Home Archives
Monthly Archives

April 2022

ঢাকা: নানা নাটকীয়তার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পরামর্শে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এ বিষয়ে অফিসিয়াল নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। এর আগে ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীরা পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে। তা ভোটে দেয়া নিয়ে কয়েকবার বিলম্ব করে পার্লামেন্ট। অবশেষে আজ রোববার ছিল পার্লামেন্টে ইমরান খানের ভাগ্য নির্ধারণী দিন। এদিন ওই প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা ছিল পার্লামেন্টে।

আর তা হলে ইমরানের ক্ষমতা হারানোর সমুহ আশঙ্কা ছিল। কারণ, অনাস্থা প্রস্তাব পাস হতে বিরোধীদের প্রয়োজন ছিল ১৭২ টি আসনের সমর্থন। কিন্তু তাদের হাতে জমা ছিল ১৯৯টি আসনের সমর্থন। ফলে ভোট হলে বিরোধীরা জিতে যেতেন। ক্ষমতা হারাতেন ইমরান খান। কিন্তু এই প্রস্তাবকে পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করে প্রস্তাবকে খারিজ করে দেন। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী বিস্ময়করভাবে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলফিকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার পরামর্শ দেন।
জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি বলেছেন, এই অনাস্থা প্রস্তাব সংবিধানের ৫ ধারা অনুযায়ী অসঙ্গতিপূর্ণ, সাংঘর্ষিক। এর কিছুক্ষণ পরেই জাতীয় পরিষদ বা পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করতে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিকে পরামর্শ দেন ইমরান। আজ রোববার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান বলে খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। ওদিকে তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পরিষদে ভোটের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু কোনো কোনো মাধ্যমে বলা হচ্ছে, এতে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি সেখানে ছিলেন না। সর্বশেষ খবরে বলা হচ্ছে, ইমরান খান এ সময়ে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী হাউজে। বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে তিনি সেখানেই থাকবেন। ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরির সভাপতিত্বে নিম্নকক্ষে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয় । অনলাইন ডন বলছে, ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরির সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে তা গুটিয়ে ফেলা হয়। এতে তিনি অনাস্থা প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করেন। এর ফলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ইমরান খান। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ডেপুটি স্পিকার শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তনে বিদেশি ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আরও জানান বহু মানুষ উদ্বেগে ছিলেন। তারা তাকে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, জাতির সামনে বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে। ইমরান বলেনÑ আমি তাদেরকে বলেছিÑ ঘাবরানা নাহি হ্যায়। ঘাবড়িও না। পাকিস্তানের দিকে দৃষ্টি আছে আল্লাহর। ইমরান খান আরও বলেন, তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেন। গণতান্ত্রিক ব্যক্তিদের উচিত জনগণের কাছে যাওয়া এবং নির্বাচন করা। তখন জনগণই সিদ্ধান্ত জানাবে কাকে ক্ষমতায় চায় তারা। মানব জমিন

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করেছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের স্পিকার। অনাস্থা প্রস্তাবটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। খবর ডনের।

রোবাবর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাশিম খান সুরি। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশনও মুলতবি করেছেন। খবর ডনের।

এ ঘটনার পর জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টারও বেশি সময় দেরিতে শুরু হয় অধিবেশন। অনাস্থা প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে সরাসরি তা খারিজ করে দেন ডেপুটি স্পিকার।

অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের পর আপাতত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ রক্ষা করলেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান।

গত ৮ মার্চ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয় বিরোধী দলগুলো। ওই প্রস্তাবের ওপর পরের ৯ মার্চ ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় পরিষদের একজন সদস্যের মৃত্যুর কারণে ২৮ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবির ঘোষণা দেন স্পিকার আসাদ কায়সার।

এর পর ২৮ মার্চ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর ৩১ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করেন ডেপুটি স্পিকার কাশেম খান সুরি।

পূর্ব নির্ধারিত ৩১ মার্চ অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার তা ৩ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখেন।

অনাস্থা প্রস্তাব আনার পর ইমরান খান বারবার বলেছেন, ‘পরিস্থিতি যাই হোক, আমি পদত্যাগ করব না। আমি শেষ বল পর্যন্ত খেলব। আমি অনাস্থা ভোটের একদিন আগে তাদের চমকে দেব।’

৩৪২ সদস্যের জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ইমরান খানকে ১৭২ জনের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। তার দল পিটিআইয়ের সদস্য সংখ্যা ১৫৫। তবে দলের কয়েকজন সদস্য এবং জোট শরিকরা ইমরানের পক্ষ ত্যাগ করায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারতে হয় তাকে।

আজকে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে ইমরানে বিরুদ্ধে ১৭৬ সদস্য ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম ডন।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ঢাকা: আল্লাহর জমিনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক আন্দোলনের নির্ভিক সংগ্রামী সিপাহসালার খেলাফত মজলিসের সাবেক নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন রহ. এর চিরবিদায়ের এক বছর অতিক্রম হচ্ছে আজ- ৩ এপ্রিল। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে গত বছর (২০২১) ৩ এপ্রিল রাত ২টায় রাজধানীর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে প্রায় ২ সপ্তাহ যাবৎ তিনি প্রথমে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় ও পরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও আলেম সমাজ ও ইসলামী অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর খবরে ব্যথিত সবাই। সকাল বেলা তাকে শেষ বারের মত দেখতে ও জানজায় মরীক হতে সেগুন বাগিচায় ছুটে আসেন দেশের প্রায় সকল ইসলামী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা। ৩ এপ্রিল সকাল ১০টায় সেগুনবাগিচা জামে মসজিদে জানাজা শেষে মরহুমের লাশ দাফনের উদ্দেশ্যে তাঁর গ্রামের বাড়ী সুনামগঞ্জের ছাতকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জন্মস্থান ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জের দিঘলবাগে পারিবারিক গোরস্তানে চির নিদ্রায় শায়িত হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ১ মেয়ে রেখে যান।
বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের অগ্রগতিতে এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠাল লক্ষ্যে উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবিদের সমন্বিত ধারা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। রাজপথের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তিনি সদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সক্রীয় ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক আন্দোলনের একজন সক্রিয় ও যোগ্য নেতা, রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন।
মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন ১৯৬২ সালের ১ মার্চ হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দিগলবাগ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাফিজ আবদুল কাইউম। পিতা-মাতার ৪র্থ সন্তান মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন স্থানীয় শিবনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। পরে স্থানীয় সৎপুর মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলীম পাশ করেন ও সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করেন। এরপর সিলেট এমসি কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি স্কুল জীবন থেকেই ইসলামী সংগঠনের কাজে সক্রীয় ভূমিকা রাখেন। ছাত্র সংগঠনে থাকা অবস্থায় সুনামগঞ্জ জেলা, সিলেট জেলা ও কেন্দ্রীয় সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষকরে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন। ছাত্র জীবন শেষে তিনি খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি ও পরে ২০০৫-২০২০ সাল পর্যন্ত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর নির্বাচিত হন। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। দেশের বহু শীর্ষ আলেম যেমন হযরত হাফিজ্জি হুজুর রহ. থেকে শুরু করে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক রহ., মাওলানা আবদুল গাফফার রহ.-সহ সর্বশেষ আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. ও আল্লামা জোনায়েদ বাবুনগরী রহ. পর্যন্ত এদেশের অনেক শীর্ষ উলামাদের সাথে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের জীবনে তিনি জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হন।তিনি ছিলেন একজন সাহসী সংগ্রামী।
মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন একজন স্পষ্টবাদী মানুষ ছিলেন। নিয়ম-শৃঙ্খলা সংরক্ষণে বিশেষকরে সাংগঠনিক পরিবেশ সংরক্ষণে তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। যেকোন সংকটকালে, সংকট উত্তরণে তিনি দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন।
মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন পেশাগত জীবনে একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি বার্ড ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলেস এর অন্যতম সত্ত¡াধারী ছিলেন। তিনি ছাতকের নিজ এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পেশাগত ও সাংগঠনিক কারণে তিনি সৌদি আবর, ইরান, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমীরাত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ভারতসহ বহু দেশ ভ্রমণ করেন।
আল্লাহ তায়ালা মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিনকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। তাঁর আজীবন লালিত স্বপ্ন-আল্লাহর জমিনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন পৌঁছুক কাঙ্খিত মঞ্জিলে। আমীন।
– অধ্যাপক মোঃ আবদুল জলিল
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকা: বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল রোববার থেকে ১৪৪৩ হিজরি সনের রমজান মাস শুরু হবে। শনিবার রাতে তারাবিহ’র নামাজ আদায় ও শেষ রাতে সেহেরি খেয়ে রোববার প্রথম দিনের রোজা পালন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। ওদিকে শনিবার থেকেই মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমজান শুরু হয়েছে। গত বছর করোনার কারণে দেশের মসজিদগুলোতে সর্বোচ্চ ২০ জন তারাবিহ’র নামাজে অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে এবার আর কোনো ধরণের বিধি নিষেধ নেই।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail

ঢাকাঃ খাদ্য, তেল ও বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকটের প্রতিবাদে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের বাসভবনের ব্যাপক বিক্ষোভের পর কারফিউ জারি করেছে দেশটির পুলিশ।

বিক্ষোভকালে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে।

প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এ ঘটনাকে ‘চরমপন্থীদের কাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

শ্রীলঙ্কায় এখন বৈদেশিক মুদ্রার চরম সংকট চলছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলছে।

দিনে তের ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ না থাকা, তেল, খাদ্য পণ্য ও ঔষধ সংকটের কারণে দেশটিতে জন অসন্তোষ চরমে উঠেছে।

তবে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনের প্রতিবাদ কর্মসূচিটি শুরুতে শান্তিপূর্ণই ছিল বলে বিক্ষোভকারীরা বলেছেন।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জল কামান নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিচার্জ শুরু করলে সেটি সহিংসতায় রূপ নেয়।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়ে।

শুক্রবার সকালেও পুলিশ ৪৫ জনকে আটক করেছে।

এ বিক্ষোভকে একটি বড় ধরনের সরকার বিরোধী মনোভাবে বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও ২০১৯ সালে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মিস্টার রাজাপাকসে। তিনি তখন স্থিতিশীলতা ও দৃঢ়ভাবে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে সমালোচকরা এ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন।

কারণ প্রেসিডেন্টের ভাই ও ভাতিজারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আছেন। এটিকেই দেশটির বর্তমান অবস্থার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বলছেন অনেকে।

এখন খবর বেরিয়েছে যে দেশজুড়ে মানুষ বিদ্যুৎ না পেলেও প্রেসিডেন্ট আর তার মন্ত্রীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও সম্পদশালী, যা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সরকার অবশ্য বলছে যে করোনা মহামারির কারণে পর্যটন খাত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া ২০১৯ সালে চার্চগুলোতে সিরিজ হামলার ঘটনাও পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংকটের শুরু অনেক আগে থেকেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জায়াদেবা উয়ানগোদা বিবিসিকে বলেছেন যে কয়েক দশক ধরেই ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং কেউ এর দায় নেয়নি।

“তবে অবশ্যই বর্তমান সরকারের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অদক্ষতাই এর জন্য সরাসরি দায়ী,” বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ভিএ ভিজেওয়ার্দানা বলেছেন, ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর শ্রীলংকা কিছু মৌলিক ভুল করেছে।

“২০০০ সালে জিডিপির ৩৩ শতাংশ আসতো রপ্তানি থেকে। যেটা এখন বার শতাংশে নেমে এসেছে,” বলছিলেন তিনি।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কান রুপির অবনমন না করাতেও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে যায়।

প্রচুর খাদ্যসামগ্রী আমদানি করতে হয় শ্রীলঙ্কাকে।
শ্রীলঙ্কাকে প্রচুর খাদ্যসামগ্রী আমদানি করতে হয়।

২০১৯ সালের শেষের দিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলারের মতো থাকলেও এখন তা দুই বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য আছে মাত্র তিনশ মিলিয়ন ডলার।

এমনকি আমদানিনির্ভর দেশটির জন্য এখন বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীল প্রবাহও নেই।

শ্রীলঙ্কার হাতে এখন আর তেলের মতো জরুরি দরকারি পণ্য কেনার মতো পর্যাপ্ত ডলার নেই।

এর ফলে আরো বেশি সময় ধরেই সেখানকার মানুষজনকে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল না। সামনের দিনগুলোতে এটি ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।

ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।

তেলের পাম্পগুলোতে লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। এমনকি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানের সামনেও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন।

গত সপ্তাহে এসব লাইনে দাঁড়িয়ে পাঁচ জন বয়স্ক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পাশাপাশি সারাদেশ থেকেই খাদ্য ও ঔষধ সংকটের খবর আসছে।

0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail
মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার দাবীতে রাজধানীতে খেলাফত মজলিসের মিছিল
ঢাকা, ১ এপ্রিল ২০২২: খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় নিত্যপয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সকল নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। অশ্লীলতা বেহায়াপনা, মদ, জুয়া, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে পানাহার পরিহার করতে হবে। রমজান মাসে ট্রাফিক জ্যাম বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সরবরাহ নির্বিঘœ করতে হবে। আসন্ন মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার দাবীতে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আজ ১ এপ্রিল শুকবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম তুহিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল। ছাত্র মজলিসের সেক্রেটারী জেনারেল বিলাল আহমদ চৌধুরী, শ্রমিক মজলিসের সহসভাপতি আমীর আলী হাওলাদার, মুফতি মাইনুদ্দিন, এডভোকেট এনায়েত রাব্বী প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক মজলিস সভাপতি হাজী নূর হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহসভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন, এইচএম হুমায়ুন কবির আজাদ, কাজী আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া প্রমুখ। মাহে রমজান উপলকে।ষ রচিত সঙ্গীত পরিবশন করে দাবানল শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যবৃন্দ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, দ্রব্যম্যূল্যের উদ্ধগতিতে জনগণের নাভিশ্বআস উঠেছে। মাহে রমাজানে রোজাদারদের কষ্ট হয়, রোজার পবিত্র নষ্ট হয়- এ ধরনের সকল কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে।
সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে কদম ফোয়ারা, পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কির সামনে এসে শেষ হয়।
0 comment
0 FacebookTwitterPinterestEmail