Home Archives
Daily Archives

November 19, 2022

ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশের কোনো নির্বাচন হবে না এবং এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এখন যারা বিরোধিতা করবে তারা গণশত্রু হিসেবে ধিকৃত হবে এবং তাদের চিহ্নিত করা হবে গণশত্রু হিসেবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশব্যাপী বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী বিভাগীয় গণসমাবেশের অংশ হিসেবে সিলেটে এ গণসমাবেশ করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান সন্নিবেশিত করেছিলেন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।

তিনি বলেন, ‘সরকার লম্বা লম্বা কথা বলে। তারা বলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কোন সংবিধান? যে সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছো। সে সংবিধান আমরা মানি না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দফা এক, দাবি এক- এ সরকারের পদত্যাগ। শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আর এর ফয়সালা হবে রাজপথে। রাজপথেই সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার করবো।’

‘অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং মধ্যবর্তী বা নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য কেয়ারটেকার সরকার করতে হবে,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিচার হতে জনতার আদালতে এবং এ বিচার হবে ভোট চুরি ও ডাকাতির জন্য।

সিলেট অঞ্চলের বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার দলের শত শত নেতাকর্মী খুন ও গুমের শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন মানুষ জেগে উঠেছে। আর হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। দাবি আদায় না করে মানুষ আর ঘরে ফিরে যাবে না। আমাদের লক্ষ্য একটাই- ভোটের অধিকার ফিরিয়ে নেয়া।’

তিনি সব রাজনৈতিক দলকে এ দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, তারা সবাই মিলেই লড়াইয়ের মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করবেন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে তিনি এ নির্দেশনা দেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি শিক্ষকসহ যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার জোর তাগিদ দেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলুন….যাতে তাদের এজন্য বিদেশে পাড়ি দিতে না হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষকদেরকে তরুণ গবেষকদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি আশা করেন, উপাচার্যের নেতৃত্বে ও ছাত্র শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।

চ্যান্সেলর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমাজে শিক্ষকদের সম্মানের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। কিছু সংখ্যক অসাধু লোকের কর্মকাণ্ডের জন্য গোটা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, কতিপয় শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিকে ঐচ্ছিক দায়িত্ব মনে করেন। বৈকালিক কোর্স বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশ নেওয়াকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবাই কৃতী ও সেরা ছাত্র ছিলেন। আমার বিশ্বাস আপনারা যে কোনো ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মঠ আর যোগ্য নেতৃত্বে কিছুদিনের মধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কিন্তু এই ডিজিটাল যুগেও প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায় যে, ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে ছাত্রছাত্রীরা অবহেলা আর হয়রানির মুখোমুখি হন।’

রাষ্ট্রপ্রধান শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার, কাউন্সেলিং অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার এবং ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ইউনিট চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সেশনজট কমানোর উদ্যোগ হিসেবে লস রিকভারি প্ল্যান, গবেষণা-প্রকাশনা মেলা আয়োজন এবং স্টুডেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড সাপোর্ট ইউনিট চালু করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের নেতৃত্বের প্রতীক এবং ভাষা আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির প্রতিটি আন্দোলনের নিউক্লিয়াস হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিহিত করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

আবদুল হামিদ বলেন, এক সময়ের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। আর তা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। রাষ্ট্রপতি মনে করিয়ে দেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশকে নেতৃত্ব প্রদানকারী অনেক নেতাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় আলোকিত হয়েছেন।

তিনি স্নাতক ডিগ্রিধারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গ্র্যাজুয়েটরা যেন সমাবর্তন আর সার্টিফিকেটেই সীমাবদ্ধ না থাকেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখতে হবে। সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অধিকতর কার্যকর অবদান রাখবেন বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বক্তব্য দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, ঢাবির সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক, অতিথি এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail