ইতোমধ্যেই সারাবিশ্বে অন্তত ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

নিউইয়র্কে বুধবার মিস্টার গুতেরেস বলেন, খাদ্য সংকটের কারণে কোটি কোটি মানুষ অপুষ্টি, ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে পারে।

“সবাই এক সাথে কাজ করলে এ মূহুর্তে বিশ্বে যথেষ্ট খাদ্য আছে। কিন্তু যদি এ সংকটের সুরাহা না হয়, তাহলে সামনের মাসগুলোতে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে,” বলছিলেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের খাদ্যশস্য স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা ছাড়া খাদ্য সংকটের কার্যকর কোন সমাধান নেই। একই ভাবে বৈশ্বিক বাজারে রাশিয়া ও বেলারুশের সারেরও বিকল্প নেই।

ইউক্রেনের খাদ্য রপ্তানি স্বাভাবিক পর্যায়ে না এলে দুর্ভিক্ষের আশংকা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের খাদ্য রপ্তানি স্বাভাবিক পর্যায়ে না এলে দুর্ভিক্ষের আশংকা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, রাশিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে তার যোগাযোগ আছে যাতে করে খাদ্য রপ্তানি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়।

তিনি এমন সময় এমন মন্তব্য করলেন যখন বিশ্ব ব্যাংক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মোকাবেলায় অতিরিক্ত ১২ বিলিয়ন ডলারের অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের যত গম উৎপন্ন হয় তার ত্রিশ ভাগ উৎপাদন করে। যুদ্ধের আগে ইউক্রেন ৪৫ মিলিয়ন টন খাদ্য শস্য প্রতি মাসে রপ্তানি করতো।

কিন্তু রাশিয়ার আগ্রাসনের পর সব রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে এবং জাতিসংঘের হিসেবে ২০ মিলিয়ন টন ভুট্টা এখনো সেখানে আটকা পড়ে আছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ঢাকা: প্রবীণ লেখক, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও  কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বিষয়টি গণমাধ্যমকে  নিশ্চিত করেছেন বৃটেন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। আবদুল গাফফার চৌধুরী ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র রচয়িতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক।
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রণিল বিক্রমাসিংহে। ইউএনপি দলের নেতা রণিল বিক্রমাসিংহে আজ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় শপথ নেন। এ খবর দিয়েছে ডেইলি মিরর।

এতে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন তিনি। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন রণিল। গত সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে পদত্যাগ করলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অনিবার্য হয়ে যায়। তবে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করেন প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া। জানা গেছে, শপথ গ্রহণের পর কলোম্বোর একটি মন্দির পরিদর্শন করবেন রণিল বিক্রমাসিংহে। এরপর তিনি  দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: ইসরাইলি সেনাদের গুলি নিহত হয়েছেন কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার নারী সাংবাদিক শিরীন আবু আকলেহ। বুধবার ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে সংবাদ সংগ্রহ করার সময় তাকে মাথায় গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি। এসময় সেখানে ইসরাইলি বাহিনী অভিযান চালাচ্ছিল, সেটি কাভার করতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন শিরীন।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে এই গুলির ঘটনা ঘটে। তবে কোন পরিস্থিতিতে তাকে গুলি করা হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে ধারণা করা হচ্ছে শিরীনের মাথায় গুলি লেগেছিল। আল-জাজিরা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত শুধু তারা জানে যে, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। শিরীন আবু আকলেহ জেনিন শহরে ইসরাইলি অভিযানের খবর সংগ্রহ করছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে শিরীনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনার পর তার সঙ্গে কাজ করা অন্য সাংবাদিকরাও আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। নিহত শিরীনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সহকর্মী ইব্রাহীম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন

তিনি জানান, ২০০০ সাল থেকে তারা একসঙ্গে কাজ করে আসছেন। শিরীন একজন সম্মানিত সাংবাদিক ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় প্রেস ভেস্ট পরা ছিলেন শিরীন। তারসঙ্গে থাকা আরেক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আলি সামুদি নামের ওই সাংবাদিক জেরুজালেমভিত্তিক গণমাধ্যম কুদসে কাজ করেন। এর আগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের উপরে ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফিলিস্তিনিরা হামলা চালালে তারা পাল্টা হামলা করতে বাধ্য হয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত চালু করা হয়েছে। তবে রামাল্লায় আল-জাজিরার ব্যুরো চিফ ওয়ালিদ আল-ওমারি জানান, ফিলিস্তিনি পক্ষ থেকে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। ইসরাইল যে সম্ভাবনার কথা বলছে সেটিকে উড়িয়ে দেন তিনি।
আল-জাজিরার সাংবাদিক নিহতের খবরে শোক ও ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেক ফিলিস্তিনি। বৃটেনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি দূত হুসাম জমলট বলেন, ইসরাইলি দখলদার বাহিনী আমাদের প্রিয় সাংবাদিক শিরীন আবু আকলেহকে হত্যা করেছে। শিরীন ছিলেন সবথেকে আলোচিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক এবং কাছের বন্ধু। তিনি পরিচিতদের মধ্যে সাহসী ও দয়ালু হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

মুসা আল হাফিজ: প্রবল ঘৃণার চোখ দিয়ে ইসলামকে দেখার চেষ্টা কতটা উদ্ধত, তা আমরা বুঝতে পারি পশ্চিমা বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীর জবানিতে। রিচার্ড কোহেন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০ সালের ২ মে বিখ্যাত আর্থ টাইমসে নিজের কলামে তিনি লেখেন, ‘পৃথিবী দুই এলাকা। একটি সভ্যতার অপরটি বর্বরতার। প্রথমটি পশ্চিমা, দ্বিতীয়টি ইসলামী। প্রথমটি এনেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানুষের মুক্তি। দ্বিতীয়টি সব কল্যাণকে দেখিয়েছে রক্তচক্ষু।’ এ-জাতীয় ভাবনার চেনা ছক ধরা পড়েছে স্যামুয়েল পি হান্টিংটনের ভাষায়। তিনি জানান, ‘মানুষ প্রায়ই… আমাদের সভ্যতা ও বর্বরদের সভ্যতা ইত্যাদির নিরিখে ভাবতে ভালোবাসে’। গার্ট্রড বেল কোনো রাখটাক ছাড়াই মুসলিম সভ্যতাকে বর্বর প্রসঙ্গ হিসেবে অভিহিত করেন। কারণ ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওরা কোনো জ্ঞান বহন করে আনেনি’। ফ্লোরা লুইস প্রকাশ করেছেন আরেকটি ‘গভীর’ কারণ ‘মুসলমানদের ব্যাপারে একটি মনস্তাত্ত্বিক বোধ কাজ করে যে ‘তারা কী নয়?’ মধ্যযুগ থেকে চলে আসা ইতিহাস বলবে- ‘তারা সভ্য মানুষ নয়’।

এসব ‘শতাব্দীর পর শতাব্দীর’ কিংবা ‘মধ্যযুগ থেকে চলে আসা ইতিহাস’ অতঃপর আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে চলে আসে। সত্যিই কি এ সময়টি মুসলিম বর্বরতার? সত্যিই কি মুসলমানরা কল্যাণকে দেখিয়েছে রক্তচক্ষু? সত্যিই কি ‘তারা কোনো জ্ঞান বহন করে আনেনি? সত্যিই কি তারা সভ্য মানুষ নয়? অধিপতি শ্রেণীর পশ্চিমা বুদ্ধিজীবিতা অসভ্যতাকে মুসলমানদের জন্য এবং জ্ঞান ও সভ্যতাকে পাশ্চাত্যের জন্য বরাদ্দ করতে চাইলেও বহু পশ্চিমা ঐতিহাসিক ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় স্বীকার করে নিয়েছেন প্রকৃত সত্য। তাদের বক্তব্যে নিহিত আছে ইসলামের মোকাবেলায় পাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠত্বের দাবির ঐতিহাসিক বিচার!

হিউলেট প্যাকার্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কালি ফিওরিনার দীর্ঘ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এহসানুল করিম তার বিখ্যাত Muslim history and civilization গ্রন্থে। ইসলাম ও ইসলামী সভ্যতা প্রসঙ্গে ফিউরিনার ভাষ্য, ‘সেটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও মহান সভ্যতা। এ সভ্যতা সফল হয়েছিল একটি আন্তঃমহাদেশীয় রাষ্ট্রাতীত রাষ্ট্র বা সুপার স্টেট প্রতিষ্ঠায়। এ দেশের বিস্তার ছিল এক মহাসাগর থেকে আরেক মহাসাগরের তটদেশ অবধি। উত্তরে শীতল আবহাওয়া থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চল ও মরু পর্যন্ত প্রসারিত। এ অতিকায় রাষ্ট্রের লাখো-কোটি মানুষের মধ্যে ছিল বহু বিশ্বাসের অস্তিত্ব। নরগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্যও ছিল প্রচুর।’

‘ইসলামের অন্যতম ভাষা শত শত দেশের নানা নরগোষ্ঠীর মধ্যে মিলনের সেতুবন্ধন হিসেবে বিশ্বের বৃহৎ অংশের মানুষের ভাষা হয়ে ওঠে। নানা জাতির লোক নিয়ে ইসলামী এই রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী গঠিত হয়। এ রাষ্ট্র এভাবেই তার নাগরিকদের জন্য যে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে, এর আগে কখনো মানুষের সে রকম স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা হয়নি। এ সভ্যতার নাগালে আসে ল্যাতিন আমেরিকা, চীন এবং এই দুই ভূখণ্ডের মধ্যে আরো যত দেশ আছে, সেগুলোও। এ সভ্যতা সবার আগে এগিয়ে যায় তার উদ্ভাবনী প্রতিভায়।’

‘নেতৃত্ব যদি হয় প্রজ্ঞাময়, নেতৃত্ব যদি হয় সংস্কৃতি ও স্থায়িত্বের ধারক, নেতৃত্ব যদি হয় বৈচিত্র্য ও সাহসের প্রতিভূ- সে নেতৃত্ব ইসলামের। এই ইসলাম সুদীর্ঘ ৮০০ বছর পৃথিবীকে দিয়েছে উদ্ভাবনী নেতৃত্ব, সমৃদ্ধ নেতৃত্ব।’

A history of the intellectual development of europe গ্রন্থে John William Draper দেখান পশ্চিমের বুদ্ধিবৃত্তিক নবজীবন লাভে ইসলামের ভূমিকা। তিনি লিখেন, ‘ইউরোপীয় সাহিত্য পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের প্রতি আমাদের মনোযোগ ও দায়িত্বকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এর নিন্দা না করলেই নয়। সুনিশ্চিতভাবে বলতে পারি তাদেরকে আর আড়ালে রাখা সম্ভব নয়। ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ও আমাদের আত্মপ্রচারের বুনিয়াদে প্রতিষ্ঠিত অবিচারকে আর যাই হোক চিরকালের মতো টিকিয়ে রাখা যাবে না। ইউরোপের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক ছাপ রেখে গেছে আরব ঐতিহ্য। আরবদের রেখে যাওয়া এ ছাপ মুছবে না কখনো। আমাদের অভিন্ন গ্রহের তারকারাজি যেভাবে অমোচনীয়, এটি তেমনই একটা কিছু। খলিফাদের শাসনামলে জ্ঞানী খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের কেবল পরম শ্রদ্ধার চোখেই দেখা হতো না, নানা গুরুত্ব ও দায়িত্বপূর্ণ পদেও তাদের নিয়োগ দেয়া হতো। তাদেরকে সরকারের শীর্ষ পদগুলোতেও পদোন্নতি দেয়া হতো।

কোনো জ্ঞানী বা বিদগ্ধ ব্যক্তির ব্যাপারে ভাবা হতো না- সে কোথা থেকে এলো? সে কোন ধর্মে বিশ্বাসী? কেবল দেখা হতো এ ব্যক্তি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরীক্ষায় কতটা উত্তীর্ণ ও আলোকময়, এটিই ছিল একমাত্র বিচার্য বিষয়।

The Making of Humanity (1919) গ্রন্থে ফরাসি চিন্তাবিদ Robert Briffault-এর স্পষ্ট বয়ান, ‘ইউরোপ ক্রমে আঁধারে ডুবে যেতে যেতে বর্বরতায় পৌঁছে যায়। ইউরোপ যখন অজ্ঞতার অতলতলে পৌঁছায়, তখন মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন নগরী- বাগদাদ, কায়রো, কর্ডোভা ও টলেডোর মতো মেগাসিটি নাগরিক সভ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মচাঞ্চল্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। এসব অঞ্চলেই তখন নবজীবনের সঞ্চার হয়। আর সেই প্রেরণায় মানব সভ্যতার বিবর্তনের নতুন স্তর সূচিত হয়। যখন থেকে তাদের সংস্কৃতির প্রভাব অনুভূত হতে থাকে, তখন থেকেই শুরু হয় নতুন জীবনের স্পন্দন।

অক্সফোর্ড স্কুলে তাদের (মুসলিমদের) উত্তরাধিকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে রজার বেকন আরবি ভাষা ও আরবদের বিজ্ঞান শিক্ষা করেন। অথচ রজার বেকন যেমন নয়, তেমনি পরের এমন কেউই নেই, যাদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষণ পদ্ধতি প্রবর্তনের কৃতিত্ব দেয়া যায়। রজার বেকন ছিলেন খ্রিষ্টান ইউরোপের জন্য মুসলিম বিজ্ঞান ও পদ্ধতির অন্যতন অবতারসুলভ প্রতিনিধি। আর তিনি নিজে সমসাময়িকদের কাছে স্বীকার করতে কখনো দ্বিধা করেননি যে, আরবি ভাষা ও আরবীয় বিজ্ঞানই হলো সত্যিকারের জ্ঞানার্জনের উপায়।

‘আধুনিক বিশ্বের জন্য আরবদের সবচেয়ে কালজয়ী অবদানের নাম বিজ্ঞান। তবে এর সুফল ফলতে দেরি হয়। ম্যুর সভ্যতা আবার আঁধারে ডুবে যাওয়ার বহুকাল পরে সেই ঘুমিয়ে পড়া বিশাল শক্তি আপন শক্তিতে নিজস্ব সম্ভাবনার পুনর্জন্ম ঘটায়। শুধু বিজ্ঞানই মৃত ইউরোপকে পুনরুজ্জীবিত করল, তা নয়। ইসলামী সভ্যতার আরো বহু প্রভাব ইউরোপীয় জীবনের আকাশকে প্রথমবার আলোকিত করেছে।’

Edgar Swain-এর বিখ্যাত A history of world civilization আমাদেরকে জানায় তার পর্যবেক্ষণ। তিনি লিখেন, ‘মুসলিম সভ্যতা ছিল সংমিশ্রিত সভ্যতা। তা বিলীয়মান ভারতীয়, বাইজেন্টাইন, পারসিক ও মিসরীয় সভ্যতা থেকে ভাবনা-চিন্তা আহরণ করেছিল। এসব সভ্যতায় এর আগে যে কাজ শুরু হয়েছিল, মুসলমানরা তা অব্যাহত রাখেন এবং রেনেসাঁর গোড়াপত্তনের সহায়ক শক্তি হিসেবে পাশ্চাত্য জনগণের কাছে তা পৌঁছে দেন। পাশ্চাত্যের চিকিৎসা, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও শিল্পকলা ব্যাপকভাবে আরবি জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

এডগার সোওয়াইনের মন্তব্য পুরো সত্যকে প্রকাশ করছে না। আরবদের কেবল পুরনো জ্ঞানের বাহক বলে চিত্রিত করছে। তবে তার অনিচ্ছুক মনকেও স্বীকার করতে হয়েছে আরবি জ্ঞানের ওপর পাশ্চাত্যের ব্যাপক নির্ভরতার কথা। কিন্তু বিষয়টি কি আসলে এতটুকুই? কেবলই আরবরা প্রাচীন জ্ঞানের বাহক ছিলেন? আধুনিক জাগরণের সহায়ক ছিলেন? ভারতীয় প্রাজ্ঞজন জওয়াহেরলাল নেহরুর Glimpses of world history-এ প্রশ্নের জবাব পেতে আমাদের সাহায্য করবে। পূর্ববর্তী সভ্যতাগুলোর চেয়ে আরবদের জ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরবদের জনক ভূমিকার বর্ণনা দেন নেহরু। লিখেন, ‘প্রাচীন মিসর, চীন কিংবা ভারতে আমরা সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক রীতি-পদ্ধতি দেখতে পাই না। প্রাচীন গ্রিসে মাত্র এর সামান্য উপস্থিতি দেখা যায়। পুনর্বার এর অনুপস্থিতিই চোখে পড়ে। কিন্তু আরবদের এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান-স্পৃহা প্রবল ছিল। সুতরাং তাদেরকেই আধুনিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।’

বিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ ছিল না এ ভূমিকা। ইউরোপের ওপর আরবদের প্রভাব ছিল সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামগ্রিক। আরব সভ্যতা তার সামগ্রিক ঔজ্জ্বল্য ও প্রাণশক্তি দিয়ে ইউরোপকে নিজের দিকে টানছিল এবং জীবনীশক্তি সরবরাহ করছিল। ইউরোপের ভেতরে সে ছিল প্রধান এক সভ্যতা, আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। খ্রিষ্টীয় ইউরোপে এ প্রভাবের প্রধান কারণ বলে যা বিবেচিত হতো, তা হলো সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নানামুখী পরিবর্তন, যাকে শুধু বৈপ্লবিক বলেই আখ্যায়িত করা যায়। স্পেন ও সিসিলির পথ ধরে ইউরোপময় ছড়াতে থাকে সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লবের ভ্রুণ।

একান্তই মুসলিম উপাদানে উজ্জীবিত এ বিপ্লব ছিল তীব্র ও ব্যাপক; যা বদলে দিয়েছিল বিশ্বের ইতিহাস। চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তির এই নতুন জোয়ার নিয়ে ইসলাম মানবমন ও ইউরোপের নিয়তিকে যে জায়গায় নিয়ে গেল, সেখান থেকে জন্ম নিলো নতুন এক পৃথিবী। এইচ জি ওয়েলস দেখিয়েছেন, ‘মেধার বিস্তার ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে মুসলিম সভ্যতা সমকালীন ও পূর্ববর্তী অন্যান্য সভ্যতাকে পেছনে ফেলেছিল, এমনকি এ ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের বহুল প্রশংসিত গ্রিক সভ্যতাও আরবদের তুল্য হতে পারেনি।’

এটিই ছিল রেনেসাঁর মূল। এরই প্রভাবে জন্ম নিয়েছিল নতুন পৃথিবী। জ্ঞানে, কর্মে, শিল্পে ও সাহিত্যে প্রাণময় ইউরোপ। যার সূচনাবিন্দু ধরে নেয়া হয় চতুর্দশ শতকে ইতালিতে, বিস্তৃতি ষোড়শ শতক অবধি। ইংল্যান্ডে এর শুরু ১৫ শতকের প্রথম পাদে। প্রাচীন গ্রিক ও ল্যাটিন সাহিত্য শিল্পের পুনরুত্থানের কারণেই এ জাগরণ- এমনই দাবি উচ্চারিত হয় অবিরাম। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ‘পঞ্চদশ শতাব্দীতে নয়, প্রকৃত রেনেসাঁসের উদ্ভব ঘটেছিল আরব ও মূর-সংস্কৃতির প্রভাবের ফলেই। ইতালি নয়, স্পেনই ছিল ইউরোপের পুনর্জন্মের সূতিকাগৃহ’। ‘এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, আরবরা ব্যতীত আধুনিক সভ্যতাসূর্য আদৌ উদিত হতো না। এটি নিরঙ্কুশভাবে নিশ্চিত যে, তারা ছাড়া ইউরোপ বিবর্তনের অতীত সব পর্যায় অতিক্রমে সক্ষম দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী হতে পারত না। তবুও ইউরোপীয় উন্নতির এমন একটিও দিক নেই, যেখানে ইসলামী সংস্কৃতির নিশ্চিত প্রভাব দৃশ্যমান নয়। অন্য কোথাও তা এমন জাজ্বল্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ নয়, যেমনটি ঘটেছে সেই শক্তির উৎপত্তিতে, যা আধুনিক বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত ও এর চূড়ান্ত বিজয়ের উৎসকে নির্মাণ করে। এ শক্তি হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক চেতনা।’

ইসলামের প্রভাব শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞানকেন্দ্রিক ছিল না, ছিল সর্বমাত্রিক; সামাজিক-সাংস্কৃতিক, জীবনদৃষ্টিগত। যার কেন্দ্রে ছিল উদার মানবিকতা। মুসলিমরা বিজয় অর্জনের পর কেমন আচরণ করতেন খ্রিষ্টানদের সাথে? ‘ছিঁড়ে কুটি কুটি করার যে অভিযোগ, তারই বা বাস্তবতা কতটুকু? এ অভিযোগের সারবত্তাকে নাকচ করে দেন সি এইচ বেকার। এহসানুল করিম তার Muslim history and civilization-এ হাজির করেন বেকারের জবানি। বেকার লিখেন, ‘আমরা যদি ইসলামের বিজেতাদের নির্বিকারচিত্ততার কথা মনে রাখি, তা হলে একটি ধারণার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল হয়ে ওঠে। সেটি ইসলামী রাষ্ট্রে খ্রিষ্টানদের মর্যাদার ধারণা। ইসলামী রাষ্ট্র বা উম্মাহর আওতায় খ্রিষ্টানরা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ, এমনকি উজিরের পদ পর্যন্ত পেয়েছে। সে জন্য তাকে তার ধর্মবিশ্বাস বিসর্জন দিতে হয়নি। এমনকি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যখন খ্রিষ্টানদের ধর্মযুদ্ধ চলছে, যখন ধর্মীয় বিরোধিতা প্রবল ও তীব্র হয়ে উঠেছে খোদ খ্রিষ্টানদের নিজেদের নীতির কারণে, তখনো ইসলামী রাষ্ট্রে খ্রিষ্টান কর্মকর্তাদের সচরাচর সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে, এটি আশার অধিক। তবু এ ধারণার পরও বলা যায়, মুসলিম বিজেতা ও তাদের উত্তরাধিকারীরা খ্রিষ্টান ধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মান্ধ ঘৃণার পথ অনুসরণ করেছে, এ তত্ত্ব খ্রিষ্টানদেরই আবিষ্কার করা কল্পকাহিনী মাত্র।

ফরাসি বহুবিদ্যাবিশারদ Gustave Le Bon-এর জবানিতে একই সত্যের উচ্চারণ আমরা শুনি। মুসলিম সভ্যতার বিশ্লেষণে তার La Civilisation des Arabes (1884) বিশ্ববিখ্যাত। পরে ইংরেজিতে গ্রন্থটি অনূদিত The World of Islamic Civilization নামে। বইটি জানায়, মুসলিমদের বহুমাত্রিক প্রভাবের বিবৃতি। গুস্তাব লিখেন-

‘ইসলামের আবির্ভাবের মাত্র একটি শতাব্দীকালের মধ্যে ইসলামশাসিত সব অঞ্চলেই বিস্ময়কর সমৃদ্ধি সাধিত হয়েছিল। এই সর্বব্যাপী সমৃদ্ধির কারণ ইসলাম নিজেই; কারণ তার অবিনাশী অম্লান, মঙ্গলময় আদর্শ। এর অন্তর্নিহিত বিশ্বাসের কুসুমরাজি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের স্বাভাবিকতার সাথে সম্পূর্ণ একই সুতায় গাঁথা। এ বিশ্বাসের সারনির্যাস আমাদের চরিত্রকে সুন্দরভাবে নির্মাণ করে, আমাদের কাজকর্মে মমতার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং আমাদের বিশ্বাস, ধর্ম ও বিধিব্যবস্থার প্রতি সহনশীল হতে আদেশ দেয়।’

এই যদি হয় সত্য, তবে যে সব খ্যাতিমান ঐতিহাসিক, বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক ইসলাম ও মুসলিম সভ্যতাকে অভিশাপ, উন্মত্ততা ও বর্বরতার জমি বলে চিত্রিত করলেন, তাদের বক্তব্যের কী তাৎপর্য? স্যার এম এন রায় এর মতে, সেটি এক ‘হীন মতবাদ’ এবং তা বস্তুনিষ্ঠতার দিক থেকে ‘রূপকথার মালা’ মাত্র। বিখ্যাত The Historical Role Of Islam : An Essay On Islamic Culture গ্রন্থে তিনি লিখেন, ‘আজ শিক্ষিত বিশ্ব এই হীন মতবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে, ইসলামের উত্থান ছিল সদাচারি ও ধৈর্যশীল মানুষদের ওপর ধর্মোন্মত্ততার বিজয়।’

তার স্পষ্ট উচ্চারণ- ‘ইতিহাসের পক্ষপাতহীন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা যখন গাঁজাখুরি রূপকথার মালাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করছে, বিদ্বেষপরায়ণ গালগল্পগুলোকে মসিলিপ্ত করছে, তখন ইসলামের উত্থান দৃঢ় ভিত্তি পাচ্ছে মানবজাতির জন্য অভিশাপ হিসেবে নয়, পরম আশীর্বাদ হিসেবেই।

এতক্ষণ আমরা যে সব ভাষ্য পেশ করলাম, তা এক কথায় আধুনিক সভ্যতার মৌলিক অর্জনগুলোর জনক হিসেবে মুসলিমদের ঋণ স্বীকার করেছে। বিশেষত সামাজিক সৌহার্দ্য, ধর্মীয় সহনশীলতা, জ্ঞান-গবেষণা, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, আইনের শাসন ও মানবীয় মহত্বের প্রাণশক্তি দিয়ে অন্ধকার ইউরোপকে তারা আলোকিত করেন। তারা জ্ঞানের বাহক ও প্রজ্ঞার ধারক হিসেবে বিশ্বকে পথপ্রদর্শন করেছেন। তারা ফেরি করেছেন সভ্যতা। সভ্যতার প্রতিটি উপাদানকে প্রদীপ্ত করার কাজ করেছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে। তাদের হাত ধরে ইউরোপ ‘এজ অব ডার্কনেস’ থেকে পায় উত্তরণ।

লেখক : কবি, গবেষক

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail