Home Archives
Daily Archives

May 10, 2022

মুসা আল হাফিজ: প্রবল ঘৃণার চোখ দিয়ে ইসলামকে দেখার চেষ্টা কতটা উদ্ধত, তা আমরা বুঝতে পারি পশ্চিমা বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীর জবানিতে। রিচার্ড কোহেন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০ সালের ২ মে বিখ্যাত আর্থ টাইমসে নিজের কলামে তিনি লেখেন, ‘পৃথিবী দুই এলাকা। একটি সভ্যতার অপরটি বর্বরতার। প্রথমটি পশ্চিমা, দ্বিতীয়টি ইসলামী। প্রথমটি এনেছে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানুষের মুক্তি। দ্বিতীয়টি সব কল্যাণকে দেখিয়েছে রক্তচক্ষু।’ এ-জাতীয় ভাবনার চেনা ছক ধরা পড়েছে স্যামুয়েল পি হান্টিংটনের ভাষায়। তিনি জানান, ‘মানুষ প্রায়ই… আমাদের সভ্যতা ও বর্বরদের সভ্যতা ইত্যাদির নিরিখে ভাবতে ভালোবাসে’। গার্ট্রড বেল কোনো রাখটাক ছাড়াই মুসলিম সভ্যতাকে বর্বর প্রসঙ্গ হিসেবে অভিহিত করেন। কারণ ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ওরা কোনো জ্ঞান বহন করে আনেনি’। ফ্লোরা লুইস প্রকাশ করেছেন আরেকটি ‘গভীর’ কারণ ‘মুসলমানদের ব্যাপারে একটি মনস্তাত্ত্বিক বোধ কাজ করে যে ‘তারা কী নয়?’ মধ্যযুগ থেকে চলে আসা ইতিহাস বলবে- ‘তারা সভ্য মানুষ নয়’।

এসব ‘শতাব্দীর পর শতাব্দীর’ কিংবা ‘মধ্যযুগ থেকে চলে আসা ইতিহাস’ অতঃপর আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে চলে আসে। সত্যিই কি এ সময়টি মুসলিম বর্বরতার? সত্যিই কি মুসলমানরা কল্যাণকে দেখিয়েছে রক্তচক্ষু? সত্যিই কি ‘তারা কোনো জ্ঞান বহন করে আনেনি? সত্যিই কি তারা সভ্য মানুষ নয়? অধিপতি শ্রেণীর পশ্চিমা বুদ্ধিজীবিতা অসভ্যতাকে মুসলমানদের জন্য এবং জ্ঞান ও সভ্যতাকে পাশ্চাত্যের জন্য বরাদ্দ করতে চাইলেও বহু পশ্চিমা ঐতিহাসিক ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় স্বীকার করে নিয়েছেন প্রকৃত সত্য। তাদের বক্তব্যে নিহিত আছে ইসলামের মোকাবেলায় পাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠত্বের দাবির ঐতিহাসিক বিচার!

হিউলেট প্যাকার্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কালি ফিওরিনার দীর্ঘ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এহসানুল করিম তার বিখ্যাত Muslim history and civilization গ্রন্থে। ইসলাম ও ইসলামী সভ্যতা প্রসঙ্গে ফিউরিনার ভাষ্য, ‘সেটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও মহান সভ্যতা। এ সভ্যতা সফল হয়েছিল একটি আন্তঃমহাদেশীয় রাষ্ট্রাতীত রাষ্ট্র বা সুপার স্টেট প্রতিষ্ঠায়। এ দেশের বিস্তার ছিল এক মহাসাগর থেকে আরেক মহাসাগরের তটদেশ অবধি। উত্তরে শীতল আবহাওয়া থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চল ও মরু পর্যন্ত প্রসারিত। এ অতিকায় রাষ্ট্রের লাখো-কোটি মানুষের মধ্যে ছিল বহু বিশ্বাসের অস্তিত্ব। নরগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্যও ছিল প্রচুর।’

‘ইসলামের অন্যতম ভাষা শত শত দেশের নানা নরগোষ্ঠীর মধ্যে মিলনের সেতুবন্ধন হিসেবে বিশ্বের বৃহৎ অংশের মানুষের ভাষা হয়ে ওঠে। নানা জাতির লোক নিয়ে ইসলামী এই রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী গঠিত হয়। এ রাষ্ট্র এভাবেই তার নাগরিকদের জন্য যে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে, এর আগে কখনো মানুষের সে রকম স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা হয়নি। এ সভ্যতার নাগালে আসে ল্যাতিন আমেরিকা, চীন এবং এই দুই ভূখণ্ডের মধ্যে আরো যত দেশ আছে, সেগুলোও। এ সভ্যতা সবার আগে এগিয়ে যায় তার উদ্ভাবনী প্রতিভায়।’

‘নেতৃত্ব যদি হয় প্রজ্ঞাময়, নেতৃত্ব যদি হয় সংস্কৃতি ও স্থায়িত্বের ধারক, নেতৃত্ব যদি হয় বৈচিত্র্য ও সাহসের প্রতিভূ- সে নেতৃত্ব ইসলামের। এই ইসলাম সুদীর্ঘ ৮০০ বছর পৃথিবীকে দিয়েছে উদ্ভাবনী নেতৃত্ব, সমৃদ্ধ নেতৃত্ব।’

A history of the intellectual development of europe গ্রন্থে John William Draper দেখান পশ্চিমের বুদ্ধিবৃত্তিক নবজীবন লাভে ইসলামের ভূমিকা। তিনি লিখেন, ‘ইউরোপীয় সাহিত্য পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের প্রতি আমাদের মনোযোগ ও দায়িত্বকে এড়িয়ে যাচ্ছে। এর নিন্দা না করলেই নয়। সুনিশ্চিতভাবে বলতে পারি তাদেরকে আর আড়ালে রাখা সম্ভব নয়। ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ ও আমাদের আত্মপ্রচারের বুনিয়াদে প্রতিষ্ঠিত অবিচারকে আর যাই হোক চিরকালের মতো টিকিয়ে রাখা যাবে না। ইউরোপের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক ছাপ রেখে গেছে আরব ঐতিহ্য। আরবদের রেখে যাওয়া এ ছাপ মুছবে না কখনো। আমাদের অভিন্ন গ্রহের তারকারাজি যেভাবে অমোচনীয়, এটি তেমনই একটা কিছু। খলিফাদের শাসনামলে জ্ঞানী খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের কেবল পরম শ্রদ্ধার চোখেই দেখা হতো না, নানা গুরুত্ব ও দায়িত্বপূর্ণ পদেও তাদের নিয়োগ দেয়া হতো। তাদেরকে সরকারের শীর্ষ পদগুলোতেও পদোন্নতি দেয়া হতো।

কোনো জ্ঞানী বা বিদগ্ধ ব্যক্তির ব্যাপারে ভাবা হতো না- সে কোথা থেকে এলো? সে কোন ধর্মে বিশ্বাসী? কেবল দেখা হতো এ ব্যক্তি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পরীক্ষায় কতটা উত্তীর্ণ ও আলোকময়, এটিই ছিল একমাত্র বিচার্য বিষয়।

The Making of Humanity (1919) গ্রন্থে ফরাসি চিন্তাবিদ Robert Briffault-এর স্পষ্ট বয়ান, ‘ইউরোপ ক্রমে আঁধারে ডুবে যেতে যেতে বর্বরতায় পৌঁছে যায়। ইউরোপ যখন অজ্ঞতার অতলতলে পৌঁছায়, তখন মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন নগরী- বাগদাদ, কায়রো, কর্ডোভা ও টলেডোর মতো মেগাসিটি নাগরিক সভ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মচাঞ্চল্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। এসব অঞ্চলেই তখন নবজীবনের সঞ্চার হয়। আর সেই প্রেরণায় মানব সভ্যতার বিবর্তনের নতুন স্তর সূচিত হয়। যখন থেকে তাদের সংস্কৃতির প্রভাব অনুভূত হতে থাকে, তখন থেকেই শুরু হয় নতুন জীবনের স্পন্দন।

অক্সফোর্ড স্কুলে তাদের (মুসলিমদের) উত্তরাধিকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে রজার বেকন আরবি ভাষা ও আরবদের বিজ্ঞান শিক্ষা করেন। অথচ রজার বেকন যেমন নয়, তেমনি পরের এমন কেউই নেই, যাদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষণ পদ্ধতি প্রবর্তনের কৃতিত্ব দেয়া যায়। রজার বেকন ছিলেন খ্রিষ্টান ইউরোপের জন্য মুসলিম বিজ্ঞান ও পদ্ধতির অন্যতন অবতারসুলভ প্রতিনিধি। আর তিনি নিজে সমসাময়িকদের কাছে স্বীকার করতে কখনো দ্বিধা করেননি যে, আরবি ভাষা ও আরবীয় বিজ্ঞানই হলো সত্যিকারের জ্ঞানার্জনের উপায়।

‘আধুনিক বিশ্বের জন্য আরবদের সবচেয়ে কালজয়ী অবদানের নাম বিজ্ঞান। তবে এর সুফল ফলতে দেরি হয়। ম্যুর সভ্যতা আবার আঁধারে ডুবে যাওয়ার বহুকাল পরে সেই ঘুমিয়ে পড়া বিশাল শক্তি আপন শক্তিতে নিজস্ব সম্ভাবনার পুনর্জন্ম ঘটায়। শুধু বিজ্ঞানই মৃত ইউরোপকে পুনরুজ্জীবিত করল, তা নয়। ইসলামী সভ্যতার আরো বহু প্রভাব ইউরোপীয় জীবনের আকাশকে প্রথমবার আলোকিত করেছে।’

Edgar Swain-এর বিখ্যাত A history of world civilization আমাদেরকে জানায় তার পর্যবেক্ষণ। তিনি লিখেন, ‘মুসলিম সভ্যতা ছিল সংমিশ্রিত সভ্যতা। তা বিলীয়মান ভারতীয়, বাইজেন্টাইন, পারসিক ও মিসরীয় সভ্যতা থেকে ভাবনা-চিন্তা আহরণ করেছিল। এসব সভ্যতায় এর আগে যে কাজ শুরু হয়েছিল, মুসলমানরা তা অব্যাহত রাখেন এবং রেনেসাঁর গোড়াপত্তনের সহায়ক শক্তি হিসেবে পাশ্চাত্য জনগণের কাছে তা পৌঁছে দেন। পাশ্চাত্যের চিকিৎসা, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও শিল্পকলা ব্যাপকভাবে আরবি জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

এডগার সোওয়াইনের মন্তব্য পুরো সত্যকে প্রকাশ করছে না। আরবদের কেবল পুরনো জ্ঞানের বাহক বলে চিত্রিত করছে। তবে তার অনিচ্ছুক মনকেও স্বীকার করতে হয়েছে আরবি জ্ঞানের ওপর পাশ্চাত্যের ব্যাপক নির্ভরতার কথা। কিন্তু বিষয়টি কি আসলে এতটুকুই? কেবলই আরবরা প্রাচীন জ্ঞানের বাহক ছিলেন? আধুনিক জাগরণের সহায়ক ছিলেন? ভারতীয় প্রাজ্ঞজন জওয়াহেরলাল নেহরুর Glimpses of world history-এ প্রশ্নের জবাব পেতে আমাদের সাহায্য করবে। পূর্ববর্তী সভ্যতাগুলোর চেয়ে আরবদের জ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরবদের জনক ভূমিকার বর্ণনা দেন নেহরু। লিখেন, ‘প্রাচীন মিসর, চীন কিংবা ভারতে আমরা সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক রীতি-পদ্ধতি দেখতে পাই না। প্রাচীন গ্রিসে মাত্র এর সামান্য উপস্থিতি দেখা যায়। পুনর্বার এর অনুপস্থিতিই চোখে পড়ে। কিন্তু আরবদের এই বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান-স্পৃহা প্রবল ছিল। সুতরাং তাদেরকেই আধুনিক বিজ্ঞানের জনক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।’

বিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ ছিল না এ ভূমিকা। ইউরোপের ওপর আরবদের প্রভাব ছিল সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামগ্রিক। আরব সভ্যতা তার সামগ্রিক ঔজ্জ্বল্য ও প্রাণশক্তি দিয়ে ইউরোপকে নিজের দিকে টানছিল এবং জীবনীশক্তি সরবরাহ করছিল। ইউরোপের ভেতরে সে ছিল প্রধান এক সভ্যতা, আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। খ্রিষ্টীয় ইউরোপে এ প্রভাবের প্রধান কারণ বলে যা বিবেচিত হতো, তা হলো সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নানামুখী পরিবর্তন, যাকে শুধু বৈপ্লবিক বলেই আখ্যায়িত করা যায়। স্পেন ও সিসিলির পথ ধরে ইউরোপময় ছড়াতে থাকে সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লবের ভ্রুণ।

একান্তই মুসলিম উপাদানে উজ্জীবিত এ বিপ্লব ছিল তীব্র ও ব্যাপক; যা বদলে দিয়েছিল বিশ্বের ইতিহাস। চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তির এই নতুন জোয়ার নিয়ে ইসলাম মানবমন ও ইউরোপের নিয়তিকে যে জায়গায় নিয়ে গেল, সেখান থেকে জন্ম নিলো নতুন এক পৃথিবী। এইচ জি ওয়েলস দেখিয়েছেন, ‘মেধার বিস্তার ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণে মুসলিম সভ্যতা সমকালীন ও পূর্ববর্তী অন্যান্য সভ্যতাকে পেছনে ফেলেছিল, এমনকি এ ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের বহুল প্রশংসিত গ্রিক সভ্যতাও আরবদের তুল্য হতে পারেনি।’

এটিই ছিল রেনেসাঁর মূল। এরই প্রভাবে জন্ম নিয়েছিল নতুন পৃথিবী। জ্ঞানে, কর্মে, শিল্পে ও সাহিত্যে প্রাণময় ইউরোপ। যার সূচনাবিন্দু ধরে নেয়া হয় চতুর্দশ শতকে ইতালিতে, বিস্তৃতি ষোড়শ শতক অবধি। ইংল্যান্ডে এর শুরু ১৫ শতকের প্রথম পাদে। প্রাচীন গ্রিক ও ল্যাটিন সাহিত্য শিল্পের পুনরুত্থানের কারণেই এ জাগরণ- এমনই দাবি উচ্চারিত হয় অবিরাম। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ‘পঞ্চদশ শতাব্দীতে নয়, প্রকৃত রেনেসাঁসের উদ্ভব ঘটেছিল আরব ও মূর-সংস্কৃতির প্রভাবের ফলেই। ইতালি নয়, স্পেনই ছিল ইউরোপের পুনর্জন্মের সূতিকাগৃহ’। ‘এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, আরবরা ব্যতীত আধুনিক সভ্যতাসূর্য আদৌ উদিত হতো না। এটি নিরঙ্কুশভাবে নিশ্চিত যে, তারা ছাড়া ইউরোপ বিবর্তনের অতীত সব পর্যায় অতিক্রমে সক্ষম দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী হতে পারত না। তবুও ইউরোপীয় উন্নতির এমন একটিও দিক নেই, যেখানে ইসলামী সংস্কৃতির নিশ্চিত প্রভাব দৃশ্যমান নয়। অন্য কোথাও তা এমন জাজ্বল্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ নয়, যেমনটি ঘটেছে সেই শক্তির উৎপত্তিতে, যা আধুনিক বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত ও এর চূড়ান্ত বিজয়ের উৎসকে নির্মাণ করে। এ শক্তি হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক চেতনা।’

ইসলামের প্রভাব শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞানকেন্দ্রিক ছিল না, ছিল সর্বমাত্রিক; সামাজিক-সাংস্কৃতিক, জীবনদৃষ্টিগত। যার কেন্দ্রে ছিল উদার মানবিকতা। মুসলিমরা বিজয় অর্জনের পর কেমন আচরণ করতেন খ্রিষ্টানদের সাথে? ‘ছিঁড়ে কুটি কুটি করার যে অভিযোগ, তারই বা বাস্তবতা কতটুকু? এ অভিযোগের সারবত্তাকে নাকচ করে দেন সি এইচ বেকার। এহসানুল করিম তার Muslim history and civilization-এ হাজির করেন বেকারের জবানি। বেকার লিখেন, ‘আমরা যদি ইসলামের বিজেতাদের নির্বিকারচিত্ততার কথা মনে রাখি, তা হলে একটি ধারণার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল হয়ে ওঠে। সেটি ইসলামী রাষ্ট্রে খ্রিষ্টানদের মর্যাদার ধারণা। ইসলামী রাষ্ট্র বা উম্মাহর আওতায় খ্রিষ্টানরা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ, এমনকি উজিরের পদ পর্যন্ত পেয়েছে। সে জন্য তাকে তার ধর্মবিশ্বাস বিসর্জন দিতে হয়নি। এমনকি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যখন খ্রিষ্টানদের ধর্মযুদ্ধ চলছে, যখন ধর্মীয় বিরোধিতা প্রবল ও তীব্র হয়ে উঠেছে খোদ খ্রিষ্টানদের নিজেদের নীতির কারণে, তখনো ইসলামী রাষ্ট্রে খ্রিষ্টান কর্মকর্তাদের সচরাচর সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে, এটি আশার অধিক। তবু এ ধারণার পরও বলা যায়, মুসলিম বিজেতা ও তাদের উত্তরাধিকারীরা খ্রিষ্টান ধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মান্ধ ঘৃণার পথ অনুসরণ করেছে, এ তত্ত্ব খ্রিষ্টানদেরই আবিষ্কার করা কল্পকাহিনী মাত্র।

ফরাসি বহুবিদ্যাবিশারদ Gustave Le Bon-এর জবানিতে একই সত্যের উচ্চারণ আমরা শুনি। মুসলিম সভ্যতার বিশ্লেষণে তার La Civilisation des Arabes (1884) বিশ্ববিখ্যাত। পরে ইংরেজিতে গ্রন্থটি অনূদিত The World of Islamic Civilization নামে। বইটি জানায়, মুসলিমদের বহুমাত্রিক প্রভাবের বিবৃতি। গুস্তাব লিখেন-

‘ইসলামের আবির্ভাবের মাত্র একটি শতাব্দীকালের মধ্যে ইসলামশাসিত সব অঞ্চলেই বিস্ময়কর সমৃদ্ধি সাধিত হয়েছিল। এই সর্বব্যাপী সমৃদ্ধির কারণ ইসলাম নিজেই; কারণ তার অবিনাশী অম্লান, মঙ্গলময় আদর্শ। এর অন্তর্নিহিত বিশ্বাসের কুসুমরাজি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের স্বাভাবিকতার সাথে সম্পূর্ণ একই সুতায় গাঁথা। এ বিশ্বাসের সারনির্যাস আমাদের চরিত্রকে সুন্দরভাবে নির্মাণ করে, আমাদের কাজকর্মে মমতার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং আমাদের বিশ্বাস, ধর্ম ও বিধিব্যবস্থার প্রতি সহনশীল হতে আদেশ দেয়।’

এই যদি হয় সত্য, তবে যে সব খ্যাতিমান ঐতিহাসিক, বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক ইসলাম ও মুসলিম সভ্যতাকে অভিশাপ, উন্মত্ততা ও বর্বরতার জমি বলে চিত্রিত করলেন, তাদের বক্তব্যের কী তাৎপর্য? স্যার এম এন রায় এর মতে, সেটি এক ‘হীন মতবাদ’ এবং তা বস্তুনিষ্ঠতার দিক থেকে ‘রূপকথার মালা’ মাত্র। বিখ্যাত The Historical Role Of Islam : An Essay On Islamic Culture গ্রন্থে তিনি লিখেন, ‘আজ শিক্ষিত বিশ্ব এই হীন মতবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে, ইসলামের উত্থান ছিল সদাচারি ও ধৈর্যশীল মানুষদের ওপর ধর্মোন্মত্ততার বিজয়।’

তার স্পষ্ট উচ্চারণ- ‘ইতিহাসের পক্ষপাতহীন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা যখন গাঁজাখুরি রূপকথার মালাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করছে, বিদ্বেষপরায়ণ গালগল্পগুলোকে মসিলিপ্ত করছে, তখন ইসলামের উত্থান দৃঢ় ভিত্তি পাচ্ছে মানবজাতির জন্য অভিশাপ হিসেবে নয়, পরম আশীর্বাদ হিসেবেই।

এতক্ষণ আমরা যে সব ভাষ্য পেশ করলাম, তা এক কথায় আধুনিক সভ্যতার মৌলিক অর্জনগুলোর জনক হিসেবে মুসলিমদের ঋণ স্বীকার করেছে। বিশেষত সামাজিক সৌহার্দ্য, ধর্মীয় সহনশীলতা, জ্ঞান-গবেষণা, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, আইনের শাসন ও মানবীয় মহত্বের প্রাণশক্তি দিয়ে অন্ধকার ইউরোপকে তারা আলোকিত করেন। তারা জ্ঞানের বাহক ও প্রজ্ঞার ধারক হিসেবে বিশ্বকে পথপ্রদর্শন করেছেন। তারা ফেরি করেছেন সভ্যতা। সভ্যতার প্রতিটি উপাদানকে প্রদীপ্ত করার কাজ করেছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে। তাদের হাত ধরে ইউরোপ ‘এজ অব ডার্কনেস’ থেকে পায় উত্তরণ।

লেখক : কবি, গবেষক

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

মঙ্গলবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সামনে রেখে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

এনআইডি পাওয়া জন্য মানুষের উৎসাহ আছে,  কিন্তু ভোটের মাঠে কেন মানুষ যায় না— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আমাদের দায়িত্ব ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। আমাদের কর্মীরা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে মাঠে যাবে। আপনি যেই প্রশ্নটা করেছেন, সেই প্রশ্নের কোনো মন্তব্যই আমি করব না।

ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে যে আলোচনা হচ্ছে সেটি নিয়ে কী করবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সেটি নিয়ে পত্রিকায় আসছে এবং আমাদের বক্তব্যগুলো আপনাদেরকে জানানো হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠান করার দায়িত্ব আমাদের। হয়তো আপনারা বলতে পারেন যে, প্রধানমন্ত্রী একটি বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জন থেকে বক্তব্য আসতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নাকি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেছেন বিষয়টি এখনও স্পষ্ট না। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলা, বিএনপির প্রধান বলা, জাসদের আবদুর রব বলা এগুলো ভিন্ন জিনিস।

সিইসি বলেন, সব থেকে বড় কথা যেটি স্পষ্ট করে বলতে চাচ্ছি, অনেকে ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন, সদিচ্ছা ব্যক্ত করতে পারেন আর ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আমরা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। ইতোমধ্যে আমরা নিজেরা অনেকগুলো সভা করেছি, আগামীতে আরও সভা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে আমাদের। ভোট স্বাধীনভাবে আমরা পরিচালনা করব যতদূর সম্ভব। এটা আমাদের এখতিয়ারভূক্ত, ভোটের পদ্ধতিও আমাদের এখতিয়ারভূক্ত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত আমাদের ওপরই থাকবে। মতামত আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। আপনিও মতামত দিতে পারেন, রাস্তায় কেউ মতামত দিতে পারেন, রাজনৈতিক দলগুলো মতামত দিতে পারবেন। আল্টিমেটলি আমরা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব ভোট কোন পদ্ধতি ও কেমন হবে। সেটি আমাদের বিষয়। এই বিষয়ে আমরা স্বাধীন।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সব আসনে ইভিএমে ভোট করার মত এখন আমাদের সামর্থ্য নেই। ৩০০ আসনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা এখনও নেইনি। ভোট ব্যালটে হবে না ইভিএমে, কতটি আসনে ইভিএমে হবে এই বিষয়ে কমিশন এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের শুদ্ধ ও সিদ্ধভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, শুদ্ধ ও সঠিক ভোটার তালিকা ছাড়া প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন সম্ভব নয়।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যুগান্তর

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: মানব জমিন:: শ্রীলঙ্কায় সামরিক বাহিনী ও পুলিশের হাতে জরুরি ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে। এই ক্ষমতার ফলে তারা যেকোনো লোককে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করতে পারবে। সোমবার সহিংসতায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ২০০ লোক আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। সহিংসতার কারণে প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তবে তার পদত্যাগেও সহিংসতা বন্ধ হয়নি। ক্ষুব্ধ জনতা তারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী হেনস্থার শিকারও হয়েছেন। বিক্ষোভকারীর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসের পদত্যাগ দাবি করছে।

ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন রাজাপাকসে!
শ্রীলঙ্কার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপাকসে প্রাণ বাঁচাতে ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোররাতে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে তার বাসভবন থেকে সরিয়ে নেয় সেনাবাহিনী। তবে বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোতে নতুন করে সহিংসতা না হলেও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রাজাপাকসার বাসভবনে হামলা
মঙ্গলবার সকালে রাজপাকসের সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেলে বিক্ষোভকারীরা। তারা কলম্বোর টেম্পল ট্রিজ নামের বাসভবনের মূল দোতলা ভবনে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিল। রাজাপাকসে ও তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য রাজপাকসের বাসভবনে পৌঁছে সপরিবার তাকে উদ্ধার করে। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভোরেই সপরিবার রাজাপাকসেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে খোলসা করেননি তিনি। যদিও সূত্রের খবর, ত্রিঙ্কোমালিতে নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন রাজাপাকসে।

এর আগে জনতা হাম্বানতোতায় রাজাপাকসাদের পৈত্রিক বাসভবনটি জ্বালিয়ে দেয়।

ঠিকমতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হলে এই ঘটনা ঘটত না : অর্জুন রানাতুঙ্গা
শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার অর্জুন রানাতুঙ্গে বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন মানুষ। কিন্তু তাদের ওপর যেভাবে আক্রমণ করা হলো তা অপ্রত্যাশিত। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। বিভোক্ষকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেনি। যদি ঠিক মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হতো, তা হলে এই ঘটনা ঘটত না।

থমথমে কলম্বো
সোমবারে ঘটনার পর থেকেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানী কলম্বোতে। ওই দিন কারফিউ উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমেছিল হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। দোকান, বাড়ি, সরকারি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। হামলা চালানো হয় সরকারপক্ষের এমপি এবং নেতাদের বাড়িতে।

এদিকে বিক্ষোভকারী এবং শ্রীলঙ্কার ধর্মীয় নেতারা রাজাপাকসের পরিবারের সমর্থকদের বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য উস্কানি দেয়ার জন্য দোষারোপ করেন। তারা বলেন, ওই হামলার জন্যই প্রতিশোধমূলক হামলার জন্ম নিয়েছে।

বাড়িতে আগুন এবং গুলি
সোমবার দিনভর বিক্ষোভের পর রাত গভীর হতে থাকলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সরকার সমর্থক এবং সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করেন।

শ্রীলঙ্কার পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কলম্বোর উপকণ্ঠে একজন সরকার দলীয় এমপি অমরাকীর্তি আথুকোরালার গাড়িতে হামলা চালালে তিনি দুজনকে গুলি করেন। এতে একজন মারা যান।

এরপর সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই সংসদ সদস্য।

রাত বাড়ার সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজাপাকসের বাড়িতে, বিভিন্ন মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মন্ত্রী সানাৎ নিশান্তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যে হাম্বানটোটায় রাজাপাকসের পরিবারের নিজস্ব একটি বাড়ি যা একটি বিতর্কিত জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়েছিল, সেটিও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বাড়িগুলো ঘিরে আগুনের লেলিহান শিখা ঘিরে মানুষজন উল্লাস করছে।

প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের চারপাশের এলাকাতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিবিসির আনবারাসন এথিরাজন জানাচ্ছেন, কলম্বোজুড়ে উত্তেজনা চলছে। দেশটির বিমানবন্দরে যাওয়া এবং আসার সড়কগুলোতে লাঠি এবং রড নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে ওই রাস্তাগুলোতে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যেমন উপস্থিতি দেখা যায়, এখন তা দেখা যাচ্ছে না।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট পাড় করছে শ্রীলঙ্কা। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ব্যাপক ক্ষুব্ধ। সরকার জরুরি আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য কোভিডকে দায়ী করেছে সরকার, মহামারিতে দেশটির পর্যটন বাণিজ্য যা শ্রীলঙ্কার অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক আয়ের উৎস, তা প্রায় ধসিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করেন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাই এর অন্যতম কারণ।

সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি, আনন্দবাজার পত্রিকা

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail